মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৩

বিরহের কবিতা - ১



১.

ডিমেনশিয়া 

এখন আমার অনেককিছুই মনে থাকে না

ঝাপসা সে চোখের মায়া, ঝাপসা সে মুখ

তিলগুলো যেন কোথায় কোথায়

মনে পড়েও পড়েই না যেন!


বুকের কোথায় যেন দাগ হয়েছিল

কোথায় যেন বাঁধ ভেঙ্গেছিল

উপর না নীচ কতোটা ফুলেছিল

রক্ত গড়িয়েছিল ঠোঁটের কোন্ কোন থেকেও

সব কিছুই মনে করতে পারি না।


ভদ্রলোকেরা তো জোর করেই ভুলে থাকে

ঐশীগ্রন্থ মাথায় নিয়েও কতো

অবলীলায় নিখুঁত করে মিথ্যে বলে

সচল রাখতে বর্তমান করবেই বা কী!

চারপাশ ঘিরে এতো অস্থিরতায়

প্রায়ই বোধ হারায় মানুষ।


আমি আবার অমন না, এইখানেতেই

অন্যদের চেয়ে চালাক বোধয়

কেমন করে মুঠোফোনের সংখ্যা ভুলেছি

ভুলেছি অসামান্য কতোকিছুর দিনক্ষণ

কেমন করে, কিভাবে যেন, মনে নেই!


আমি একটু কেমন যেন

এক থেকে দশে থাকি না, একেবারেই নিরানব্বই

আর এক হলে একশো হতো

আর এক মিলতে মিলতে মেলেই না শেষে

একদিন নিভে গেলে একশো বিয়োগ একশো

ফের শূণ্য হতো, অথবা প্রকৃতির খেয়ালে

ফের মনু বা আদম হতো।


এখন আমার অনেককিছুই মনে থাকে না

কিছু মানুষ কেনো যে তাও

হঠাৎ হঠাৎ তোমার কথা বলে!



২.

ভালোই আছো

বেশ তো ভালোই আছো

দিন কি রাত রুটিন করে ক্রাশ খাচ্ছো

চার রঙে ছবি ছড়াচ্ছো নেট দুনিয়ায়

রিঅ্যাক্ট আর কমেন্টের মরীচিকায়

মাগজিক শ্রমে ঝড়াচ্ছো ঘাম

নিয়ে ভরপুর ব্যস্ততা।


আধুনিক মানুষিকতা মানুষের চেয়ে

যন্ত্র ভালোবাসে বেশি

কান্না-হাসি-শিৎকারের মতো প্রাকৃতিক

আওয়াজ কি ভঙ্গিতেও আনে আধুনিকতা।


কেমন সেকেলে ভেতর-বাহির নিয়ে

বিপরীত লিঙ্গের প্রতি দু'পলক তাকাতেও

কেমন যেনো ঠকবাজ লাগে নিজেকে।

চলন্ত ছবির মতো ভেসে ওঠো কেবল

মন বলে ওঠে, তুমিই সুন্দর।


বেশ তো ভালোই আছো,

'ভালো আছো' ভাবতেও ভালো লাগে।



৩.

উড়ো কথা 

ফিরে গেলে শুনি, তুমি এসেছিলে।

মাঝে মাঝেই নাকি আসো এদিকে?

কোথায় কোথায় যাও,

সঙ্গে কে কে থাকে?

রিক্সা পছন্দের বাহন ছিলো,

এখনো কি তাই?

আমার হাত ধরে চিনেছিলে যে শহর

ভোর-বিকেলের স্নিগ্ধ প্রতিবেশ

সকাল-সন্ধ্যার ব্যস্ততা, ভীড়, জ্যাম

ঢিলেঢালা জামার মতো ফ্রি-স্টাইল দুপুর 

নিয়ন আর সোডিয়াম আলোয় মোহনীয় রাত

এখনো তেমনি বরং জমকালো আরো।

তুমিও ঢের সম্পূর্ণ এখন

তাই কখন আসো, কখন যে যাও

বোধয় পাখিরাও জানে না ঠিকঠাক, তবু

ফিরে গেলে শুনি, তুমি এসেছিলে।



৪.

ক্ষোভের গ্রাফিতি

তোমার ছবিগুলোও কথা বলে

মুছে ফেলছি তাই

চৈনিক শিল্পকারিগরের কাটা হাতের

অক্ষমতার অনুভূতিতে বুদ হয়ে থাকি

বারে বারে মনে হয়

এ শহরে তুমি আর নেই!

জোর করে ভুলে থাকি

জ্যামিতিক জীবন, বিগতক্ষণ

ভেতরে তখন, একলা কপোত

আপন মনে কোন্ খেয়ালে

দু'পায়ে মাটি নিঙড়ায়

অক্ষম ক্ষোভে গ্রাফিতি আঁকে!



৫.

দেখা নেই আজকাল

আমাদের দেখা নেই আজকাল

দিনদিন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছো

তন্দ্রার ভেতর,স্বপ্নের ভেতর

ঘুরে ফিরে অসম্পূর্ণ চিত্রকল্পই সার!


নিজের সাথে নিজেই বেইমানী করে

তুমি কি দূরে সরে যাচ্ছো?

মাঘের কনকনে বাতাসের মতো

লাগে তোমার কথার ঝাপটা

কেমন অচেনা গন্ধ ঢাকো দামী পারফিউমে

এক সময় তোমার শরীর জুড়ে

থাকতো নির্মোহ সবুজের ঘ্রাণ

ছিল সমানুপাতিক ভালোবাসাময় মন

যে মন বিকাতো না অন্য কোথাও

কোথা থেকে কী হলো আজকাল!


চিলের চোখ নিয়ে ঘুরে টিকটিকি স্বজন

আমাদের আর দেখা নেই আজকাল।



৬.

কোন এক সাবিত্রী কে

শোন্ সাবিত্রী, তুই আসার আগেই 

জেনেছি, 'সত্যবান' বড্ড বেমানান এখন 

আর 'হরিসচন্দ্র' মীরাক্কেলীয় 'নন-ভেজ' 

তবু একগুঁয়ে বুমেরাং মন 

ভিন্ন ভিন্ন পাঠশালায় অভিন্ন পাঠে 

আজ দৃঢ়, আধপোঁড়া, চোঁখা তীর 

অগুন্তি অনুরাগে বোনা সোনালী জালের

মোহ ছেড়ে 

একবার যদি বেরোয় 

শারদ দেবীর কসম, অকাল বোধনেও কিচ্ছু হবে না।



৭.

স্বজন আগুন

সেই যে জেনেবুঝে ধাক্কা দিয়েছিলে

এক গ্রহসম জলজ্যান্ত আগুনে,

পুড়েছি নির্দয়ের মতো শুশ্রুষাহীন

বাধ্য হয়েই শ্রাবণ কি ফাগুনে।


শেষে আগুন এখন স্বজনের মতো

আর সেই আমিটা ফিনিক্স হয়ে উড়ি,

আগুন দেখলে ঝাপ দিই

অবলীলায় আগুন পান করি।


পোড়াই বাহির-ভিতর অকৃত্রিম উল্লাসে 

আক্ষেপ হয়ই না এখন,

ইচ্ছে স্বাধীন এমনিই পুড়ি

পুড়তে ভাল্ লাগে ভীষণ!



৮.

শুনছো কি

আমিও তীর্থের কাকের অপেক্ষা নিয়ে 

ময়ূর পুচ্ছের অগুনিত চোখে

চাতক মনে বসে থাকি,

সময়ের প্রবাহে ঋতু পাল্টায়

আর তুমি যে কোথায়

কোন্ খেয়ালে অবসরের ব্যস্ততায়

আমার দিনলিপিতে পড়ে না চোখ!

ঘুমে কোন্ মেঘের মরীচিকায় আঁকছো হাবিজাবি 

যথেষ্ট হলো না কি?

থিতু হও প্রিয় এ হৃদয়ে

নেড়েচেড়ে দেখো, এখানেও 

অমানিশার পরে জোছনায় ভাসে

ক্ষরার পর প্লাবনে সিক্ত হয়

শিশির বিন্দু হিরণ্ময় দ্যুতি ছড়ায়

পাখির আবাহনে বসন্ত বয় তবু

কোন্ মোহের ঘুমে কাতর থাকো?

জেগে ওঠো প্রিয়, দেখো

সত্ত্বাধিকারী বিহীন হৃদয় প্রকোষ্ঠের অনন্য স্থান 

ধূপ ধোঁয়ায় মেঘের রাজ্যপাট এঁকেছে!

মোহের ঘুম ছেড়ে উঠে এসো 

উঠে এসো প্রিয়, 

ডাকছি ভীষণ, শুনছো কি?



৯.

বিবাদী

বেঁচে থাকার কমছে বয়স এখন

জমছে মেদ এদিক ওদিক

টান্ হারাচ্ছে ত্বক

টানছে হাত প্রসাধনীর বিজ্ঞাপন।


টাটায় খুব চোখ দুটিতে

গর্ত হচ্ছে দাঁতে

কালি জমছে ফুসফুসে

হৃদপিণ্ডে বাড়ছে বর্জ্য আয়েশে

পাকস্থলি অনিয়মের ভাগারে

যাপিত জীবন খেয়ালের রথে চড়ে

কসরতহীন অঙ্গাদি ডেকে ডেকে

বাধ্যতামূলক করছে ঔষধকে।


আক্ষেপ এভাবে পেড়িয়ে যাওয়ায়

রাখিস্ না যে খবর

বুকের চিনচিনিয়ে ব্যাথায়

বিবাদীর নাম কিন্তু তোর।



১০.

ঊনপঞ্চাশ বায়ু

পুকুর ভালোবাসলো এক শঙ্খচিলকে। এক গ্রীষ্মে সে সমুদ্র পেরুতে গিয়ে ঝরের কবলে পড়ে কোথায় যে মিলিয়ে গেল কেউ জানে না! সেইথেকে পুকুরের সমুদ্র ছোঁবার বাসনা। কি কি করে একদিন নিমন্ত্রণ করে আনলো এক ইঁদুরের পাল। ইঁদুরেরা গর্ত খুঁড়ে খুঁড়ে নদীর পাড়ে গিয়ে থামলো। সেবারই বর্ষায় গর্ত দিয়ে পুকুর গিয়ে নদীতে মিশলো। তারপর ছুটলো সমুদ্রের দিকে। মোহনায় গিয়ে খবর পেল, সমুদ্রের সেই জলেরা উবে গিয়ে হিমালয় ঢেকেছে। সূর্যের অনুগ্রহে সেও উবে হিমালয়ে গিয়ে দেখে, হিমালয় ঢেকে দেয়া সেই বরফের দল গলে গলে অসংখ্য ছরার সমাহারে নদী হয়ে ছুটছে সমুদ্রের পানে।

সেও ছোটে কখনো নদী থেকে মোহনা, মোহনা থেকে সমুদ্র, সমুদ্র থেকে হিমালয়। তবু আর ছোঁয়া হয় না। শেষমেষ প্রত্যাবর্তন স্বস্থানে। দিনরাত্রি তার বুকে ভাসে নক্ষত্রেরা, খেলা করে রোদ্দুর, জোছনা, ডুব দিয়ে যায় কতোকিছু; শুধু ...। 



১১.

ব্যস্ততা

ইষ্কাপনের বিবি'র ভাব তোমার শরীর জুড়ে

তবু তোমার কাছে গিয়ে বারংবার 

খুবকরে সুখ ভরে নিতে ইচ্ছে করে।

অথচ কী সাংঘাতিক ব্যস্ততা তোমার!


আহা! ব্যস্ততা, নিপুণ ঘাতক ব্যস্ততা 

আমাকে ভুলিয়ে দেয়া ব্যস্ততা,

জয়ের পতাকা তোমার মধ্য দুপুর

কি রাতেও পত্ পত্ করে ওড়ে!


ব্যস্ততাহীন বন্ধ ঘড়ি আমার হাতে

তোমার বিরামহীন! 

হায় ব্যস্ততা! তোমার আবরণে ঢেকে

আমি হই শেষ শয়ানে কমরেড।



১২.

প্রতিশোধের শব্দেরা

‌তোমার হৃদ‌য়ে পরগাছার স্থায়ী ব‌ন্দোবস্থের 

বায়বীয় দ‌লিল মা‌ড়ি‌য়ে 

অনুগ্রহতুল্য বিকলাঙ্গ অথবা খুন ক‌রে 

‌বিদায় নেব সব থে‌কে 

পাপী দে‌হের পা‌শে 

প‌ড়ে থাক‌বে জবানবন্দী 

প্রণয় বেড়ুবে গোপন বেডরুম কালচার ছেড়ে

‌কিছু মানুষ শুধ‌রে নে‌বে নি‌জে‌দের 

সাদা ফু‌লের গ‌ন্ধে শো‌ভিত পৃ‌থিবী  

তখন আ‌মি অথবা আমরা বিহীন ।



১৩.

নিখোঁজ 

তারপর তার আর খোঁজ নেই 

কত পূর্ণিমায় সরীসৃপেরা সঙ্গমে মাতলো

কাকের বাসায় কত ছানা ফুটলো কোকিলের

কত বর্ষার অলস সময়ের ভালোবাসা জানান দিতে 

গ্রীষ্মে চোখ মেললো কত মানব শিশু 

কত ফুল ঝরে গিয়েও

মধুর পাত্রে রেখেছে তার অস্তিত্ব 

তবু খোঁজ মেলেনি তার 

কারণে-অকারণে খুঁজছি কতই

খোঁজ মিলছেই না কিছুতে

তবু কেন যে লোকে বলে,

খুঁজলে নাকি মেলে। অথচ

সেই মনের অভিব্যক্তি দেখা হচ্ছেই না আর!



১৪.

শাশ্বত বর্তমান

তোর স্মৃতিচিহ্নের মতো কষ্টগুলো

ড্রয়্যারে তালা এঁটে

দিব্বি উড়িয়ে দিই সময়।

ড্রয়্যার ফেটে ফুল কি কীট

বেরুলে বেরুক, ভাবি না।

অতীত বা ভবিষ্যতের জন্যও না।

প্রতি মূহুর্তে অতীত হয়ে যাওয়া

বর্তমান নিয়েই বাঁচি।


লেবেলসমূহ:

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৩

বিরহের কবিতা - ২




১.

বান্ধই

আইজ কাইল সারাদিন আমার ঘুম পায়

তবুও ঘুম আসে না রে বান্ধই

ছুডু ছুডু খোয়াবে ভইরা থাকে দুইচোখ 

পুরাণা দিনের স্মৃতির ছন্দে-গন্ধে অনাগত দিনের

গোপন খুনসুটি মিইশা হেই এক রাজভোগ যেন!

খোয়াবের রাজ্যে অহন আমি নিত্য বাসিন্দা। 


তাও আমার ভাল্ লাগে! 

অজানা এক তৃপ্তিতে জুরাইয়া যায় শইল-মন

আমি সুখের আনন্দে চিল্লান দিয়া উঠি

চোক্ষে ভাসে ঝিলমিইল্লা কতো বাতি

হুশ থাকে না গো আমার

সব ঢাইলা দিতে মন চায়!


আবার খারাপও লাগে!

বুকের ভিতরে আউলা বাতাস ঘুরতে ঘুরতে

আষাঢ় মাসের বান ডাকে

আমারে খালি ভাসাইয়া লইয়া যায়

আর নিঃস্ব বানাইয়া দেয়

অস্থির লাগে আমার!


আমার খুব ঘুমাইতে মন চায়

তবু ঘুম আসে না গো।

বেহেই কয়, আমি বেধুম ঘুমাই

তুমিও তাই শুইনা হয়ত মনে মনে গাইল পারো!

আমি কি আর ঘুমাইরে বান্ধই

চোখ বুঁইজা পইড়া থাকি কেবল।



২.

পণ

ওপারে তুই বেঁধেছিস ঘর

ঢেলে দিয়ে স্বপ্ন ঝুড়ি,

সময় কাটে নিথর আমার 

সুখ যে সুতো কাটা ঘুড়ি।


মাঝখানে তরল আগুন

পেড়ুই নিয়ে ফুটো নৌকো,

ড্যাম সিগারেটে মুখ কাহিল

টানের পর টান তবু শেষ হয় নাকো।


ভুলতে চাই, পাষাণ তোকে ভুলতে চাই 

তাই পেড়িয়েছি সাতটা সাগর

বুকে চেপে অনেক পাথর 

চতুর প্রিয়, তোকে ভুলতে চাই।


হঠাৎ হঠাৎ তবু মন কেমন কেমন!

আজও বুঝি তোকে চাই ভীষণ। 

এই-যা! কি বলছি ধুর ছাই!

চতুর-পাষাণ, তোকে ভুলতেই চাই।



৩.

সাম্প্রতিক 

ড্রোনের চোখে তাকানোই যায় না 

পার্শ্ববর্তী দেশগুলো খোঁজা শেষ,

অবিরাম খুঁজে হয়রান

প্রিয় তুমিটা নিরুদ্দেশ!


বিষিয়ে বায়ু, পুড়িয়ে সবুজ 

কালোয় ঢাকে কত রঙ,

প্রজাপতি উড়ে নাচে দেখি

দোয়েলের কন্ঠেও সরকারি ঢঙ।


আমারও বিচ্ছিরি লাগে রাতদিন 

বুঝি চরম নিয়তি এই,

জীবন বিষাদের কফি মগে 

তুমি নামক মিষ্টিটা নেই।



৪.

বাস্তবতা 

আপাত নিখাদ অভিনয়ে পেড়ুলো তো অনেকটা সময়

এখন সহজাত ইচ্ছের মতোই যাপিত জীবন

তোমার জন্য দুঃখবোধ এখন শূণ্যের ঘরে

বরং কবিতার শরীর হয়ে উঠতে পারতো

এমন বিস্মৃত অগ্রন্থিত শব্দগুচ্ছরা

সেদিনের চেয়ে হাহাকার জাগায় বড়।


এখন কোন্ আকাশে জ্বলজ্বল হয়ে ঝুলে থাকো

কোন্ বাতাসে ওড়াও মন

কোন্ ঢেউয়ে ভাসাও শরীর

কার সঙ্গে ভাগ করে আনবে আগামী

এইসব গোপন জিজ্ঞাসারা উকি মারে না।

কাটুক সময় তোমার ইচ্ছে মতো।


বেহিসেবি মন হঠাৎ যখন হিসেবি হয় জাগতিক মোহে

ডেবিট-ক্রেডিট-ব্যালেন্স নির্ভুল হওয়াই সঙ্গত

আর আমি হিসেব নিকেষের কানে তুড়ি মেরে

দিব্বি আছি আমার মতো

এখন আর মনে না করিয়ে দিলে

তোমার অস্তিত্ব মনেও আসে না প্রিয়!



৫.

বেদনার রুপ

সমৃদ্ধ ফোনবুক ভরে আছে নাম্বারে

অপারেটরের ক্ষুদে বার্তায় উপচে থাকে

প্রেরিত বার্তার ঘর করে উপহাস;

আমার আলসেমী এখন এমনি।


আমাকে নাকি খুঁজেই পাওয়া যায় না!

লোকমুখে জেনেছো নিশ্চই?

তাই নাড়োনি বুঝি আঙ্গুল

অথচ যোগাযোগ নেই কতোদিন!


যদিও কথাতো এমনি ছিলো হে সুন্দর 

সব মোহ ছেড়ে

বৃক্ষের মতো আমার ইন্দ্রীয় কেবল

তোমার সংকেতের অপেক্ষায় ধ্যানমগ্ন থাকবে

ঘড়ি, ক্যালেন্ডার হিসেব না করে!


জমকালো স্মৃতিতে ঘেরা জীবন

এমনি দীর্ঘ যোগাযোগহীনতায়

কি এসে গেছে আমাদের! 

তুমি কি আর জানো প্রিয় 

আমার বেদনাও কতো সুন্দর!



৬.

ইকারাস

ইথারে এতো যে কথা ভাসিয়ে দিই 

শুনতে কি পাও তুমি?

মনের কানে ধরা দেয় কি তার কিছু? 

হলে ভালো, না হলেও কার বা কি ক্ষতি! 

উড়ে যাওয়া শিমুল তুলো আর

কার মাথায় বসতে পারে

ঝরা পাতার শব্দের মতো

শিশির বিন্দু পতনের মত

হৃদয়ের ক্ষরণে শব্দের জন্ম হয়

মনের আকুতি ভেসে যায় কেবল

শোনো কি?

আমি বুঝি তারার থেকেও দূরের মানুষ?

আমার দহন বুঝতে তোমার 

জন্ম-জন্মান্তর কেটে যাচ্ছে!

আমি বুঝি কোটি আলোকবর্ষ দূরের কেউ?



৭.

আশাবাদ 

হয়তো ফিরবে না

তারপরও যদি ফেরো!

যতই উদ্ধত থাক নাগ-নাগিনীর ফনা

যতই ব্যারিকেডের স্তূপ পড়ুক

গনতন্ত্রের মুখোস আটা চলমান

স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার যুগেও

যেমন সাম্যবাদের স্বপ্ন লালন করি

তেমনি কল্পনার বিলাসিতা আবারও

বারবার নিজেকে বোঝ মানানো

যদিই ফেরো!

হয়তো ফিরবেই না

তারপরও যদিই ফেরো!



৮.

আবার মুখোমুখি 

এক কোটি বছর কি হয়ে গেছে-

আমাদের যোগাযোগ নেই!

ঘূর্ণন সূত্রের দীর্ঘ সমীকরণে

শনি-বৃহস্পতির অক্ষমতা-সক্ষমতায়

কালই হয়তো মুখোমুখি এক মঞ্চে।

জোর করেই মন পাখিকে

যেসব বুলি পড়ালে এতকাল 

রপ্ত হয়েছে তো?

নতুন আকিকায় ভুলেছে তো গোপন নাম?

লকারে জমা রাখা মূ্ল্যবান অলংকার

গিলেছে তো পুরোনো সব প্রতিজ্ঞা? 

জীবনে কত ভাবেই বেঁচে থাকা যায়! 

ভাবনার শিমুল তুলোরা ভাসতে ভাসতে

সবে উড়োউড়ির বিজ্ঞান বুঝতে চেয়েছিল

আর অমনি কালো মেঘের ঝুম বৃষ্টি

জল গড়ালো কেবল আমাদের দু’ভাগ করে।

ভাবনার পতন হলেও এখনও কী সুন্দর!

আজকের দিন পরই হয়তো মুখোমুখি

তুমি-আমি মুদ্রার মতো দুই রুপ নিয়ে;

সে অব্দি পৃথিবী বেঁচে থাক।



৯.

তুমি-আমি ও কবিতা 

অন্তত একটি কবিতার সুবাদে 

আপাত অমরত্ব পেয়ে যাবো দেখো।

তোমার নিতান্তই অযোগ্য হয়েও

একদিন জ্বলজ্বল করবো তোমার চেয়ে।

একান্তই তোমার জন্যে লেখা পঙক্তিরা যখন

নানান কন্ঠে উচ্চারিত হবে প্রেমাস্পদের বন্দনায়

তুমি কান চেপে ধরলেও জাগবে মনে

মন থেকে মুছতে চাইলে বাজবে কানে

নিরুপায় অস্বস্তিতে ভুগবেই ভীষণ 

অপ্রতিরোধ্য আমার কথার আবর্তনে!

অসঙ্গত চাওয়া পাওয়ার এ জীবনে

অন্তত একটি কবিতার জন্ম ও দীর্ঘায়ু 

নিশ্চিত করেই জীবন ছাড়বো জেনো।



১০.

আকুতি 

যেন নিশীথ হীম-কুয়াশায় বিজন গাছে 

বাদুরের মতো আছি ঘাপটি মেরে

তবু মনের ভেতর শীতনিদ্রা ভুলে 

ডেকে ওঠে বর্ণচোরা তক্ষক।

সময়ের কাঁটা আচঁড় কেটে আঁকে জাল

গতির কাঁচি ধার নিয়ে যুদ্ধ করে।

অনীহায় সূর্যালোক হারালে 

মেঘ তাড়িয়ে দৃশ্যমান করে চাঁদ,

স্নিগ্ধ মায়াবী আলোয় রাত ভাসে

ভাসে চাঁদ চোখে

ভাসে জলের ওপর 

আমি ছুঁতে যাই

চাঁদ কেঁপে কেঁপে হারায়।

আমি জোছনা মেখেও দিব্যি 

আর জোছনাই জানি

মহিমান্বিত করে কলঙ্কিত চাঁদ,

কেন যে তবু ছুঁতে চাই

কেন যে মিছে পেতে চাই

বাসি বকুলের ঘ্রাণ মেখে কেন যে 

নিরুত্তাপ চাঁদের আলোতেও ঝলসে যাই!

জানি না, জানিই না তবুতো জানি

জীবনই সুন্দরের উপমা।

বিস্মৃত করে নিকট অতীত

ফাগুন আমায় রাঙাও ফের।



১১.

মুক্তি 

হাতে থেকেও ফসকে যাওয়া কপাল

সময় হারিয়ে সময় হওয়া হাত

পায় না খুঁজে সেই কথা দেয়া-নেয়া মন

আহা কাতর জীবন, কত যে যাচে-মাগে

করুণাও পায় না তবু!

'ক্ষমা করো'

'ভুলে যাও'

'ভালো থাকো'

আরও কত যে আকুতি মাখা আবেদন! 

নীল-কালোয় মাখামাখি আহা জীবন,

মরে যা

ধ্বংস হ'

বিস্মৃতির কূপে হারা;

মুক্তি মিলুক তোর 

মুক্তি মিলুক তার।



১২.

কোয়ারেন্টিন যাতনা

তুমি বন্দীদশায় একাকী ঘরে

কাটাচ্ছ সময় তাও কমবেশি অসুস্থতায়।

আমার চুপসে থাকা পকেট

খাটো হাত, মানুষটাও তাই আর

সীমাহীন অক্ষমতা সয়ে যাওয়া জীবনে

এই মুহূর্তে আরকিছু পারি বা না পারি

তোমাকে না বলা কত কত কথা কিংবা

বলে ফেলা কথাগুলোও তো আবার

শোনাতে পারতাম স্মৃতির ধূলো ঝাড়তে ঝাড়তে।

তারপর, শ্লেষ্মা জমা কন্ঠে কবিতা

তাও আবার তোমাকে নিয়ে লেখা

কিংবা অন্যকিছু নিয়ে অথবা

অন্যকোন কবির কবিতা হতে পারত,

হতে পারত আমাদের আরো আরো কথা,

তোমার কিছু উদাম বেফাঁস কথার মেলা

আর আমার হাসিতে লুটিয়ে পড়া।

এখনতো সাথে তোমার ডিটেকটিভ মা নেই

একটি চিলে কোঠার সুবাদে

আমারো সম্প্রতি মুক্তি মিলেছে

বাবার অতি কেয়ারিংয়ের চোখ থেকে।

পরস্পরের হাতের নাগালের বাইরে

চোখের নাগালের বাইরে আমরা,

বাইরে বাকিসব বাঁকা চোখের নাগালের

এই সময়টা একান্ত আমাদের হতে পারতো।



লেবেলসমূহ:

রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২

প্রেমের কবিতা

 



১.

মিশন হেডকোয়ার্টার 

তোমার চুলের অরন্যে একটা ভদ্র উকুন হয়ে

ঢুকে যাবো গুপ্তচরের মতো।

চিরুনি, সাবান, শ্যাম্পু, জেল, পেস্ট

যাই লাগাও না কেনো

আমার দেহে এন্টিবডি বেশ কার্যকর

আমি ছিটকে পড়বো না 

বরং তোমার প্রতিরোধে জাগবে ধ্রুপদী আকাঙ্খা

তাই নিয়ে 

সুদৃঢ় মনে প্রত্নতত্ত্ববিদের মতো খুড়ে খুড়ে একদিন 

পৌঁছে যাবো তোমার হৃদয়ের হেড় কোয়টারে।

দেখি, তখন আমাকে ছাড়া কি ভাবো…।



২.

বেণী

হয়েছে কি আজকাল

সে কেশ তিনভাগ করে প্যাঁচায়

প্যাঁচের ভাঁজে ভাঁজে আটকে থাকে

আমার স্বপ্ন, ইচ্ছে, তাড়নারা স্বেচ্ছায়।


শিল্পীত প্যাঁচের উর্ধ্বমুখে গুঁজে রাখে ফুল

কেউ দেখে প্যাঁচ বা ফুল, কেউ বা দুটোই।

আমার কি আর ওসব দেখার জো আছে

তখন যে সব দুলতে থাকে তার বেণীতেই!



৩.

পার্থক্যের আগুন

আমার বুকে যে আগুন জ্বলে অহর্নিশ

তাতে তোমার রান্নার কাজ চলে যাবে দিব্বি

ভয় নেই, জ্বলবে না চোখ সাদা-কালো-ধূসর ধোঁয়ায়

লাগবে না কালি হাতে-কাপড়ে-পাত্রে-দেয়ালে

জোস্নার মতো স্নিগ্ধ স্বনিয়ন্ত্রিত এ আগুন

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে অনন্য, বোধেও বেশ

পোড়াবার জিনিসকেই পোড়ায়

তোমার মতো পাথর পোড়ায় না!



৪.

চিত্রকল্পের বিপত্তি 

কী বিপত্তি! হচ্ছেটা কি!

হচ্ছেটা কী এসব আমার

যেন চোখের সামনে ক্ষণেক্ষণে

নেচে যাচ্ছো, গেয়ে যাচ্ছো, হেসে যাচ্ছো 

হাওয়ায় মেলছো হাত, উড়ছে চুল, উড়ছে বসন;

তোমাতেই আবিষ্ট মন আমার তখন

দ্বৈত নাচে, দ্বৈত কন্ঠে হাতে হাত রেখে

চিত্রকল্প আঁকে ছেদপড়া অব্দি!



৫.

অব্যক্ততার অভিমান 

বয়ে যাক সময় এমনি করেই

অস্ফুট কথারা এমনি করেই

পৌনঃপুনিক ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসুক

ইথারে ভেসে বেড়াক উত্তর-দক্ষিণ

তুমিও অবিচল থাকার অভিনয়ে পোক্ত হও

বুঝতে গিয়েও না বোঝার ভানেই থেকো

বয়ে যাক আরো আরো সময়

আমার গোপন কথারা অব্যক্ততায় হারাক।



৬.

মানষিক উদবাস্তু

মাথায় বিষন্ন মাইগ্রেন 

চোখের কোনে লোনা চর 

বুকটা পোকার দখলে 

হাতে কালিঝুলি;

বল্ তো তোকে কোথায় রাখি?

আমার আর সাধ্য কই

তোর কাছে আমার একটু ঠাঁই হবে?



৭. 

মানষিক ব্যবধান

তোমার বাক্সবন্দি জমকালো জীবন

খোঁজে খোলা আকাশ, উন্মুক্ত প্রান্তর।

শার্টের বোতাম না আটকানো খোলা

বুকের মতো আকাশের নীচে কিংবা

জনারন্য অথবা জনহীন মাঠে, ঘাটে

গুন্তিহীন সময় পেড়ুনো জীবন আমার

খোঁজে বাক্সবন্দি মাহেন্দ্রক্ষণ।

দুটোই চাই আমরা, তবু দুজন

মুখোমুখি হলেই তুমি খোঁজ খোলা

প্রান্তর, রোদ মাখা উন্মুক্ত আকাশ

আমি খুঁজি বন্ধ ঘর, যেখানে

আমাদের চোখে ঝিকিমিকি করে তারা।



৮.

হুমকি 

তুমি পাশে নেই বলে 

কবিতায় শব্দের অমোঘ সংকট

হৃদয়ে জাগছে চর

স্বাভাবিক জীবনে কারফিউ

স্বপ্নেরা করেছে ধর্মঘট! 

বলেছে, তুমি না এলে

যমুনা সেতু থেকে সব লাফিয়ে পড়বে!



৯.

নিশ্চয়তা

তুমি বুঝি আমার কালো ঠোঁট'টাই দেখো?

এ নিয়ে তোমার অভিযোগও প্রধান বিরোধী দলের মতো

আর আমি স্বদর্পে বলি,

এই আমার ট্রেডমার্ক এবং 'জি' স্পট।

মাঝে মাঝে তোমার নেহাত ভাবনাও কম মনে হয় না

কেনো, অঙ্গারিত এ হৃদয়খানি কি চোখে পড়ে না তোমার?

ঠোঁটে সিগারেট ছোঁয়াতে না করো

তাতে ঠোঁট গোলাপী পাপড়ির রঙ ধরবে কি না জানি না

তবে তুমি কাছে টেনে নিলে

পাল্টে যেতো অঙ্গারিত এই হৃদয়খানিও।



১০.

বয়েসী প্রেম

আমাদের প্রেমের বয়েস বাড়ছে

আর ততোবেশী প্রেমে পড়ে যাচ্ছি,

জৈষ্ঠ কি মাঘ কিংবা ফালগুন

তুমিহীন গ্রহণকালের মতো ঠেকে!


অনন্য এক সুখের ঠিকানার সংকেত আঁকা

তীরচিহ্ন তোমার দরজা নির্দেশ করে কেবল!

সন্মোহনী দৃষ্টি মুখ থুবড়ে পরে

তুমিহীনময় বন্ধুর পথে বারেবার!


আমাদের প্রেমের বয়েস বাড়ছে

আর ততোবেশী প্রেমে পড়ে যাচ্ছি,

ঠিক যেনো রাস্তা বড় হচ্ছে

আর ততোবেশী বাড়ছে যানযট!



১১.

একদিন 

একদিন তুমি, একদিন আমি

দিনের পর দিন চলতে থাকবে

পাল্টাবে ক্যালেন্ডারের বর্ণময় পাতা

নতুন নতুন দৃশ্যপটের সাথে

পাল্লা দিয়ে নতুন-পুরাতন

অভিযোগেরা ব্যথিত করবে

ঝগড়া চলবে সাথে মান-অভিমান

কখনো আপোষ, কখনো গোঁয়ার্তুমি

বৃত্তাকারে ঘুরবে পরস্পর

তবু আমরা পরম আবেগে

জড়িয়ে ধরবো, গুন্তিহীন চুমু খাবো

আমাদের মুখরা কথারাও কখনো

প্রেমের কবিতার পঙতির মতো হবে

পরস্পরের তুমিতেই আটকে যাওয়া প্রেমে

আমরা পরিভ্রমণ করবো সময়

জল-স্থল-অন্তরীক্ষে বাকী জীবন।



১২.

মনে মনে 

কী এক বিড়ম্বনা!

নিজেকে নিয়ে গবেষণায় দেখেছি

আগাম বলা বিষয়গুলোর ৯৯ ভাগই

মুখ থুবড়ে পড়েছে ব্যর্থতার খাদে!

তোমাকে যে ভালোবেসে ফেলেছি

তা কক্ষনো প্রকাশই করবো না

তুমি বুঝে নিয়ে হাত বাড়াবে না কি?



১৩.

আমন্ত্রণ

বদ্বীপবাসীই তো আমরা, চলো

জাগাচরে স্বপ্নের বসতি গড়ি।

বুঝি না নৌকা কি ধানের শীষ

বুঝি না মুমিন কি কাফের

বুঝি না আদিবাসী কি সেটেলার

বুঝি না ধারা ৫৪ কি ৫৭!

সভ্যতার এমন সংকটে চলো বাঁধি

আদিমের শ্লীল কি অশ্লীল জীবন।



১৪.

তুমিই বারংবার 

ধরো তুমি আর আমি 

না না, ধরো তুমি

না না না, ধরো আমি

একদিন গোধূলি বেলায় হেঁটে যাচ্ছি 

জনহীন সবুজ বর্ডারে সোনালী

মেঠোপথ দিয়ে একাকী 

ঝিঁঝি পোকার দলের কিছু সবে

বিচ্ছিন্নভাবে বাজাতে শুরু করেছে বিউগল

আকাশ সেনাদের কসরতকে ঠুনকো বানিয়ে

তাড়া নিয়ে ফিরছে পাখির দল

বুজে গেছে কতো কতো পাতা

চুপসে যাওয়া আদর্শের মতো

কতো ঝোপের আড়ালে উঁকি দিচ্ছে

চতুরের মতো মিটিমিটি চকচকে চোখ। 

হঠাৎ থমকে দাঁড়ালাম

আবছা অন্ধকারে এ কোন্ জ্যোতি?

ডানপাশে ডুবন্ত সূর্য 

বামপাশে উঁকি দেয়া চাঁদ 

মুখোমুখি অপ্রস্তুত তুমি!


ধুর্! আমার সব কিছুতেই 

কেন যে তুমি'টা এসে পরে!



১৫.

হাঁসফাঁস 

তোমায় নিয়ে ভাবনার বীজ কখন, কিভাবে

প্রোথিত হলো কোন্ মূহুর্তে বুঝিনি

আমাদের সাবলীর মিথোস্ক্রিয়ায়

সে পেল অনুকূল জলহাওয়া

ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হলো

আলোবাতাসে মেললো পত্র, পুষ্প

মন এখন বড্ড উচাটন ভ্রমর হতে ব্যকুল

শেষে কি না কি হয়

কী যে করি, কিভাবে যে বলি!



১৬.

অভিযোগ 

ভাগ্যিস হাওয়ায় উড়িয়েছিলে আঁচল

তাতেই ধরে রক্ষা পেল জীবন

আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে বাজলো সারগাম

চোখে চোখ রাঙ্গলো বেনিআসহকলা'য়

ঠোঁটে ঠোঁট চেনালো অমৃতের স্বাদ

সব জাগালো নতুন চেতন, অথচ এখন

আবেগে আমি একটু খরুচে হলেই

বড্ড হিসেবী হয়ে ওঠো তুমি!



১৭.

ঘুমের আগে ও পরে 

ইদানীং মনে মনে এক স্বপ্নচারা নিয়ে ঘুমাই

তন্দ্রায় তাকে নিবিড় পরিচর্যায় বড় করে তুলি

তারপর নির্দ্বিধায় তাতে এলিয়ে দিই শরীর 

ছায়ার স্নিগ্ধ শীতলতায় প্রশান্তি মেলে, তার 

ফল বুকে নিয়ে ফোটা ফুলের গন্ধে মোহিত হই

বড় বেশি একাকিত্বে তাকে জড়িয়ে প্রাণের 

কথার আওয়াজ খুঁজি, এভাবে বেশ কাটে। 

গ্রীষ্ম কি বর্ষায় ভিজিও না ঘাম কি বৃষ্টিতে

শীতে তার খসে যাওয়া দেহাংশের স্তূপে 

আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতায় মোড়াই শরীর 

তারপর ফল ধরে, পরিপক্বতার সময় কাটিয়ে 

ঝরতে শুরু করে আমার উপর

পুলক আবেগে ঘুম ভেঙে যায়। 

তারপর এবং তারওপর এমন কিছুও হতে পারতো

যেন বৃষ্টির মতো তোমার চুমুতে ভেঙে যাচ্ছে ঘুম!



১৮.

ঘুড়ি

চলো নীল চশমায় পেড়ুই অনেক অনেকটা পথ

থাকুক না হয় মৌলিক অসঙ্গতি প্রচুর তবু

ভুলে যেতে চাই গণিত, হিসাববিজ্ঞান, নীতিশাস্ত্র 

অমিত চাওয়ার যৌথ মননের বিধানে আমরা 

জোছনায় ভিজে পরস্পরের উষ্ণতায় শুকাবো

নিঃশ্বাসের ঘ্রাণে অবলীলায় বাতিল করে দেব

যাবতীয় সুগন্ধির মোহ চিরতরে, পরস্পরের

দেহের ভাঁজের মিলনে তুমুল উৎসব চলবে

নিশ্চিত ব্যর্থ হবো জেনেও জোর করে 

থামিয়ে দিতে চাইবো পৃথিবীর সময়-জ্ঞান 

তবু দুরন্ত ঘোড়ায় চেপে বইবে সময় লাগামহীন 

অনতিপর পরস্পরের সামাজিক নির্বাসন দণ্ডে

ভালোবাসার অধ্যবসায়ে নাটাই ধরবো 

অমিত ঘুড়ির সুতো টেনে-ছেড়ে ফের

হাতে আসবে দ্বৈত স্বত্বার কাঙ্ক্ষিত ঘুড়ি।



১৯.

তোমার স্বরুপ 

তুমি তো এমনই

আকাশ তোমার স্বত্তায়

কখনো নির্মেঘ, নগ্ন কখনো

কখনো সাদা-কালো-ধূসর আরও

কতো কতো মেঘের পোষাকে আবৃত।


তুমি নগ্ন হলে দৃশ্যমান হয় মহাকাশ

হাতছানি দেয় জ্যোতিষ্ক মণ্ডল

অসীমে ছোটে মন অসীম আবেগে!


বর্ণীল পোষাকে তুমিও বহুরুপী

স্থূল হয় অতীত

পাল্টে যায় বর্তমান, ভবিষ্যত

তারও পর...

তুমি এমনই জানি

তাইতো দ্বিধাহীন ভালোবাসি।



২০.

তরঙ্গ 

জানে তো মন

ভর যৌবনে কোন্ সাধনায়

এই বানপ্রস্থ জীবন,

কার্ জন্যে সাজাই সময়

উলুবনে স্বমেহন,

বোঝ না বুঝি তুমি?

কে না জানে...

কেমন ঝুমবৃষ্টি হয় শ্রাবনে!


লেবেলসমূহ:

বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২

রগরগে কবিতা



১.

পর্ন ও মৈথুন 

প্রায় প্রতি মাসে দু-একবার আমিও পর্ণছবি দেখি। মাঝেমধ্যে বিগার উঠলে পাশের বাড়ির নাদান কিশোরী, নতুন-পুরান বান্ধবী, সাদাসিধা-কেবলা নিকট পরিচিতা, স্মার্ট-সেক্সি সহপাঠী, সিনিয়র-জুনিয়র অফিস কলিগ, গায়িকা-নায়িকা, অমুক-তমুক আরও হাবিজাবিদের নিয়ে উল্টাপাল্টা কল্পনা করার চেয়ে স্বমেহন অনেক ভালো। তাই বলে সুখী বিবাহিত জীবনে কিংবা বার্ধক্যে এসে পর্ণছবি বা মৈথুন নিষিদ্ধ গলাবাজি কিংবা লেখালেখির পক্ষে আমি না।



২.

ঘুম ভেঙে 

প্রচন্ড শীত। নিজের এক পা আরেক পা কে সহ্য করতে চায় না। গাঢ় কুয়াশা ঢাল বেয়ে বেয়ে টুপটাপ বৃষ্টি বানায়। দশদিক জুড়ে ঠান্ডা। হঠাৎ নির্ভেজাল উষ্ণতার আকুতি নিয়ে তুমি। শরীর গরমের কত কলাকৌশল। 

টুপটাপ ঝরছে কুয়াশা বৃষ্টির মতো। ভিজে যাচ্ছে ছাদে ফেলে রাখা জামা, বারান্দার চেয়ার, খোলা প্রকৃতির অবস্থা তথৈবচ। 

শরীরের মাঝ বরাবর ঠান্ডা হয়ে আসছে। কুয়াশা ঝরছে। শীত জাঁকিয়ে বসেছে। হাত দিয়ে কুয়াশা ছুঁতে যাই। ছুঁইও, ততক্ষণে বুঝে ফেলি- পরনের প্যান্ট আছে ভিজে।



৩.

হোটেল প্রভাতী, রুম নং. ৪১৯

পাশের জানালায় অপেক্ষায় বিবস্ত্র নারী

নর তখনো ব্যস্ত মুঠোফোনে

নারী কখনো ফাঁক করে উরুযুগল

কখনো চেপে ধরে মর্দন চলে দু'পায়ে

এপাশ-ওপাশ করে বিছানায়।

এপাশে আমি কুশিলবের আড়ালে

সাদা আলোয় নীল চলচিত্রের বিস্মিত দর্শক!


হঠাৎ নিভে গেলে মূল আলো, আবছা আলোয়

ছায়ার মতো শরীরেরা খেলে চলে!


জ্বালা ধরা শরীরের ছটফটানি নেভাতে

নিভৃতে নিজেকে বাজাই

জেগে উঠে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ

বিস্ফোরিত হয় লাভার উদগিরণ

ছায়ার মতো শরীরেরা খেলে চলে

আমি ভেসে যাই...।



৪.

হেটারো সম্পর্ক

আমি সম্পর্ক করতে এবং ধরে রাখতে ভালোবাসি যদি না তা খুব বিরক্তিকর হয়। তার শরীরের রঙ ও গড়ন, ধর্মীয় বিশ্বাস, অর্থনৈতিক অবস্থা, বড় কি ছোট পোশাক ইত্যাদিতে আমার এলার্জি নেই। সম্পর্কের মানুষটির সাথে কথা বলতে ভালোবাসি 'তাকে ভালোবাসি' বাক্যটি ছাড়াই। কারণে-অকারণে তার হাতটি ধরতে ভালোবাসি। ভালোবাসি শরীর ঘেঁষে বসে থাকতে। তাতে মাঝ বরাবর আমার ভিজে যায় না। তাকে নির্দিধায় গোপন দূর্বলতা জানাতে ভালোবাসি কোনকিছু চেয়ে কিংবা না নিয়ে।



লেবেলসমূহ:

মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২

দ্রোহের কবিতা

 



১.
ফুঁটো দেয়ালে ইঙ্গিত

বৃক্ষের প্রসস্থতা বাড়লে ফেঁটে ফেঁটে কুঁকড়ে যায় আবরণ। আরও পর খসে পড়ে ব্যাথাহীন; বৃক্ষের জীবনে এমনি পৌনঃপুনিকতা আমৃত্যু। বৃক্ষের আবরণের মত স্থায়িত্ব নিয়ে তৈরি হয় সত্য, সুন্দর, শান্তি, জীবন। সবই আপাতস্থায়ী। পুনঃপুনঃ পরিবর্তন, রুপান্তর, বৈচিত্র্যতা প্রকৃতির ধর্ম। যা-কিছু প্রকৃতিজাত তারও ধর্ম একই। হাজার বছর আগের তত্ত্ব, মিথ একালে মত করেই এগুবে উৎকর্ষের দিকে; এ-ভাবেই তো বোধের উদয়। জোরজবরদস্তি, সংঘাত, আক্রমণ, নিপীড়ন, অত্যাচার বোধের স্রোতকে দমাতে দমাতে সেই কালো হাত এখন নিজেই ঠেকে পড়ছে নিজেরই বর্ম হিসেবে দাঁড় করা দেয়ালে।
স্যাটেলাইট, মহাকাশ যান, সাবমেরিন পায় না খোঁজ দেবতার। আসমানী কিতাবেরা খেলো হয়ে পড়ছে দিনদিন। ওদিকে এদিকে ক্রমশ দৃঢ়তা নিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বিদ্রোহ। আর ভাঙছে কালো দেয়ালের এক-একটি ইট। মাহসা আমিনি'র প্রাণ ভেঙেছে আরও একটি ইট। ছানি পড়া চোখ না দেখুক, বধির কান না শুনুক, দেয়ালের ফুঁটোয় দেখছি অন্ধকারের বিনাশ, শুনছি আগামীর ঐক্যতান।
(২০২২)


২.
সুন্দর

প্রকৃতি ঠিক বুঝে যায়
মননে কারা সুন্দর পোষে
কে কে সময়ের সহজন।
জানে, কেউ কেউ
পরপারের বিট কয়েন কেনে না,
লোভ করে না ক্ষীর কিংবা সাকির।

উল্টো দিকে
সহজ কথাটি সহজ করে বলতে না পারার
স্কচটেপ আটা ঠোঁট মাক্সে ঢাকা
সহনীয় মানুষের বাড়ন্ত ভীড়ে তবু
বেনিয়া ধার্মিক ধোঁকাবাজির পতাকা স্তম্ভের
ভীত শক্ত করে চলে।

প্রকৃতি দেখে যায়
সময়গ্রন্থিতে জেগে থাকে সব
ইতিহাসের কলেবর বেড়ে চলে
তবুও ফিরে ফিরে ছাতা মেলে ধরে অন্ধকার।
যদিও সবাই জানে
সত্যকে আড়াল করলেও সত্যই থাকে
সত্য সুন্দর, সৃষ্টি সুন্দর, সাম্য সুন্দর, প্রকৃতি সুন্দর;
এ বোধ নিয়ে কেউ কেউ আস্থা নিয়ে বাঁচে
আমাদের সব সুন্দর হয়ে উঠবে।
(২০২২)


৩.
অন্য বাংলাদেশ

পিতা লাখো শহীদের স্বপ্নের কথা বলতেন,
আপনি পিতার স্বপ্নের কথা বলেন,
বলে বলে আজকের এই বাংলাদেশ দেখাচ্ছেন!
সরানো হলো 'লালন'
উচ্ছেদ হলো 'লেডি অব জাস্টিস'
ঢাকা পড়লো 'বর্ষা রাণী'
এদিক-সেদিক হলো আরও কিছু।
আপনি কোলবালিশ থাপড়ালেন
গাইলেন হালকা উল্টো সাফাই!
এখনতো মাথা ধরে মারছে টান।
সাধু জননী, এবার তো ভোল পাল্টান?
এই বাংলাদেশ লাখো শহীদের স্বপ্নের না,
এই বাংলাদেশ পিতার স্বপ্নের না।
আপনার হাত থেকেও হ্যাক হয়ে যাওয়া
এ এক অচেনা বাংলাদেশ।
(২০২০)



৪.
ভাস্কর্য

‌ভোট বোঝো, ভাস্কর্য বোঝো না!
‌শিল্প বো‌ঝো না,‌ সৌন্দর্য বোঝো না !
অক্ষম ক্ষোভ আর ঘৃণার
একদলা থুতু ভোটবা‌স্কে
‌লোভ আর দ‌ম্ভের মসন‌দে।
‌ধিক্! ধিক্!
‌কেবল ভোট বোঝো,
‌শি‌ল্পের শ‌ক্তি জা‌নো না।
(২০১৭)


৫.
ম্যাম্, থাক‌ছেন আপ‌নি

রাষ্ট্রধর্ম আ‌ছে, মরু সনদ আস‌বে
‌দি‌কে দি‌কে হেফাজ‌তি ধ্ব‌নি;
গুন্ডা আ‌ছে সরকা‌রি-‌বেসরকা‌রি
আগামী‌তে ম্যাম্ থাক‌ছেন আপ‌নি।

‌শিক্ষার ফের বাইপাস সার্জারী
'অ' তে অজু, 'ও' তে ওড়না, 'প' তে পা‌নি;
কী সহজলভ্য প্রশ্নপত্র, সা‌র্টি‌ফি‌কেট
আগামী‌তে ম্যাম্, থাক‌ছেন আপ‌নি।

পু‌রো তৃ‌প্তির সফর আপনার
‌তিস্তার বুক পিপাসার্ত তেম‌নি;
‌'‌লে‌ডি অব জা‌স্টিস' থাকা উ‌চিত না
আগামী‌তে ম্যাম্ থাক‌ছেন আপ‌নি।
(২০১৬)



৬.
সংবিধিবদ্ধ সরতর্কীকরণ

পোড়ানো ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে
নির্জীব থাকি না তো
ঝিমানো রোগ পায় না তো আজো!
বরং শিল্পীত হয়ে উঠি উদার দর্শন নিয়ে।
উন্নয়ন আর সভ্যতার বদান্যতায়
বিষাক্ত বাতাস জন্মেই পাওয়া
ফুসফুসে ফুটো নিয়েও জন্মায় নবজাতক
তামাক ছুঁয়ে না দেখা মানুষও ভোগে শ্বাসকষ্টে
নগরের বাতাসে ভাসে অগুন্তি ঘাতক
আর তোমরা কি না
'সংবিধিবদ্ধ সরতর্কীকরণ' শেখাও!
(২০১৯)


৭.
থু...

দশদিকের কদর্যতা, দুর্গন্ধ, ন্যায়হীনতা
আর কতো সহ্য করা?
মুখের ভেতর দলা পাকিয়ে ওঠা থুথু
গিলে গিলে আর কতো,
কতো আড়ালে বিসর্জন?

অদম্য প্রাণের অক্ষম ক্ষোভ
বৈরী সময়ে ফুঁসে উঠুক ছেড়ে হাপিত্যেশ
স্বশব্দে থুথু ছুঁড়ুক দশদিকে
উপরে ছোঁড়া থুথু শরীরে পড়লে পড়ুক
শুদ্ধ হবে, শুদ্ধ হবে দশদিক।
(২০১৯)



৮.

ভালোবাসা 

আমিও সমুদ্রে পাতি শয্যা

তোয়াক্কা করি না বৃষ্টি কি শিশিরে।

কাক-শকুনের মতো সমাজের

নোংরা, পঁচা, মরা, বর্জ্য খাই।

সুখি সুখি মানুষের অসুখ ছড়ানো

বাতাসে অগোচরে সুগন্ধি ঢালি।

নিজে মরে মরে যাই তবু চাই

সজীব হোক, সুন্দর হোক সবকিছু

তবু বলি হৃদয় খুলে হে

 মহাবিশ্ব, নির্মোহ ভালোবাসি।

(২০১৯)



৯.

বেহায়া 

দুঃসময়ে দুঃগ্রস্থ
আপনি
তুমি
তুই
আমি।
তারপরও কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়িতে ব্যস্ত
ঘরোয়া আসরে বিপ্লবী
আসমানী কিতাবের ব্যারিকেডে বিবেক
স্বীয় স্বার্থে হেয় দায়বদ্ধতা
তবুও আমাদের পোষাকী আস্ফালন, আহাজারী!
বাকীদের কথা কী বলবো
আমিই কতো নির্লজ্জ, এখনও প্রতিদিন
আয়নায় নিজের মুখখানি দেখি!
(২০১৬)



১০.
বিশেষ বাহিনী

ছোটবেলায় কালো পোষাকী ডাকাতদের
পাইয়ে দেয়া ভয় দুঃস্বপ্ন হয়ে
এখনো হঠাৎ হঠাৎ ফিরে আসে!
কালো পোষাক এখনো দুঃস্বপ্নের মিত্র
কালোপর্দা এখনো রহস্যময়তার প্রতীক
ঘাতকের মুখে এখনো অত্যাবশ্যকীয়!
অথচ, দেশে শান্তি রক্ষার নামে
কালো পোষাকের রক্ষক দাপিয়ে বেড়ায়
বিনাবিচারে মানুষ মারে!
(২০০৬)



১১.
প্রতিজ্ঞা

আভিজাত্য কিংবা সচ্ছলতা
দম্ভ কিংবা হিংসা
মোহের প্রেম, ভুল ব্যবসা-চাকরি
আপোষের সংসার
কথা ছিলো না তো তোমার-আমার !

কথা তো ছিলো
স্রোতের উজানে দাঁড়িয়ে
ছাঁকবো আবর্জনা আর ছড়াবো সুগন্ধ
দিনে দিনে বাড়বে হাত
তুমি-আমি আর আমি-তুমি না
আমাদের হবে সব।

তবে কেনো আজ নাক-সিটকাস
চটুল বাতুলতায় আমাকে উদাহারণ টানিস
মেকী বোধের দরদ বা করুনা ঝরাস!

আমাদের কথা ছিলো তো অন্য;
আমার তো এখানেই থাকার কথা ছিল বন্ধু ।
(২০১৭)



১২.
ম্যাডাম ---

রানী তোমাকে উপটৌকন দিলাম অনেক
অশ্রু, ঘাম, রক্ত, মাংস, হাড়
সম্ভ্রম, জীবন, অধিকার;
সব তুমি
চুলে, চোখে, কানে, নাকে, ঠোঁটে
হাতে, কোমড়ে, পায়ে পড়ে
কামিনী সাজো, জৌলুস বাড়াও।
বোঝ না কি
কেমন ডাইনীর উপমা হও
কতোটা ঘৃনা বাড়াও?
যারা চাটে, চাটুক;
আমি থুতু ফেলি।
(২০০২)



১৩.

সময়


ডেলটা প্লানে ফুটবে ফুল স্বপ্নের

শরীর কি বিবেক বেঁচে খেতে হবে না,

স্ববিরোধী আপোষে দরবেশ-হুজুর

কথায় কথায় ফেরিকরে স্বপ্ন আর চেতনা।


অন্যপক্ষের বন্ধ ঘরে কেবল সড়গোল

প্রতিক্রিয়াশীল আর সুশীল নিয়ে,

শুনি কেবল নেতার ডামাডোল

চেতনায় ফাঁস দিয়ে।


আরেকপক্ষ বলে সঠিক, ব্যর্থ সুযোগহীনতায়

তবু শ্রম আর সুন্দরের ডাক পেড়ে যায়।


সংখ্যাগরিষ্ট আমরা তখন

প্রতিবাদের কাব্য ছোটাই

আর আপোষের কোরাস ধরি।


নিয়ন্ত্রিত অধিকারের জীবন ছেড়ে 

মিথ্যেটাকে রুখতে

ন্যায্যতার ঝান্ডা তুলে

চেতনাদীপ্ত বাহু নেড়ে

ব্যাড়িকেড দুমড়ে ফেলে

মুছে অশ্রু অপারগতার

সময় আসুক রুখে দাঁড়াবার।


প্রতিবাদের আগুন বুকে তবু

জঞ্জাল জ্বলে কই

শাপদের শ্যাওলা করছে গ্রাস

ভেজা বারুদে তা দিয়ে

সময় আসুক রুখে দাঁড়াবার।

(২০২১)



১৪.

ডিপ্রেসেন্ট রাজ্য


আপনারা যা বলবেন

যা করবেন সবই ঠিক।

আমি অমুক বা সে তমুক 

বা আমরা যা বলবো

বা যা করবো সবই বেঠিক। 

সরল স্বীকারোক্তিতেও কি অখুশি?

বলবেন, সে-ও না হয় পাল্টে দেব। 

আপাতত খুব ঘুম পেয়েছে 

ঘুমের ঔষধটা দিন 

খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।



১৫.

বীপ...বীপ...বীপ...


ইনফিনিটি লুপে আটকে গেছে মন

ধর্ম হাইজ্যাক করেছে ডোপামিন সার্কিট 

ভেন্টিলেশনে আদর্শ গুনছে দিন 

সিআরপি দিয়েও ফেরানো যাচ্ছে না চরিত্র 

ফাঙ্গাসে ভীষণ আক্রান্ত গণ দৃষ্টিভঙ্গি।

তখন এমনি মুল্লুকে রথসচাইল্ডের

আর্শীবাদ নিয়ে ক্ষমতায় এসেই বা

কে কি করবে!

অমুক-তমুক এর গালমন্দ আর আহাম্মকি প্রদর্শন বাদের চর্চায় আজও উর্বর চারপাশ। 

এমনি সময়েও নতুন প্রজন্মকে মুখস্থ করাই

ন্যায়, আদর্শ, সততা, সম্প্রীতি, উদার দৃষ্টিভঙ্গি

আরও কত কি। বোঝো ঠেলা!

বীপ...বীপ...বীপ...!

এবার বোমাটা ফেঁটে যাক

নতুন করে জাগুক আগামী। 


১৬.

ঢাকা খোলা


হয় নাচবেনই না নয়তো ঘোমটা খুলেই নাচবেন। 

গোঁড়ামি স্ট্যাটাস মেরে অথবা লোগোতে

স্টিকার মেরে নাটকের কি দরকার! 

হেঁড়ে স্বরে স্রষ্টার নামে চিৎকার তুলে

আসুন, ঝাপিয়ে পড়ুন;

বেরিয়ে আসুক মুখোশে ঢাকা পাষবিক রুপ।


১৭.

সালাম


গমগমে ভীড়ে মিথ্যে বয়ানে হেলেদুলে পড়ে মাথা

ভয়ে,লোভে আর আলগা দেমাগে বিসর্জন দেয় 

শৈল্পিক ভাবনার, যৌক্তিক তীক্ষ্ণতার আর

মানবিক বোধের অনুসন্ধিৎসু মন।

যার মানার ইচ্ছে সে মানুক

না মানার মানুষদের আমার সালাম।


লেবেলসমূহ:

প্যারাডক্সিক্যাল কবিতারা


১.

প্রেম

১৪'র প্রেম ২৪'শে এসে

আমাদের সাধারণত পাল্টে যায়

৩৪'শে এসে সেটাও ফিকে হয়

৪৪'শে এদিক-ওদিক নতুনত্বে চোখ টাটায়

৫৪'তে কারো কারো ভীমরতি থাকে

৬৪'তে সেসবকিছুকেই পাপ মনে হয়

আর আমরা অত্যাধিক দেবতাপ্রেমী হয়ে উঠি

৭৪'এর আগে বা পরে জীবন সমাপ্তি টানলেও

প্রেমকে আর জানা-বোঝা হয়ই না যেনো!



২.

থাক, আর গভীরে না যাই

বিছানায় আমরাও চুড়ি ভেঙেছি

ক'বার

এরপর ... 

থাক, আর গভীরে না যাই

পরিবেশ সুন্দর থাকা জরুরী

যদিও অচল প্রেমের সচল পদ্যরা

ঘুমিয়ে যায়নি আজো।


রক্তের টিপ পরেছে বিছানা

সেও ক'বার

তারপর ...

থাক, আর গভীরে না যাই

পরিবেশ সুন্দর থাকা জরুরী

যদিও কখনো তন্দ্রাছন্নতায় মনে হয়

এখনো জীবন্ত সে মূহুর্ত।


একই জলে স্নানও করেছি দু'জন

ক'বার

শেষমেষ ...

থাক, আর গভীরে না যাই

পরিবেশ সুন্দর থাকা জরুরী

যদিও কেউ কেউ কিছু ভাবলেও

আমাদের প্রেম পবিত্র ছিল।



৩.

কোন একদিন 

একদিন জনসন্মুখে আমিও

সরল ভাবে বলবো,

আমার কোনকালে কারো সাথে

প্রেম ছিলো না নিরেট বন্ধুত্ব ছাড়া।


একদিন আমিও সামাজিক মাধ্যমে

পোষ্টিয়ে জানান দেবো,

বিরহের গান ভাল্ লাগলেও

বাস্তবজীবনে তার অস্তিত্ব নেই।


মনে অনুতাপের খোঁচায় 

কবিতা এলেও

একদিন আমিও বলবো,

সব লেখাই জীবনঘনিষ্ট নয়।



৪.

জয়ধ্বনি

চারদিকে কেবল আঁধারময় শূণ্যতা খেলে আমার

কখনো ধরি কি ধরি না, কেমন যেন

তবু নিয়তিকে একহাত দেখে নেব বলে

একদিন প্রত্যাশা প্রাপ্তির যুদ্ধে নেমেছিলাম

মন একদমই বসে থাকিনি

পায়চারি, হাঁটাহাঁটি, দৌড়েছেও!

একদিন দৌড়াতে দৌড়াতে দেখি

হঠাৎ রাস্তাটা উঠে গেছে উপরে

সেখানে উঠে দেখি সামনে রাজ্যের শূণ্যতা

পেছনে কি সামনে চোখে নেইনি কিছু

পেছেন ফিরে হেঁটে এসে শুনি

যেখানে থেমেছিলাম তারপর থেকে

মসৃন ঢাল নেমে গেছে তার দরজায়

আর ততোখনে হয়ে গেছে অন্যজনের জয়ধ্বনি।



৫.

জাতিস্বর 

মানুষ একাধিকবার মরে

জন্মেও তেমন।

আমি খুন হয়েছিলাম

সেই খুনি প্রাণের মানুষ ছিলো

তার আত্মহত্যার পর জন্ম নিয়েই

খুন করেছিল;

আমিও জন্মেছি ফের।

জাতিস্বর হলেও কেউ কাউকে নিয়ে

বিশেষ করে ভাবি না একদম।



৬.

আপডেট ভার্সন

হয়তো আরো

২৫, ৫০, ১০০ বছর চর্চিত হবো

তারপর আর না, জানি।

ক্ষতি কী!

ততোদিনে ফের এসে যাবো

আপডেট ভার্সনে আমি।



৭.

বৃষ্টি 

সকাল বেলা ফুলটা হেলেদুলে

তুমুল হাসছিল আনন্দে, শেষে 

হাওয়ার সুরে গাইলো গান।

.

.

.

কিছুপরই ফুলটা গেল ক্ষানিকটা ঝুঁকে

আর কিছুক্ষণের মাঝেই

বুক গড়িয়ে পড়লো ক'ফোঁটা জল।

.

.

.

দুই ঘটনার মাঝে বৃষ্টি হয়েছিল। 



৮.

চতুষ্পদ

হাওয়ারা তোর স্পর্শ দিয়ে যায়

ঠেলে দেয় ভাবনার বিচ্ছুরণে

সুপ্ত কুঁড়িরা ফেটে ওঠে আড়ম্বরে

ক্রমে বন্ধসময়ে ভাব যমুনায় অবগাহন

মন্থন শেষে অমৃত পানে আচমকা

স্তব্ধ বাতাস, ঝাকুনি তোলে শরীর

যমুনার বুকে লুটায় অমৃত, আর

দেখি, গা ঘেঁষে বসেছে চতুষ্পদ!



৯.

দুঃখ 

আমৃত্যু আক্ষেপ আমার

তোমায় হারিয়ে।

হারিয়েছে কতোকিছুই

তবু স্মৃতির দলিল হয়ে

তুমি ছিলে চোখের সীমানায়

 হাতে

     জঙ্ঘা কিংবা

            বুক পকেটে।

হায় মুঠোফোন!



১০.

কষ্ট 

ব্যথাটা ভোগায় গো বড়

মহীরুহের মতো ছড়িয়েছে

উপরে


নীচে


ডানে-বামে

উৎস খুঁজতে বিভ্রান্ত করে!


দাঁতগুলো এবার যাবেই বুঝি।



১১.

বদলে যাওয়ার গল্প

একটু একটু করে বদলে গেছে

আমার শহর চোখের সামনে,

বদলেছে আমার চারপাশও।

ভরাট হয়েছে শান বাঁধানো পুকুর,

মেদ জমে শিশু-তরুন-প্রবীণ শরীরে।

দেয়াল উঠেছে ছোট্ট খেলার মাঠে,

শিশুরা কোলাহল ছেড়ে ঝিম ধরেছে ভিডিও গেমে।

উপড়ে ফেলেছে ছায়া বিলানো মহীরুহ,

বাস্তুচ্যুত পাখির কান্না শোনে কেবল বাতাস।

পরিবেশবাদী দাঁড়িয়েছে প্রতিবাদে

বাকি নাগরিক সমাজ ঘুমিয়েছে রুটিন মাফিক।

প্রশাসন ব্যস্ত থেকেছে উন্নয়নে

দ্বিগুন তালে বেড়েছে জঞ্জালের স্তূপ।

পুরোনো স্থাপত্যশৈলীর বাড়িগুলোও

একটু একটু করে চৌদ্দ তলা পেড়ুচ্ছে,

হাঁটার রাস্তা দখল করে ধীরে চলে গাড়িরা।

চারদিক ধীরে ধীরে নির্দয় জমকালো

করেছে দেমাগী সভ্যতা,

সেসব ইতিহাস আমার দৃশ্যপটে।

একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে সব

আর তুমি কেমন বদলে গেলে হুট করেই!




১২.
পান খাওরি মেয়ে

তোমার অমন মাখন মাখা মুখ, কাজল আঁকা মায়াবী চোখ, পাতলা রঙিন ঠোঁট আর তার উপর নিঃসঙ্গ তিল এ-সব যে তোলপাড় শুরু করলো তোমাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য! সে-সব ম্লান হয়ে গেল, যখন হাসলে আর বেড়িয়ে এলো তোমার লাল-সাদা দাঁত!




১৩.
সিকোয়েন্স

জোকার শূন্য আমার হাত তবু পরের ধাপেই মিলে যাচ্ছিলো কাঙ্ক্ষিত লাইন। হঠাৎ তোমার হাতের একচোখা জোকার কাটলো আমায়! তার হাতের দুইচোখা জোকার তোমায় নিলো তুলে। গেম ওভার। দারুণ কুয়াশায় মিলিয়ে গেল কাতর দীর্ঘশ্বাস। সবাই দেখলো, হাস্যজ্জল মুখে তোমাদের চার হাতে উঁচিয়ে ধরা ট্রফি। 




১৪.
সমীকরণ 

(প্রথম পক্ষ)
এপাড়ে এত এত আলো, ওপাড়ে অন্ধকার। 

(দ্বিতীয় পক্ষ)
এপাড়ে কত কোলাহল, শান্ত ও স্থির ওপাড়।

(তৃতীয় পক্ষ)
নদীর দুই পাড়ের দুঃখ সমান।




১৫.
স্বপ্ন 

চেতনে কতো স্বপ্ন বুনি
অবচেতনে স্বপ্ন দেখি 
গোলাপী রঙের ছাদ
হলুদ রঙের দেয়াল
সবুজ রঙের বেডশীট
বেগুনী রঙের চাদর
বর্ণীল ঘর তোমার আমার
হঠাৎ করেই চেচিয়ে ওঠে ঘড়ির কাঁটা
পাখা মেলে সতর্ক চড়ুই
আমার কেবল তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখা।




১৬.
বহুরুপী সত্যি 
ওপেন মার্কেটে চাউর, আমরা পারস্পরিক সমঝোতায় আজ আলাদা।
ডীপ মার্কেটের খবর, আমিই সরে এসেছি।
ডার্ক মার্কেটে কেবল তুমি-আমিই জানি, তুমি কি করেছিলে।




১৭.
রাজনীতি 
স্বাধীনতার পক্ষে থাকতে গিয়ে
চলুন একটু নিঃলজ্জ হই;
নাঙ্গল মার্কায় গলা ফাটিয়ে
চলুন শহীদ নূর হোসেন আর
ডাঃ মিলন দিবস স্মরণ করি।




১৮.
ভ্রমের খেসারত 

মানুষ ইচ্ছাকৃতই ভ্রমে পড়ে কখনো কখনো। ছেলেবেলায় কতোবার যে মা-বাবাকে নিজের মতো পরিচালনার চিত্রকল্প গড়ে! করে, ইচ্ছে মাফিক স্বপ্নের বিদ্যাপীঠে আনন্দ পাঠ! সাফল্যের সিঁড়ি তরতরিয়ে ডিঙিয়ে 
দাপাতে চায় কাঙ্ক্ষিত ভূবন ।
কিশোর তুমুল প্রেমে পড়ে মায়া হরিণীর আর কিশোরী আবেগী রাজহাংসের। অনটনে দশ টাকার নোটটা'কে 
একহাজার টাকা ভাবার ইচ্ছেকৃত ভ্রমটাও ক্ষণিকের আনন্দ দেয়। 
তুমি কখন যে বদলালে হাত বোঝার সুযোগই পেলাম না,
আমি যেন কিসের ভ্রমে ছিলাম!




১৯.
রেখার সমীকরণ 

হাতের যে রেখাটা জানান দিতো
তুমি পার্থিব,
অসতর্কতায় কেটে ফেলেছি তা!

একমুঠো ব্যাথা বয়ে কিছুদিন,
চেতন আর অবচেতনে আরো কিছুদিন
পেড়িয়ে জেগেছে নতুন রেখা।

আরো স্পষ্ট, আরো পুষ্ট সে;
কে জানে
একি ব্রহ্ম না বিভীষণ!



২০.
হার

সবাই কমবেশি হারেই তো জীবনের কাছে
আমিও হেরেছি অনেক!
তারপর, অভিমান থিতু করে
বদলেছি নিজেকে।
কী ভাবো, খুব কি জিতে গেছো?
আমার ভিজে জবজবে জীবন
তাপ না পেলেও হাওয়ায় শুকায়।



২১.
হাত বদল 

ঘুমের ঘোরে হাত থেকে
খসে পড়েছিলো তোমার হাত
আমাদের অজান্তেই,
তুলে নেবার লোকের অভাব
ছিলো না কোন কালেই।
ঘুম ভেঙ্গে দেখি,
বদলে যাওয়া হাতেই
সপে দিয়েছো সব!



২২.
খটকা

মাকড়সা মন জাল বুনে 
বসে থাকে 
ক্ষণে ক্ষণে সুতো ছেড়ে 
নেমে যায়, পারে কই আর 
উঠে আসে ফের 
তুমি'টা আটকালে কি?



২৩.
জ্ঞাতার্থে  

হৃদয়ে পুতে দিয়েছিলে স্বপ্নের বীজ
যত্ন-আত্তি যেমন-তেমন
তুমি মুখ ফেরালেও
এখন সে মহীরুহ।
কেবল ফুলের গন্ধই চিনলে, ছুটলেও!
বেল পাতায় সুগন্ধ থাকে।



২৪.
প্রাক্তন 

ঘুরিয়ে নিলে চোখ।
চলামান ভালোবাসার চাদরে 
ঢেকেছেতো ক্ষত? 
আমি দুঃখিত। 
ভুলে যেও
দেখা হয়েছিলো এক'পলক।



২৫.
হিসেবি অভিনয় 

অনেক অসুখ নিয়ে সুখের 
ভান ক'রে বেড়াই; 
এতো অভিনয় ক'জন করে জানি না।
অনেকের হিসেবেই ভালো নেই 
আর আমারতো হিসেবের
সময়ই হলো না আজো!



২৬.

আবাল ও আমি

যতই পোষাক আষাক শরীরে লাগাক কলা খাবার ধরন দেখেই যেমন অনুমান হয়ে যায় স্মার্টনেস, তেমনি কোন কোন  রাজধানীবাসীর ক্যাজুয়াল ভাবের সোদন দেখে মনে হয় লন্ডন থেকে আসছেন! জুতা কে আলমারি বলা আলবিলাতি জ্ঞানী চারপাশে ভরপুর। শৈল্পিক ধান্ধাবাজ থেকে বহুমুখী দালালের চমৎকারিত্বও জনমনে প্রতিষ্ঠিত।

উপরোক্ত সব ধরনের আবালের সাথেই মাঝে মধ্যে আমার আড্ডা হয়।








লেবেলসমূহ:

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২

লিপ্সা

তারপর তার আর খোঁজ নেই 

কত পূর্ণিমায় সরীসৃপেরা সঙ্গমে মাতলো

কাকের বাসায় কত ছানা ফুটলো কোকিলের

কত বর্ষার অলস সময়ের ভালোবাসা জানান দিতে 

গ্রীষ্মে চোখ মেললো মানব শিশু 

কত ফুল ঝরে গিয়েও

মধুর পাত্রে রেখেছে অস্তিত্ব 

তবু তার খোঁজ মেলেনি

কারণে-অকারণে খুঁজছি কতোই

খোঁজ মিলছেই না কিছুতে

তবু কেন যে লোকে বলে,

খুঁজলে নাকি মেলে! অথচ

সেই মনের অভিব্যক্তি দেখা হচ্ছেই না আর।


লেবেলসমূহ:

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

ঘুড়ি



চলো নীল চশমায় পেড়ুই অনেক অনেকটা পথ

থাকুক না হয় মৌলিক অসঙ্গতি প্রচুর তবু

ভুলে যেতে চাই গণিত, হিসাববিজ্ঞান, নীতিশাস্ত্র 

অমিত চাওয়ার যৌথ মননের বিধানে আমরা 

জোছনায় ভিজে পরস্পরের উষ্ণতায় শুকাবো

নিঃশ্বাসের ঘ্রাণে অবলীলায় বাতিল করে দেব

যাবতীয় সুগন্ধির মোহ চিরতরে, পরস্পরের

দেহের ভাঁজের মিলনে তুমুল উৎসব চলবে

নিশ্চিত ব্যর্থ হবো জেনেও জোর করে 

থামিয়ে দিতে চাইবো পৃথিবীর সময়-জ্ঞান 

তবু দুরন্ত ঘোড়ায় চেপে বইবে সময় লাগামহীন 

অনতিপর পরস্পরের সামাজিক নির্বাসন দণ্ডে

ভালোবাসার অধ্যবসায়ে নাটাই ধরবো 

অমিত ঘুড়ির সুতো টেনে-ছেড়ে ফের

হাতে আসবে দ্বৈত স্বত্বার কাঙ্ক্ষিত ঘুড়ি।



লেবেলসমূহ:

শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২২

যদি জানতাম

 



কোথায় যে থাকো তুমি

কেমন করে যে থাকো

যায় না দেখা,যায় না ছোঁয়া

না পাই সাড়া তবু

কেমন করে যে আছো

খটকা লাগে,দ্বিধায় ডুবি বড়ো!


ফোনবুক,ইনবক্স,সোশ্যাল মিডিয়া

উপহার সামগ্রী আরো কতকিছু

থেকে মুছেছি,ভাসিয়েছি জলে

সাবান-শ্যাম্পু-জলে ধুয়েছি শরীর

কড়া পানিতে ধুয়েছি ভেতর

তবু কেমন করে যে আছো আজো!


যদি জানতাম, যদি পেতাম তবে

গুড়িয়ে দিতাম, ছাই করে ফেলতাম !

কেউ হয়তো পাশে থাকে শেষতক

কেউ হয়তো পাশে থেকেও থাকে না

কেউ হয়তো কোনদিনি থাকেনি পাশে

আবার কেউ হয়তো পাশে না থেকেও

থেকেই যায় যেন কিভাবে !

এখনো যে তুমি কিভাবে আছো

কোন্ গহীনে, কোন্ সে পুরে

যদি জানতাম, যদি পারতাম ...!

লেবেলসমূহ:

রবিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২২

বাম হাত


ততোদিনে আমাদের আত্মস্থ হয়েছে

'হেলাল হাফিজ', চিনেছি মিছিল, লাল শাড়ি

চিনেছি কষ্ট, উজ্জ্বল প্রেম, অনুরাগ

আরো কিছুর সাথে চিনেছি বাম হাত ।

বৃষ্টিমূখর এক দুপুরে

তোমার বাম হাতে রেখে

আকাঙ্ক্ষা, আস্থা, প্রেম, জীবন

তুলে দিয়েছিলে আমার হাতে ।

পেড়িয়ে গেছে অগুন্তিদিন, দুই সংখ্যার বছর ।

কেমন আছে জানি হাতখানি

না জানি নখ্গুলো কোন্ রঙে রাঙে

কোথায় জানি অঞ্জলি পাতে

কার্ আঙ্গুলে পূর্ণ করে আন্তঃআনবিক ফাঁক

বিলিকাটে কার চুলে !

মনেপড়ে বাম হাতখানি

একদিন দিয়েছিলে আমার হাতে তুলে ।

লেবেলসমূহ: