বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

কথোপকথন - ৩



 


 ১.

কথোপকথনঃ প্রায় প্রেম


- আর কিছুদিন গেলে

   তোমার প্রেমে পড়েই যেতাম বোধহয়। 

- পড়েননি বুঝি?


- যতটুকু পড়েছিলাম তাতে

  ডুবে হাবুডুবু খাওয়ার সুযোগ ছিল না। 

- অনুমতি না নিয়ে পড়েছিলেন যে!


- বাহ্ রে! প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিষেধ ছিল কি?

- জ্ঞাত না করা নৈতিকতা বিরুদ্ধ কি-না।

   যাইহোক, আর কেউ কি জানতো?


- চিপসের প্যাকেটের মতো ফুলিয়ে প্রেম

   সবাই কি দেখাতে পারে?

- উঁরি বা-বা!



২.

কথোপকথনঃ ধাক্কা 


- তোমাকে যদি মেরে ফেলতে চাই

  পারবে নিজেকে বাঁচাতে?

- আমি তো আজকাল মশাদের সাথেই

  পারি না, ফের তোমার সাথে ...! 


- তবে মেনে নেবে আমার হাতে মৃত্যু? 

- তোমার হাতে মরে যেতে আপত্তি নেই।

  যদি সে খুন ঠান্ডা মাথায় হয়, তবেই দুঃখ।

  মৃত্যুর পরেও অস্বস্তি ।


- তোমার আত্মা স্বর্গবাসী না হয়ে

  ঘুরবে বুঝি আমার চারপাশে? 

- ভাবছি। 


- কি ভাবছো?

- কত কত সুন্দরীই তো অস্বাভাবিক মরলো।

  তাদের সাথে দেখা হয়ে যায় যদি?


- দেখা তো হতেই পারে।

- তুমিও বলছো?


- হুম।

- তাহলে অযথা তোমার চারপাশে না ঘুরে

  তাদের সাথেই না হয় ... 


- কি?

- ওই আর কি।


- কি সেটা?

- এই ধরো ইটিস-পিটিস। 


- আহা! কি খুশির বিষয়। তাহলে

  আমি আর পুলিশি ঝামেলায় না জড়াই।

  আগাম শুভকামনা। এখনি একটা কড়া

  কীটনাশকের বোতল এনে খেয়ে ফেল।

- বাহ্ রে!

  আজাইরা মরামরির কাহিনি শুরু করলে তুমি

  আর নিজেকেই মারবো আমি?


- তোমার নিভৃত কামনার জন্যই সোনা।

  সুন্দরীদের প্রতি কি ভীষণ লোভ তোমার!

- উঠছো যে?


- আগ্রহ শেষ। তোমাকে জানা হয়ে গেছে।

  বিদায়। 

- বাহ্ রে! আমাকে দিয়ে গর্ত খুড়িয়ে 

  আমাকেই ধাক্কা? এই-এই, দাঁড়াও...! 



৩.

 কথোপকথনঃ লাইটার


- এই যে, কি খবর?

- পর সংবাদ এইযে, ফুসফুসের ১১ টা প্রায় বেজে গেছে।


- ১৪ টা বাজলে জানিও।

   অনলাইনে একটা সাদা শাড়ি অর্ডার করবো।

- ত্যাড়ামো আরো বেশি করো, যতটা করলে

   মেজাজটা সেই পরিমাণ বিগড়ে যায়। কেমন?


- ওমা... কি সেক্সি কথা!

   ওই গু' খেয়ে ভাব ধরবে আর দোষ হবে আমার?

- আমার খাওয়া-খাউয়ির রুচি নষ্ট হতে বসেছে।

   ভাবছি এখন থেকে তোমার চুলের গন্ধ মাখা বাতাস

   সজোরে নেব শুধু ফুসফুসে।


- হয়েছে, হয়েছে।

  তুমি যে সেই একই জিনিস জানা আছে। 

- মাঝেমাঝে ভাবি, তোমার মত আর কে বুঝবে আমাকে!

   আচ্ছা, তোমার পার্সে লাইটারটা এখনো আছে?



৪.

কথোপকথনঃ ছিপি আঁটা বোতল


- ইদানীং নষ্ট হতে ইচ্ছে করে।

- সত্যিই করে?


- খুবই। 

- হচ্ছোনা কেন?


- উদ্যোগী হই কখনো কখনো, তবু

 যেই মোবাইল স্ক্রিনে ভেসে ওঠো তুমি

 অমনি সিন্দাবাদের জাহাজের খালাসীকে

 কিছু নজরানা দিয়ে নষ্ট ইচ্ছেদের

 ছিপি আঁটা বেতলে ভরে

 দিয়ে দিই মাঝ সমুদ্রে ফেলে দিতে। 

- তবে আর ইচ্ছে হয় কেন?


- হবে না বুঝি?

 তোমার পকেট ভর্তি সময়ের খুচরো

 কয়েন আর নোট, অথচ আমি চাইলেই ...! 

- পাও না বুঝি?


- জোটে তো কেবল শিকি-আধুলি,

 নোটগুলো কারা পায় কে জানে।

- এতো লোভ কেন শুনি?


- বাহ্ রে! শুভঙ্করের ডাকাত হতে ইচ্ছে হলে

  আমার বুঝি ভিক্ষুক হতেও মানা?



৫.

কথোপকথনঃ গোলযোগ


- ভালোবাসো?

- তুমুল!


- হুহ!

- এমন হলে তো আমার কিছু কথা শুনতে।

- বাহ্ রে!

  খায়েশের লম্বা চুলে কাঁচি চালালে।

  আয়েশের মাঝ সিঁথি পাল্টে একপাশে

  এসেছি। বিষকাঠি ছাড়ি ছাড়ি বলে।

  সিঙ্গেল মেয়েদের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক

  ছেড়েছি। পাইপ লাইনে আরো কত্ত কিছু!

  তারপরও এমন টা বললে?


- কতোটা ছেড়েছ শুনি?

  তুমি ৬ ফুটের ছেলে, যে লম্বা চুলে মানাবে

  আর মাঝখানে সিঁথি কাটলে

  কি বিরক্তিকর লাগে বোঝো?

  যেটা ছাড়ি ছাড়ি করছো সেটা পুরোপুরি

  ছাড়ার বর্ষপূর্তিতে আমাকে জানিও

  সাড়ম্বরে উদযাপন করবো। আর

  'স্বাভাবিক সম্পর্ক' কি জিনিস?

  তোমার ক'জন বন্ধুই তো নাকি

  একসাথে ৪/৫টা প্রেম করে।

  তোমার ক্ষেত্রেই বা রিক্স নেব কেন?

- বাপরে বাপ! তুমি একটা ... 


- কি? যা-তা? বেশ, আপাতত তোমার সাথে

  কোন কথা নেই। 

- এটাই হয়, গোলোযোগ মাঝ সমুদ্রে

  আর আমার চালে ঝড়!



৬.

কথোপকথনঃ ঘুম


- শোনো, ঘুম পেয়েছে।

- আমার সাথে কথা বলতে এলেই 

  বুঝি তোমার চোখে ভর করে রাজ্যের ঘুম?


- কি করবো বলো? 

   তোমার কথাগুলোই যে এমন

   যেন সোনার কাঠি-রুপোর কাঠির শিল্পীত বিন্যাস!

   জেগেই তো থাকি জাগতিকতায় সারাটাদিন 

   ক্লান্তি আর বিরক্তির বিষাদে খিটিমিটি মনে

   কামনা করি তোমারই ফোন কল। 

- তারপর?


- তোমার কথারা যেন রুপকথার উড়ন্ত চাদর

   আমায় নিয়ে ভেসে চলে হাওয়ায় আর

   খসে পড়তে থাকে ক্লান্তি ও বিষাদেরা

   মেঘেরা পাফ করে চলে সুখ আর

   বুজে আসে চোখ আমার নিবিড় প্রশান্তিতে।

.

.

.

- বেশ বিভ্রান্তিকর সমীকরণ আমার জন্যে।

   যাইহোক, তারপর?

   হ্যালো। হ্যালো...!

   ঘুমাও তবে।

   আমার কাছে সব দেয়ালই ভালোবাসা পরিবাহী।



৭.

কথোপকথনঃ

ফোনের এপাড়-ওপাড়ে প্রেম


- প্রিয় দূরদ্বীপ বাসিনী, কেমন আছো?

- তোমাকে ছাড়া বড় অসহ্য বেঁচে থাকা

   কানকোয় কাতরিয়ে ডাঙা পেরুনো কইয়ের মতোন

   যেন একা একা বাতাসে ভেসে বেড়ানো অতৃপ্ত আত্মা

   কোণা ছেঁড়া ক্রমাগত পাঁক খাওয়া ঘুড়ির মতো

   ভাবনারা পাঁক খায় কেবল ক্যালেন্ডার জুড়ে!

   তুমি কবে আসবে?

   আমাকে ছাড়া কিভাবে থাকো তুমি?

   কেমন আছো আমিহীন?


- একলা শালিকের বিষন্নতায় কাটে রাত্রিদিন।

   কিভাবে যে থাকি, যদি দেখতে!

   মাঝে মাঝে ভাবি

   হতো যদি তারাগুলো

   এক বাল্ক এস.এম.এস. তোমার,

   চাঁদটা জুম ইনে তোমার মুখ,

   আকাশ হতো থ্রিডি স্ক্রিন যেখানে

   আমার জন্যই লাইভ টেলিকাস্ট হবে

   তোমার ইন আর আউট ডোরের গোটা দিন!

- পাগল!

   জানো, চোখ বুজলে আমার চোখ জুড়ে একঝাঁক

   প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়! চোখ মেললে, ছয়দিক জুড়ে

   নস্টালজিক রুক্ষ পরিবেশ স্মিত হাসে!

   কেমন করুন সুর বয় হাওয়ায় আর চতুর কোকিলটাও

   ঝিমোয় পেঁচার মত!


- আমারও কি যে হয়!

   প্রচন্ড শীতের মত নিরবতা নেমে আসে।

   এতযে স্যাটেলাইট মাথার উপর, চারপাশে কত রাডার

   আর শুভাকাঙ্ক্ষীর দল, জানাতে পারে না কিছুই!

   কবে যে থাকবে জামার মতোন জড়িয়ে শরীর?

- রসুন বোনা শেষ, আসছে মাড়াইয়ের দিন।

   মৃত্যুর নামক অমোঘ সত্যিটা তোমার বুকেই হোক।



৮.

কথোপকথনঃ প্রস্তাব 


- এইযে শুনুন? একটু কথা বলতে পারি?

- ভদ্রতা বজায় রাখতে পারলে বলুন।


- এই যা!

  হিসেব-নিকেশের মাঝে ফেলে দিলেন।

- কেমন হিসেব-নিকেশ?


- অলরেডি হিসেব-নিকেশ শুরু হয়ে গেছে।

  বলছি একটু পর।

  এই ফাঁকে আপনার নামটা জানতে পারি?

- এরপর কি মুঠোফোন নাম্বার চাইবেন?


- ওরে বাবা! আপনি তো হিসেব-নিকেশের

  সময় আরও বাড়িয়ে দিলেন।

- আমি আর কি করলাম, বাড়াচ্ছেন তো আপনি।


- মাপ করবেন। আপনার সম্পর্কে আমার

  আর কিছু জানতে চাওয়ার নেই। 

- আশ্চর্য! আপনি এত ভালো মানুষের ভান

  ধরছেন কেন? আমার পুরো বায়োডাটা 

  জানবেন না?


- জনাব, দরকার নেই। কথাটা শুরু

  করার জন্যে আমিই না হয় আপনার

  একটা নতুন নাম দিই?

- তারপর আকিকার জন্যে ডিনারের ইনভাইট করবেন? 


- দেখেও বোঝেন না! পকেটে এত তেল নেই।

   সো এতটা বিরক্ত হবেন না প্লিজ। 

- আচ্ছা। কি নাম শুনি?


- রুপা।

- হুমায়ুন আহমেদ এর উপন্যাসের চরিত্র?


- হুমায়ুন আহমেদ পড়তে পছন্দ করেন?

- খুব।


- তাহলে নামটির অনুমোদন দিচ্ছেন? 

- রুপা চরিত্রটি আমার পছন্দের।

  তাই অনুমোদন দিলাম।


- ধন্যবাদ। 

- আমার একটু তাড়া আছে।

  আপনার মূল কথাটি বলুন।


- রুপা, হাত বাড়াবেন? শুভ্র হবো।



৯.

কথোপকথনঃ শ্রাবণ


- আমার একহাতে দহন আরেক হাতে শ্রাবণ

   কোন্'টা নেবে?

- দহন তবে।


- শ্রাবণ কেন না?

  শ্রাবণ ধারায় পেখম মেলে

  নাচতে পারতো তোমার মন ময়ূরী।

- ওদিকে তোমার হৃদয় রাজ্য পুড়ে খাক হলে

   আমি থাকবো কোথায় শুনি?


- তবে আমিও পুরো শ্রাবণ তোমাকে দিলাম।

  সামলে রেখো, জলে ডুবে মরি না যেন।

- বেহুলার সামর্থ্য আছে জেনো।


লেবেলসমূহ: