মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২

প্যারাডক্সিক্যাল কবিতারা


১.

প্রেম

১৪'র প্রেম ২৪'শে এসে

আমাদের সাধারণত পাল্টে যায়

৩৪'শে এসে সেটাও ফিকে হয়

৪৪'শে এদিক-ওদিক নতুনত্বে চোখ টাটায়

৫৪'তে কারো কারো ভীমরতি থাকে

৬৪'তে সেসবকিছুকেই পাপ মনে হয়

আর আমরা অত্যাধিক দেবতাপ্রেমী হয়ে উঠি

৭৪'এর আগে বা পরে জীবন সমাপ্তি টানলেও

প্রেমকে আর জানা-বোঝা হয়ই না যেনো!



২.

থাক, আর গভীরে না যাই

বিছানায় আমরাও চুড়ি ভেঙেছি

ক'বার

এরপর ... 

থাক, আর গভীরে না যাই

পরিবেশ সুন্দর থাকা জরুরী

যদিও অচল প্রেমের সচল পদ্যরা

ঘুমিয়ে যায়নি আজো।


রক্তের টিপ পরেছে বিছানা

সেও ক'বার

তারপর ...

থাক, আর গভীরে না যাই

পরিবেশ সুন্দর থাকা জরুরী

যদিও কখনো তন্দ্রাছন্নতায় মনে হয়

এখনো জীবন্ত সে মূহুর্ত।


একই জলে স্নানও করেছি দু'জন

ক'বার

শেষমেষ ...

থাক, আর গভীরে না যাই

পরিবেশ সুন্দর থাকা জরুরী

যদিও কেউ কেউ কিছু ভাবলেও

আমাদের প্রেম পবিত্র ছিল।



৩.

কোন একদিন 

একদিন জনসন্মুখে আমিও

সরল ভাবে বলবো,

আমার কোনকালে কারো সাথে

প্রেম ছিলো না নিরেট বন্ধুত্ব ছাড়া।


একদিন আমিও সামাজিক মাধ্যমে

পোষ্টিয়ে জানান দেবো,

বিরহের গান ভাল্ লাগলেও

বাস্তবজীবনে তার অস্তিত্ব নেই।


মনে অনুতাপের খোঁচায় 

কবিতা এলেও

একদিন আমিও বলবো,

সব লেখাই জীবনঘনিষ্ট নয়।



৪.

জয়ধ্বনি

চারদিকে কেবল আঁধারময় শূণ্যতা খেলে আমার

কখনো ধরি কি ধরি না, কেমন যেন

তবু নিয়তিকে একহাত দেখে নেব বলে

একদিন প্রত্যাশা প্রাপ্তির যুদ্ধে নেমেছিলাম

মন একদমই বসে থাকিনি

পায়চারি, হাঁটাহাঁটি, দৌড়েছেও!

একদিন দৌড়াতে দৌড়াতে দেখি

হঠাৎ রাস্তাটা উঠে গেছে উপরে

সেখানে উঠে দেখি সামনে রাজ্যের শূণ্যতা

পেছনে কি সামনে চোখে নেইনি কিছু

পেছেন ফিরে হেঁটে এসে শুনি

যেখানে থেমেছিলাম তারপর থেকে

মসৃন ঢাল নেমে গেছে তার দরজায়

আর ততোখনে হয়ে গেছে অন্যজনের জয়ধ্বনি।



৫.

জাতিস্বর 

মানুষ একাধিকবার মরে

জন্মেও তেমন।

আমি খুন হয়েছিলাম

সেই খুনি প্রাণের মানুষ ছিলো

তার আত্মহত্যার পর জন্ম নিয়েই

খুন করেছিল;

আমিও জন্মেছি ফের।

জাতিস্বর হলেও কেউ কাউকে নিয়ে

বিশেষ করে ভাবি না একদম।



৬.

আপডেট ভার্সন

হয়তো আরো

২৫, ৫০, ১০০ বছর চর্চিত হবো

তারপর আর না, জানি।

ক্ষতি কী!

ততোদিনে ফের এসে যাবো

আপডেট ভার্সনে আমি।



৭.

বৃষ্টি 

সকাল বেলা ফুলটা হেলেদুলে

তুমুল হাসছিল আনন্দে, শেষে 

হাওয়ার সুরে গাইলো গান।

.

.

.

কিছুপরই ফুলটা গেল ক্ষানিকটা ঝুঁকে

আর কিছুক্ষণের মাঝেই

বুক গড়িয়ে পড়লো ক'ফোঁটা জল।

.

.

.

দুই ঘটনার মাঝে বৃষ্টি হয়েছিল। 



৮.

চতুষ্পদ

হাওয়ারা তোর স্পর্শ দিয়ে যায়

ঠেলে দেয় ভাবনার বিচ্ছুরণে

সুপ্ত কুঁড়িরা ফেটে ওঠে আড়ম্বরে

ক্রমে বন্ধসময়ে ভাব যমুনায় অবগাহন

মন্থন শেষে অমৃত পানে আচমকা

স্তব্ধ বাতাস, ঝাকুনি তোলে শরীর

যমুনার বুকে লুটায় অমৃত, আর

দেখি, গা ঘেঁষে বসেছে চতুষ্পদ!



৯.

দুঃখ 

আমৃত্যু আক্ষেপ আমার

তোমায় হারিয়ে।

হারিয়েছে কতোকিছুই

তবু স্মৃতির দলিল হয়ে

তুমি ছিলে চোখের সীমানায়

 হাতে

     জঙ্ঘা কিংবা

            বুক পকেটে।

হায় মুঠোফোন!



১০.

কষ্ট 

ব্যথাটা ভোগায় গো বড়

মহীরুহের মতো ছড়িয়েছে

উপরে


নীচে


ডানে-বামে

উৎস খুঁজতে বিভ্রান্ত করে!


দাঁতগুলো এবার যাবেই বুঝি।



১১.

বদলে যাওয়ার গল্প

একটু একটু করে বদলে গেছে

আমার শহর চোখের সামনে,

বদলেছে আমার চারপাশও।

ভরাট হয়েছে শান বাঁধানো পুকুর,

মেদ জমে শিশু-তরুন-প্রবীণ শরীরে।

দেয়াল উঠেছে ছোট্ট খেলার মাঠে,

শিশুরা কোলাহল ছেড়ে ঝিম ধরেছে ভিডিও গেমে।

উপড়ে ফেলেছে ছায়া বিলানো মহীরুহ,

বাস্তুচ্যুত পাখির কান্না শোনে কেবল বাতাস।

পরিবেশবাদী দাঁড়িয়েছে প্রতিবাদে

বাকি নাগরিক সমাজ ঘুমিয়েছে রুটিন মাফিক।

প্রশাসন ব্যস্ত থেকেছে উন্নয়নে

দ্বিগুন তালে বেড়েছে জঞ্জালের স্তূপ।

পুরোনো স্থাপত্যশৈলীর বাড়িগুলোও

একটু একটু করে চৌদ্দ তলা পেড়ুচ্ছে,

হাঁটার রাস্তা দখল করে ধীরে চলে গাড়িরা।

চারদিক ধীরে ধীরে নির্দয় জমকালো

করেছে দেমাগী সভ্যতা,

সেসব ইতিহাস আমার দৃশ্যপটে।

একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে সব

আর তুমি কেমন বদলে গেলে হুট করেই!




১২.
পান খাওরি মেয়ে

তোমার অমন মাখন মাখা মুখ, কাজল আঁকা মায়াবী চোখ, পাতলা রঙিন ঠোঁট আর তার উপর নিঃসঙ্গ তিল এ-সব যে তোলপাড় শুরু করলো তোমাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য! সে-সব ম্লান হয়ে গেল, যখন হাসলে আর বেড়িয়ে এলো তোমার লাল-সাদা দাঁত!




১৩.
সিকোয়েন্স

জোকার শূন্য আমার হাত তবু পরের ধাপেই মিলে যাচ্ছিলো কাঙ্ক্ষিত লাইন। হঠাৎ তোমার হাতের একচোখা জোকার কাটলো আমায়! তার হাতের দুইচোখা জোকার তোমায় নিলো তুলে। গেম ওভার। দারুণ কুয়াশায় মিলিয়ে গেল কাতর দীর্ঘশ্বাস। সবাই দেখলো, হাস্যজ্জল মুখে তোমাদের চার হাতে উঁচিয়ে ধরা ট্রফি। 




১৪.
সমীকরণ 

(প্রথম পক্ষ)
এপাড়ে এত এত আলো, ওপাড়ে অন্ধকার। 

(দ্বিতীয় পক্ষ)
এপাড়ে কত কোলাহল, শান্ত ও স্থির ওপাড়।

(তৃতীয় পক্ষ)
নদীর দুই পাড়ের দুঃখ সমান।




১৫.
স্বপ্ন 

চেতনে কতো স্বপ্ন বুনি
অবচেতনে স্বপ্ন দেখি 
গোলাপী রঙের ছাদ
হলুদ রঙের দেয়াল
সবুজ রঙের বেডশীট
বেগুনী রঙের চাদর
বর্ণীল ঘর তোমার আমার
হঠাৎ করেই চেচিয়ে ওঠে ঘড়ির কাঁটা
পাখা মেলে সতর্ক চড়ুই
আমার কেবল তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখা।




১৬.
বহুরুপী সত্যি 
ওপেন মার্কেটে চাউর, আমরা পারস্পরিক সমঝোতায় আজ আলাদা।
ডীপ মার্কেটের খবর, আমিই সরে এসেছি।
ডার্ক মার্কেটে কেবল তুমি-আমিই জানি, তুমি কি করেছিলে।




১৭.
রাজনীতি 
স্বাধীনতার পক্ষে থাকতে গিয়ে
চলুন একটু নিঃলজ্জ হই;
নাঙ্গল মার্কায় গলা ফাটিয়ে
চলুন শহীদ নূর হোসেন আর
ডাঃ মিলন দিবস স্মরণ করি।




১৮.
ভ্রমের খেসারত 

মানুষ ইচ্ছাকৃতই ভ্রমে পড়ে কখনো কখনো। ছেলেবেলায় কতোবার যে মা-বাবাকে নিজের মতো পরিচালনার চিত্রকল্প গড়ে! করে, ইচ্ছে মাফিক স্বপ্নের বিদ্যাপীঠে আনন্দ পাঠ! সাফল্যের সিঁড়ি তরতরিয়ে ডিঙিয়ে 
দাপাতে চায় কাঙ্ক্ষিত ভূবন ।
কিশোর তুমুল প্রেমে পড়ে মায়া হরিণীর আর কিশোরী আবেগী রাজহাংসের। অনটনে দশ টাকার নোটটা'কে 
একহাজার টাকা ভাবার ইচ্ছেকৃত ভ্রমটাও ক্ষণিকের আনন্দ দেয়। 
তুমি কখন যে বদলালে হাত বোঝার সুযোগই পেলাম না,
আমি যেন কিসের ভ্রমে ছিলাম!




১৯.
রেখার সমীকরণ 

হাতের যে রেখাটা জানান দিতো
তুমি পার্থিব,
অসতর্কতায় কেটে ফেলেছি তা!

একমুঠো ব্যাথা বয়ে কিছুদিন,
চেতন আর অবচেতনে আরো কিছুদিন
পেড়িয়ে জেগেছে নতুন রেখা।

আরো স্পষ্ট, আরো পুষ্ট সে;
কে জানে
একি ব্রহ্ম না বিভীষণ!



২০.
হার

সবাই কমবেশি হারেই তো জীবনের কাছে
আমিও হেরেছি অনেক!
তারপর, অভিমান থিতু করে
বদলেছি নিজেকে।
কী ভাবো, খুব কি জিতে গেছো?
আমার ভিজে জবজবে জীবন
তাপ না পেলেও হাওয়ায় শুকায়।



২১.
হাত বদল 

ঘুমের ঘোরে হাত থেকে
খসে পড়েছিলো তোমার হাত
আমাদের অজান্তেই,
তুলে নেবার লোকের অভাব
ছিলো না কোন কালেই।
ঘুম ভেঙ্গে দেখি,
বদলে যাওয়া হাতেই
সপে দিয়েছো সব!



২২.
খটকা

মাকড়সা মন জাল বুনে 
বসে থাকে 
ক্ষণে ক্ষণে সুতো ছেড়ে 
নেমে যায়, পারে কই আর 
উঠে আসে ফের 
তুমি'টা আটকালে কি?



২৩.
জ্ঞাতার্থে  

হৃদয়ে পুতে দিয়েছিলে স্বপ্নের বীজ
যত্ন-আত্তি যেমন-তেমন
তুমি মুখ ফেরালেও
এখন সে মহীরুহ।
কেবল ফুলের গন্ধই চিনলে, ছুটলেও!
বেল পাতায় সুগন্ধ থাকে।



২৪.
প্রাক্তন 

ঘুরিয়ে নিলে চোখ।
চলামান ভালোবাসার চাদরে 
ঢেকেছেতো ক্ষত? 
আমি দুঃখিত। 
ভুলে যেও
দেখা হয়েছিলো এক'পলক।



২৫.
হিসেবি অভিনয় 

অনেক অসুখ নিয়ে সুখের 
ভান ক'রে বেড়াই; 
এতো অভিনয় ক'জন করে জানি না।
অনেকের হিসেবেই ভালো নেই 
আর আমারতো হিসেবের
সময়ই হলো না আজো!



২৬.

আবাল ও আমি

যতই পোষাক আষাক শরীরে লাগাক কলা খাবার ধরন দেখেই যেমন অনুমান হয়ে যায় স্মার্টনেস, তেমনি কোন কোন  রাজধানীবাসীর ক্যাজুয়াল ভাবের সোদন দেখে মনে হয় লন্ডন থেকে আসছেন! জুতা কে আলমারি বলা আলবিলাতি জ্ঞানী চারপাশে ভরপুর। শৈল্পিক ধান্ধাবাজ থেকে বহুমুখী দালালের চমৎকারিত্বও জনমনে প্রতিষ্ঠিত।

উপরোক্ত সব ধরনের আবালের সাথেই মাঝে মধ্যে আমার আড্ডা হয়।








লেবেলসমূহ:

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]

<< হোম