প্যারাডক্সিক্যাল কবিতারা
১.
প্রেম
১৪'র প্রেম ২৪'শে এসে
আমাদের সাধারণত পাল্টে যায়
৩৪'শে এসে সেটাও ফিকে হয়
৪৪'শে এদিক-ওদিক নতুনত্বে চোখ টাটায়
৫৪'তে কারো কারো ভীমরতি থাকে
৬৪'তে সেসবকিছুকেই পাপ মনে হয়
আর আমরা অত্যাধিক দেবতাপ্রেমী হয়ে উঠি
৭৪'এর আগে বা পরে জীবন সমাপ্তি টানলেও
প্রেমকে আর জানা-বোঝা হয়ই না যেনো!
২.
থাক, আর গভীরে না যাই
বিছানায় আমরাও চুড়ি ভেঙেছি
ক'বার
এরপর ...
থাক, আর গভীরে না যাই
পরিবেশ সুন্দর থাকা জরুরী
যদিও অচল প্রেমের সচল পদ্যরা
ঘুমিয়ে যায়নি আজো।
রক্তের টিপ পরেছে বিছানা
সেও ক'বার
তারপর ...
থাক, আর গভীরে না যাই
পরিবেশ সুন্দর থাকা জরুরী
যদিও কখনো তন্দ্রাছন্নতায় মনে হয়
এখনো জীবন্ত সে মূহুর্ত।
একই জলে স্নানও করেছি দু'জন
ক'বার
শেষমেষ ...
থাক, আর গভীরে না যাই
পরিবেশ সুন্দর থাকা জরুরী
যদিও কেউ কেউ কিছু ভাবলেও
আমাদের প্রেম পবিত্র ছিল।
৩.
কোন একদিন
একদিন জনসন্মুখে আমিও
সরল ভাবে বলবো,
আমার কোনকালে কারো সাথে
প্রেম ছিলো না নিরেট বন্ধুত্ব ছাড়া।
একদিন আমিও সামাজিক মাধ্যমে
পোষ্টিয়ে জানান দেবো,
বিরহের গান ভাল্ লাগলেও
বাস্তবজীবনে তার অস্তিত্ব নেই।
মনে অনুতাপের খোঁচায়
কবিতা এলেও
একদিন আমিও বলবো,
সব লেখাই জীবনঘনিষ্ট নয়।
৪.
জয়ধ্বনি
চারদিকে কেবল আঁধারময় শূণ্যতা খেলে আমার
কখনো ধরি কি ধরি না, কেমন যেন
তবু নিয়তিকে একহাত দেখে নেব বলে
একদিন প্রত্যাশা প্রাপ্তির যুদ্ধে নেমেছিলাম
মন একদমই বসে থাকিনি
পায়চারি, হাঁটাহাঁটি, দৌড়েছেও!
একদিন দৌড়াতে দৌড়াতে দেখি
হঠাৎ রাস্তাটা উঠে গেছে উপরে
সেখানে উঠে দেখি সামনে রাজ্যের শূণ্যতা
পেছনে কি সামনে চোখে নেইনি কিছু
পেছেন ফিরে হেঁটে এসে শুনি
যেখানে থেমেছিলাম তারপর থেকে
মসৃন ঢাল নেমে গেছে তার দরজায়
আর ততোখনে হয়ে গেছে অন্যজনের জয়ধ্বনি।
৫.
জাতিস্বর
মানুষ একাধিকবার মরে
জন্মেও তেমন।
আমি খুন হয়েছিলাম
সেই খুনি প্রাণের মানুষ ছিলো
তার আত্মহত্যার পর জন্ম নিয়েই
খুন করেছিল;
আমিও জন্মেছি ফের।
জাতিস্বর হলেও কেউ কাউকে নিয়ে
বিশেষ করে ভাবি না একদম।
৬.
আপডেট ভার্সন
হয়তো আরো
২৫, ৫০, ১০০ বছর চর্চিত হবো
তারপর আর না, জানি।
ক্ষতি কী!
ততোদিনে ফের এসে যাবো
আপডেট ভার্সনে আমি।
৭.
বৃষ্টি
সকাল বেলা ফুলটা হেলেদুলে
তুমুল হাসছিল আনন্দে, শেষে
হাওয়ার সুরে গাইলো গান।
.
.
.
কিছুপরই ফুলটা গেল ক্ষানিকটা ঝুঁকে
আর কিছুক্ষণের মাঝেই
বুক গড়িয়ে পড়লো ক'ফোঁটা জল।
.
.
.
দুই ঘটনার মাঝে বৃষ্টি হয়েছিল।
৮.
চতুষ্পদ
হাওয়ারা তোর স্পর্শ দিয়ে যায়
ঠেলে দেয় ভাবনার বিচ্ছুরণে
সুপ্ত কুঁড়িরা ফেটে ওঠে আড়ম্বরে
ক্রমে বন্ধসময়ে ভাব যমুনায় অবগাহন
মন্থন শেষে অমৃত পানে আচমকা
স্তব্ধ বাতাস, ঝাকুনি তোলে শরীর
যমুনার বুকে লুটায় অমৃত, আর
দেখি, গা ঘেঁষে বসেছে চতুষ্পদ!
৯.
দুঃখ
আমৃত্যু আক্ষেপ আমার
তোমায় হারিয়ে।
হারিয়েছে কতোকিছুই
তবু স্মৃতির দলিল হয়ে
তুমি ছিলে চোখের সীমানায়
হাতে
জঙ্ঘা কিংবা
বুক পকেটে।
হায় মুঠোফোন!
১০.
কষ্ট
ব্যথাটা ভোগায় গো বড়
মহীরুহের মতো ছড়িয়েছে
উপরে
নীচে
ডানে-বামে
উৎস খুঁজতে বিভ্রান্ত করে!
দাঁতগুলো এবার যাবেই বুঝি।
১১.
বদলে যাওয়ার গল্প
একটু একটু করে বদলে গেছে
আমার শহর চোখের সামনে,
বদলেছে আমার চারপাশও।
ভরাট হয়েছে শান বাঁধানো পুকুর,
মেদ জমে শিশু-তরুন-প্রবীণ শরীরে।
দেয়াল উঠেছে ছোট্ট খেলার মাঠে,
শিশুরা কোলাহল ছেড়ে ঝিম ধরেছে ভিডিও গেমে।
উপড়ে ফেলেছে ছায়া বিলানো মহীরুহ,
বাস্তুচ্যুত পাখির কান্না শোনে কেবল বাতাস।
পরিবেশবাদী দাঁড়িয়েছে প্রতিবাদে
বাকি নাগরিক সমাজ ঘুমিয়েছে রুটিন মাফিক।
প্রশাসন ব্যস্ত থেকেছে উন্নয়নে
দ্বিগুন তালে বেড়েছে জঞ্জালের স্তূপ।
পুরোনো স্থাপত্যশৈলীর বাড়িগুলোও
একটু একটু করে চৌদ্দ তলা পেড়ুচ্ছে,
হাঁটার রাস্তা দখল করে ধীরে চলে গাড়িরা।
চারদিক ধীরে ধীরে নির্দয় জমকালো
করেছে দেমাগী সভ্যতা,
সেসব ইতিহাস আমার দৃশ্যপটে।
একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে সব
আর তুমি কেমন বদলে গেলে হুট করেই!
আবাল ও আমি
যতই পোষাক আষাক শরীরে লাগাক কলা খাবার ধরন দেখেই যেমন অনুমান হয়ে যায় স্মার্টনেস, তেমনি কোন কোন রাজধানীবাসীর ক্যাজুয়াল ভাবের সোদন দেখে মনে হয় লন্ডন থেকে আসছেন! জুতা কে আলমারি বলা আলবিলাতি জ্ঞানী চারপাশে ভরপুর। শৈল্পিক ধান্ধাবাজ থেকে বহুমুখী দালালের চমৎকারিত্বও জনমনে প্রতিষ্ঠিত।
উপরোক্ত সব ধরনের আবালের সাথেই মাঝে মধ্যে আমার আড্ডা হয়।
লেবেলসমূহ: কবিতা


0টি মন্তব্য:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]
<< হোম