বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩

কথোপকথন - ৪

 


১.

কথোপকথনঃ মধু পুরাতন, পাত্র


- তোমার হাতটা দেখি।

- উদ্দেশ্যটা কি? সত্যিই কি জ্যোতিষশাস্ত্র কিছু

  জানা আছে নাকি হাত ধরার বাহানা?


- সত্যিটা বলবো? কিছু মনে না করলে

  বলতে পারি।

- মিথ্যে না বললেই হলো।


- ইচ্ছে করে তোমার হাতদুটো ধরতে।

  সুযোগ আর সাহসের এতো অভাবে

  আর ধরা হয়নি!

- তাই বুঝি?


- অন্য প্রয়োজনে এটা-ওটা বিনিময়ে

  নিজেদের ইচ্ছে-অনিচ্ছে তোয়াক্কা না করে

  যেদিন আঙ্গুলেরা আলতো ছুঁয়ে নেয় পরস্পর

  সেতারের তারে যেন টোকা দিয়ে যায়

  তারও তিন-চার দিন বয়ে চলি সেই ঘোর।

- আজকাল এই চলছে?


- তবে কি ব্রেক কসবো?

- পাবলিক, জেব্রা ক্রসিং, স্পীড ব্রেকার

  দেখে চলা ভালো।


- কাগজপত্র নেই, মামলা খাবার ভয় তো থাকেই।

- ট্রাফিক সার্জেন্ট সদয় হলে ছাড় পেতেও পারেন। 


- যাইহোক, তোমার হাতের রেখা বলছে

   চন্দ্র, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র তোমার চারপাশে ঘিরে। তাই

   সুখে, জ্ঞানে, ধনে, প্রেমে তোমার জীবন পরিপূর্ণ। 

- হয়েছে-হয়েছে। কাছাকাছি এমন কথা বেশ ক'জনই

   বলেছে তাও হাত না ধরেই।


- হতে পারে মধু পুরাতন, পাত্রটা তো নতুন।

- আর কিছুক্ষণ এভাবে থাকলে আশেপাশের লোক

   ভীড় করবে। এবার তো হাতটা ছাড়ুন? 




  

২.

কথোপকথনঃ সেল


- দারুণ একটা খবর আছে।

- তবে যে শুনতেই হয়।


- ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেলে তুলে ধরেছি হৃদয়।

  নেবেন? জিততে না পারলেও

  হারবেন যে না সেটা নিশ্চিত। 

- শুনেছি পুরাতন, আটকে থাকা কিংবা

  অচল জিনিসের নাকি সেল চলে।

  মলে ক্লিয়ারেন্স সাইড দেখলেই

  তার কিছু আভাস পাওয়া যায়। 


- শোনা কথায় কান দেবেন না তো!

  পরখ করে দেখুন না?

- তা পরখের ধরণটা বলুন দেখি?


- কার কেমন করে পরখ করতে

  ভালো লাগে তা কিভাবে বলি!

- জিনিস আপনার তাই আপনিই তো

  ভালো ধারণা দিতে পারেন। তাই না?


- বেচা বিক্রিও যে কি কঠিন ব্যাপার

  সে আপনার মত ক্রেতার সম্মুখীন হলে

  তবেই বোঝা যায়!

- ভালো জিনিস কি আর

  ক্রেতার চোখ এড়ায়।


- যাহ্ বাবা! এমন আগুনে খবরে

  এভাবে পানি ঢেলে দিলেন?

- দিলাম। এরপর

  আরও ভালো করে প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন।




৩.

কথোপকথনঃ অভ্যেস


- সিগারেট একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না? 

- হুম।


- ফুসফুস পোড়াতে ভালো লাগে?  

- একবার তো জানতে চাও না

  কেনো পোড়াই ভেতর?


- আহা! মারাত্মক ভুল হয়ে  গেছে।

  আচ্ছা, কেন?

- মন পোড়ে বলে।


- মন কেনো পোড়ে?

- বিশেষ একজন বোঝেনি বলে।


- সেই বিশেষ একজন বুঝলে মন সারবে?

- সারবে কি? মহাআনন্দে উড়বে!


- তবে মন সারলে সিগারেট বাদ?

- অভ্যেস বদলাতে সময় লাগে না!




৪.

কথোপকথনঃ সমস্যার সমাধান 


- আপনার সমস্যা কি? কখন আসার কথা

  আর কখন আসলেন?

- আগেই বলে রাখছি, আজ একটু

  অন্যমনষ্ক থাকতে পারি। এই ধরুন-

  একটু অসংলগ্ন কথা, কখনো

  অতি উত্তেজনা, হুটহাট দরকারি কাজ

  বা কিছু মিস করা বা ফেলে দেয়া, ইত্যাদি। 


- কেন?

- আজ আপনাকে নিয়ে অদ্ভুত এক

  স্বপ্ন দেখেছি। সেই ঘোর এখনো ছাড়েনি!


- সত্যি করে বলেন তো, এর আগে

  ক'জন কে এমন করে বলেছেন?

- আপনার সামনে গেলেই এক বোকা ভূত

  মাথায় এসে বসে!

  ক্লাস টু'র শিক্ষার্থী মনে হয় নিজেকে

  জ্ঞানী শিক্ষকের সামনে

  যা বলবো তাই বুঝি ভুল হয়ে যাবে! 


- প্রতিদিন আমাকে ক'টা রাউন্ড এবাউট

  পার করতে হয় জানেন?

  সেই আমাকে ইউ ট্রার্ন চেনান! থাক।

  বললেন নাতো, এবার এটা তো বলেন,

  আপনাকে কি বলে সেই মাপের একটা

  ঝাড়ি দেয়া যায়?

- আশ্চর্য! আবহাওয়ার পূর্বাভাস তো

  অন্যরকম ছিল। আমি নিশ্চিত যে কোথাও

  আপনার সমস্যা হচ্ছে। 


- জী, আমার সমস্যা হচ্ছে।

  কিছু অর্ডার করা আছে, খেয়ে বিল মিটিয়ে

  আপনার ঘোরের মাঝেই থাকেন।

  আমি আমার সমস্যার সমাধানে যাচ্ছি।

- আরে... আরেহ্... হচ্ছেটা কি...?




৫.

কথোপকথনঃ ভালোবাসি 


- একবার বলো না 'ভালোবাসি'! 

- তুমি আগে বলো?


- ভালোবাসি, ভালোবাসি। 

- আচ্ছা। 


- কি হলো?

- জানলাম। 


- ভালোবাসি। 

- হুম।


- ভালোবাসি। 

- ঘৃনা করি।


- পারলে এমনটা বলতে?

- ওটাই ভাবলে!

  আমার যে শুনতেই ইচ্ছে করছিল।



৬.

কথোপকথনঃ একদিন সাবেকের সাথে 


- কেমন আছো?

- ভালো-খারাপের হিসেব করতে

  ইচ্ছে করে না।


- প্রেম, বিয়ে কিছু কি করবে না?

- চারপাশে দেখলাম কতো!

  সবাই তো মোহ মেটাতে আসে তারপর

  জীবনের নিরাপত্তার হিসেব মিলিয়ে নিয়ে

  প্রেমের দার্শনিক বুলি আওড়িয়ে

  নির্দ্বিধায় কেটে পরে। তাই ...। 


- আমি তো স্বেচ্ছায় হারিয়েছি তোমার

  জীবন থেকে, তবু এখনও কেন ...? 

- হারিয়ে আর কতটুকু হারালে

  আদৌ পুরোপুরি হারায় কি কিছু?

  হারিয়েও কতকিছু আরো সজীব হয়ে

  বেঁচে থাকে স্মৃতিতে!


- শেষমেশ যাইহোক, আমাদের

  ভালো থাকার কথা ছিল।

- একসময় কথা তো এও ছিল

  জলের মতো মিশে থাকবো দুজন।


- দোষ কি আমার একার ছিল?

  তোমার খেয়ালিপনা, দাঁড়াবার স্থানহীনতা

  সেসবও কি নিয়ামক ছিল না?

- শত হাহাকারহীন অভাব নিয়েও

  ভালোবাসে যে প্রাণ

  তার ক্ষতে নুন নাই ছেটালে।

  এটুকু সংযম থাকবে মানুষের

  এমন প্রত্যাশাটুকুও আষাঢ়ে গল্প হবে কি?


- দার্শনিক কথা তুমিও কম বলো না।

  যাইহোক, আমার ঘুরেফিরে মনে আসে

  হেলাল হাফিজ, '... বিরহে উজ্জ্বল'। 

- অস্বীকার করি কিভাবে। 


- পরস্পরের বিভক্তির এই বিচ্ছিন্নতা

  হয়তো ভালোই হয়েছে, বলো?

- কি জানি। তবুও হয়তো একদিন 

  বেদখল হয়ে যাবে পরস্পরের হৃদয়।



৭.

কথোপকথনঃ

বাস্তব যেখানে শূন্য, ভাবনায় যেটুকু মেলে


- এইযে প্রেমিক, কেমন কাটছে দিনকাল? 

- দূরে গিয়ে বিরহ উদযাপন ছাড়া আর

  কিছু কি রেখে গেছ আমার জন্যে?


- বেশ হয়েছে। তা এখন তোমার

  নখদন্ত নিশপিশ করে না? 

- না। এখন মাঝেমধ্যে উল্টো জ্বালায় ভুগি।


- সে কেমন?

- ইদানীং আমাদের পেড়িয়ে আসা মূহুর্তেরা

  মনে এসে আমাকে থমকে দেয়

  আর অমনি স্মৃতির দরজা খুলে

  ঢুকে পড়ো তুমি অনুমতি ব্যতিরেকে!


- কি আশ্চর্য! তারপর? 

- এমনি অবয়বে তুমি কেমন বেপরোয়া যেন

  হুটহাট টানাটানি শুরু করে দাও

  যখন-তখন, এটা-ওটা, এখানে-সেখানে

  যখন যা ইচ্ছে হয়! 


- ভাবনার ভেতরেও এত বাড়াবাড়ি!

  কবে এমন করেছি শুনি?

- আমাদের বাস্তবতার হিসেব এখানে

  বিবেচ্য নয় প্রিয়।


- বুঝলাম। তারপর?

- তারপর ভুল ভেবে আচমকা আঁতকে উঠি! 

  ক্ষানিকটা কর্পূরে আক্ষেপ হলেও

  মন বলে এও বেশ।


- সত্যিই মন বলে এও বেশ?

- বাস্তব যেখানে শূন্য, ভাবনায় যেটুকু মেলে

   তাই কি অসামান্য না?



৮.

কথোপকথনঃ গোয়েন্দা 


- আবারও! আপনাকে না করেছি আমার

  সাথে যোগাযোগের চেষ্টা না করতে?

- আমার যে এছাড়া আর কিছুই

  ভাল্ লাগে না। 


- ভাল্ লাগবে কি করে, কাজকর্ম নাই। 

  আপনার তো বৃষ্টি জলে স্নান আর

  রৌদ্র তাপে গা শুকান! আহা!

- মানে কি?


- মানে, বাপের হোটেল-মায়ের হেঁশেল। 

- খোঁটা দিলেন?


- সে কি! আপনি কত ভগ্যবান।

  এমন জীবন ক'জন পায় বলুন?

- কি সুরেলা শক্ত কথা!

  দুদাঁতের মাঝে নুড়ি পরলো যেন।

  প্রহসনে প্রশংসা হচ্ছে বুঝি?


- উকিল হলে ভালো করতেন।

- যা করছি সেটা বুঝি কম ভালো? 


- কি এমন করছেন?

- আপনিও বুঝি আমার কাজকে অযথা

  মনে করেন?


- শুধু ভালোবাসায় জীবন বাঁচে না মশাই।

  আচ্ছা, ড্রাইভ করতে পারেন? 

- আমি অটোরিকশাও চালাতে পারি না।


- তাতে কি! ঠিকই তো মেয়েদের নিয়ে

  অটোরিকশায় ঘুরতে পারেন।

- আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। 


- হয়তো। তা গতকাল সাথে থাকা 

  ঐ মেয়ের সাথে আপনার সম্পর্ক কি?

- যেমন আপেলের সাথে মধ্যাকর্ষণের।


- লজ্জা করছে না বলতে?

- সচলতার জন্যে কিছু অচল জিনিসের

  প্রয়োজন হয়ই। আর একপলক দেখেই

  সবটুকু সত্যি জানা যায় না। জানেন তো,

  যমজেরও থাকে বাধ্যতামূলক বৈপরীত্য। 


- এই, রাখুন তো!

  আপনার কথার প্রেমে পড়তে চাই না।

- তবে?


- পালাবো। আপনার থেকে পালাবো।

- তবে আমি জীবনের লক্ষ্য পেয়ে গেছি।


- অবশেষে পেলেন?

- আপনি দ্রুত পালান। কিসের কি!

  আমি গোয়েন্দাই হবো।




লেবেলসমূহ:

বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

কথোপকথন - ৩



 


 ১.

কথোপকথনঃ প্রায় প্রেম


- আর কিছুদিন গেলে

   তোমার প্রেমে পড়েই যেতাম বোধহয়। 

- পড়েননি বুঝি?


- যতটুকু পড়েছিলাম তাতে

  ডুবে হাবুডুবু খাওয়ার সুযোগ ছিল না। 

- অনুমতি না নিয়ে পড়েছিলেন যে!


- বাহ্ রে! প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিষেধ ছিল কি?

- জ্ঞাত না করা নৈতিকতা বিরুদ্ধ কি-না।

   যাইহোক, আর কেউ কি জানতো?


- চিপসের প্যাকেটের মতো ফুলিয়ে প্রেম

   সবাই কি দেখাতে পারে?

- উঁরি বা-বা!



২.

কথোপকথনঃ ধাক্কা 


- তোমাকে যদি মেরে ফেলতে চাই

  পারবে নিজেকে বাঁচাতে?

- আমি তো আজকাল মশাদের সাথেই

  পারি না, ফের তোমার সাথে ...! 


- তবে মেনে নেবে আমার হাতে মৃত্যু? 

- তোমার হাতে মরে যেতে আপত্তি নেই।

  যদি সে খুন ঠান্ডা মাথায় হয়, তবেই দুঃখ।

  মৃত্যুর পরেও অস্বস্তি ।


- তোমার আত্মা স্বর্গবাসী না হয়ে

  ঘুরবে বুঝি আমার চারপাশে? 

- ভাবছি। 


- কি ভাবছো?

- কত কত সুন্দরীই তো অস্বাভাবিক মরলো।

  তাদের সাথে দেখা হয়ে যায় যদি?


- দেখা তো হতেই পারে।

- তুমিও বলছো?


- হুম।

- তাহলে অযথা তোমার চারপাশে না ঘুরে

  তাদের সাথেই না হয় ... 


- কি?

- ওই আর কি।


- কি সেটা?

- এই ধরো ইটিস-পিটিস। 


- আহা! কি খুশির বিষয়। তাহলে

  আমি আর পুলিশি ঝামেলায় না জড়াই।

  আগাম শুভকামনা। এখনি একটা কড়া

  কীটনাশকের বোতল এনে খেয়ে ফেল।

- বাহ্ রে!

  আজাইরা মরামরির কাহিনি শুরু করলে তুমি

  আর নিজেকেই মারবো আমি?


- তোমার নিভৃত কামনার জন্যই সোনা।

  সুন্দরীদের প্রতি কি ভীষণ লোভ তোমার!

- উঠছো যে?


- আগ্রহ শেষ। তোমাকে জানা হয়ে গেছে।

  বিদায়। 

- বাহ্ রে! আমাকে দিয়ে গর্ত খুড়িয়ে 

  আমাকেই ধাক্কা? এই-এই, দাঁড়াও...! 



৩.

 কথোপকথনঃ লাইটার


- এই যে, কি খবর?

- পর সংবাদ এইযে, ফুসফুসের ১১ টা প্রায় বেজে গেছে।


- ১৪ টা বাজলে জানিও।

   অনলাইনে একটা সাদা শাড়ি অর্ডার করবো।

- ত্যাড়ামো আরো বেশি করো, যতটা করলে

   মেজাজটা সেই পরিমাণ বিগড়ে যায়। কেমন?


- ওমা... কি সেক্সি কথা!

   ওই গু' খেয়ে ভাব ধরবে আর দোষ হবে আমার?

- আমার খাওয়া-খাউয়ির রুচি নষ্ট হতে বসেছে।

   ভাবছি এখন থেকে তোমার চুলের গন্ধ মাখা বাতাস

   সজোরে নেব শুধু ফুসফুসে।


- হয়েছে, হয়েছে।

  তুমি যে সেই একই জিনিস জানা আছে। 

- মাঝেমাঝে ভাবি, তোমার মত আর কে বুঝবে আমাকে!

   আচ্ছা, তোমার পার্সে লাইটারটা এখনো আছে?



৪.

কথোপকথনঃ ছিপি আঁটা বোতল


- ইদানীং নষ্ট হতে ইচ্ছে করে।

- সত্যিই করে?


- খুবই। 

- হচ্ছোনা কেন?


- উদ্যোগী হই কখনো কখনো, তবু

 যেই মোবাইল স্ক্রিনে ভেসে ওঠো তুমি

 অমনি সিন্দাবাদের জাহাজের খালাসীকে

 কিছু নজরানা দিয়ে নষ্ট ইচ্ছেদের

 ছিপি আঁটা বেতলে ভরে

 দিয়ে দিই মাঝ সমুদ্রে ফেলে দিতে। 

- তবে আর ইচ্ছে হয় কেন?


- হবে না বুঝি?

 তোমার পকেট ভর্তি সময়ের খুচরো

 কয়েন আর নোট, অথচ আমি চাইলেই ...! 

- পাও না বুঝি?


- জোটে তো কেবল শিকি-আধুলি,

 নোটগুলো কারা পায় কে জানে।

- এতো লোভ কেন শুনি?


- বাহ্ রে! শুভঙ্করের ডাকাত হতে ইচ্ছে হলে

  আমার বুঝি ভিক্ষুক হতেও মানা?



৫.

কথোপকথনঃ গোলযোগ


- ভালোবাসো?

- তুমুল!


- হুহ!

- এমন হলে তো আমার কিছু কথা শুনতে।

- বাহ্ রে!

  খায়েশের লম্বা চুলে কাঁচি চালালে।

  আয়েশের মাঝ সিঁথি পাল্টে একপাশে

  এসেছি। বিষকাঠি ছাড়ি ছাড়ি বলে।

  সিঙ্গেল মেয়েদের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক

  ছেড়েছি। পাইপ লাইনে আরো কত্ত কিছু!

  তারপরও এমন টা বললে?


- কতোটা ছেড়েছ শুনি?

  তুমি ৬ ফুটের ছেলে, যে লম্বা চুলে মানাবে

  আর মাঝখানে সিঁথি কাটলে

  কি বিরক্তিকর লাগে বোঝো?

  যেটা ছাড়ি ছাড়ি করছো সেটা পুরোপুরি

  ছাড়ার বর্ষপূর্তিতে আমাকে জানিও

  সাড়ম্বরে উদযাপন করবো। আর

  'স্বাভাবিক সম্পর্ক' কি জিনিস?

  তোমার ক'জন বন্ধুই তো নাকি

  একসাথে ৪/৫টা প্রেম করে।

  তোমার ক্ষেত্রেই বা রিক্স নেব কেন?

- বাপরে বাপ! তুমি একটা ... 


- কি? যা-তা? বেশ, আপাতত তোমার সাথে

  কোন কথা নেই। 

- এটাই হয়, গোলোযোগ মাঝ সমুদ্রে

  আর আমার চালে ঝড়!



৬.

কথোপকথনঃ ঘুম


- শোনো, ঘুম পেয়েছে।

- আমার সাথে কথা বলতে এলেই 

  বুঝি তোমার চোখে ভর করে রাজ্যের ঘুম?


- কি করবো বলো? 

   তোমার কথাগুলোই যে এমন

   যেন সোনার কাঠি-রুপোর কাঠির শিল্পীত বিন্যাস!

   জেগেই তো থাকি জাগতিকতায় সারাটাদিন 

   ক্লান্তি আর বিরক্তির বিষাদে খিটিমিটি মনে

   কামনা করি তোমারই ফোন কল। 

- তারপর?


- তোমার কথারা যেন রুপকথার উড়ন্ত চাদর

   আমায় নিয়ে ভেসে চলে হাওয়ায় আর

   খসে পড়তে থাকে ক্লান্তি ও বিষাদেরা

   মেঘেরা পাফ করে চলে সুখ আর

   বুজে আসে চোখ আমার নিবিড় প্রশান্তিতে।

.

.

.

- বেশ বিভ্রান্তিকর সমীকরণ আমার জন্যে।

   যাইহোক, তারপর?

   হ্যালো। হ্যালো...!

   ঘুমাও তবে।

   আমার কাছে সব দেয়ালই ভালোবাসা পরিবাহী।



৭.

কথোপকথনঃ

ফোনের এপাড়-ওপাড়ে প্রেম


- প্রিয় দূরদ্বীপ বাসিনী, কেমন আছো?

- তোমাকে ছাড়া বড় অসহ্য বেঁচে থাকা

   কানকোয় কাতরিয়ে ডাঙা পেরুনো কইয়ের মতোন

   যেন একা একা বাতাসে ভেসে বেড়ানো অতৃপ্ত আত্মা

   কোণা ছেঁড়া ক্রমাগত পাঁক খাওয়া ঘুড়ির মতো

   ভাবনারা পাঁক খায় কেবল ক্যালেন্ডার জুড়ে!

   তুমি কবে আসবে?

   আমাকে ছাড়া কিভাবে থাকো তুমি?

   কেমন আছো আমিহীন?


- একলা শালিকের বিষন্নতায় কাটে রাত্রিদিন।

   কিভাবে যে থাকি, যদি দেখতে!

   মাঝে মাঝে ভাবি

   হতো যদি তারাগুলো

   এক বাল্ক এস.এম.এস. তোমার,

   চাঁদটা জুম ইনে তোমার মুখ,

   আকাশ হতো থ্রিডি স্ক্রিন যেখানে

   আমার জন্যই লাইভ টেলিকাস্ট হবে

   তোমার ইন আর আউট ডোরের গোটা দিন!

- পাগল!

   জানো, চোখ বুজলে আমার চোখ জুড়ে একঝাঁক

   প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়! চোখ মেললে, ছয়দিক জুড়ে

   নস্টালজিক রুক্ষ পরিবেশ স্মিত হাসে!

   কেমন করুন সুর বয় হাওয়ায় আর চতুর কোকিলটাও

   ঝিমোয় পেঁচার মত!


- আমারও কি যে হয়!

   প্রচন্ড শীতের মত নিরবতা নেমে আসে।

   এতযে স্যাটেলাইট মাথার উপর, চারপাশে কত রাডার

   আর শুভাকাঙ্ক্ষীর দল, জানাতে পারে না কিছুই!

   কবে যে থাকবে জামার মতোন জড়িয়ে শরীর?

- রসুন বোনা শেষ, আসছে মাড়াইয়ের দিন।

   মৃত্যুর নামক অমোঘ সত্যিটা তোমার বুকেই হোক।



৮.

কথোপকথনঃ প্রস্তাব 


- এইযে শুনুন? একটু কথা বলতে পারি?

- ভদ্রতা বজায় রাখতে পারলে বলুন।


- এই যা!

  হিসেব-নিকেশের মাঝে ফেলে দিলেন।

- কেমন হিসেব-নিকেশ?


- অলরেডি হিসেব-নিকেশ শুরু হয়ে গেছে।

  বলছি একটু পর।

  এই ফাঁকে আপনার নামটা জানতে পারি?

- এরপর কি মুঠোফোন নাম্বার চাইবেন?


- ওরে বাবা! আপনি তো হিসেব-নিকেশের

  সময় আরও বাড়িয়ে দিলেন।

- আমি আর কি করলাম, বাড়াচ্ছেন তো আপনি।


- মাপ করবেন। আপনার সম্পর্কে আমার

  আর কিছু জানতে চাওয়ার নেই। 

- আশ্চর্য! আপনি এত ভালো মানুষের ভান

  ধরছেন কেন? আমার পুরো বায়োডাটা 

  জানবেন না?


- জনাব, দরকার নেই। কথাটা শুরু

  করার জন্যে আমিই না হয় আপনার

  একটা নতুন নাম দিই?

- তারপর আকিকার জন্যে ডিনারের ইনভাইট করবেন? 


- দেখেও বোঝেন না! পকেটে এত তেল নেই।

   সো এতটা বিরক্ত হবেন না প্লিজ। 

- আচ্ছা। কি নাম শুনি?


- রুপা।

- হুমায়ুন আহমেদ এর উপন্যাসের চরিত্র?


- হুমায়ুন আহমেদ পড়তে পছন্দ করেন?

- খুব।


- তাহলে নামটির অনুমোদন দিচ্ছেন? 

- রুপা চরিত্রটি আমার পছন্দের।

  তাই অনুমোদন দিলাম।


- ধন্যবাদ। 

- আমার একটু তাড়া আছে।

  আপনার মূল কথাটি বলুন।


- রুপা, হাত বাড়াবেন? শুভ্র হবো।



৯.

কথোপকথনঃ শ্রাবণ


- আমার একহাতে দহন আরেক হাতে শ্রাবণ

   কোন্'টা নেবে?

- দহন তবে।


- শ্রাবণ কেন না?

  শ্রাবণ ধারায় পেখম মেলে

  নাচতে পারতো তোমার মন ময়ূরী।

- ওদিকে তোমার হৃদয় রাজ্য পুড়ে খাক হলে

   আমি থাকবো কোথায় শুনি?


- তবে আমিও পুরো শ্রাবণ তোমাকে দিলাম।

  সামলে রেখো, জলে ডুবে মরি না যেন।

- বেহুলার সামর্থ্য আছে জেনো।


লেবেলসমূহ:

বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৩

কথোপকথন - ২





১.

কথোপকথনঃ বাসস্টপে


- কিউজ মি। আপনি কি বিবাহিত? 

- দেখেতো ভদ্রলোক মনে হয়েছিল! এ কেমন অভদ্রতা? 


- ভদ্র ভেবেছিলেন! এখন অভদ্র মনে হচ্ছে?

- তা না তো কি!


- দেখুন নিজেকে জোর করেই মানানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু

   মন কিছুতেই নিজেকে অভদ্র ভাবতে রাজি হলো না।

   যাইহোক, আমি খুবই দুঃখিত।

   আচ্ছা, আপনি কি মানুষের সরলতায় বিশ্বাসী? 

- তা না হলে এতোক্ষণে পরিবেশটা অন্যরকম হতো।


- তাহলে দয়াকরে বলনু, কেউ যদি সরল বিশ্বাসে

  সরল মনে, সরলভাবে কোন বিষয়ে জানতে চায় তবে

   সেটা কি মার্জনীয় অপরাধ হবে না?

- সে ভাবতে পারছি না। আমার বাস এসে গেছে। আসি।


- সাবধানে যাবেন। শুনুন, আমার বিয়ে হয়নি

   আর কোন প্রেমটেমও নেই...।



২.

কথোপকথনঃ ফোনকল 


- আচ্ছা, আমাকে কল দেন কেন?

- প্রশ্নটাতো আমারো।


- আমি জানার চেষ্টা করিনি।

- আমি ভাবিনি।


- তাহলে রাখছি।

- মানে কি!


- ব্যাপারটা আপনার ভাবনাতেই নেই যখন ...

- বাদ দিন তো পিটুইটারির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ব্যবচ্ছেদ!

 আচ্ছা, ভালোভাবে পৌঁছেছিলেন তো?


- জী, ড্রাইভার ভালভাবেই চালিয়েছিলো।

 ভাড়া মিটিয়ে 'ধন্যবাদ' বলেছি। 

- ঐ ড্রাইভারকে ডেকে যে উঠিয়েদিল

 তাকে যে কিছুই বললেন না?


- ভদ্রলোকেরাও যে এতো ঝগড়াটে হয়

 আপনাকে না দেখলে বুঝতাম না!

- এটুকুই বুঝলেন বুঝি!


- ওমা! শাকের চাপায় মাছ ছিল বুঝি?



৩.

কথোপকথনঃ স্বপ্ন 


- ভালোবাসেন?

- হুম।


- কতোটা? 

- এক মহাকাশ।


- কী আশ্চর্য! পৃথিবীর বাসিন্দা হয়ে বুঝতেই পারলাম না!

- টিনের চশমায় চোখ ঢাকলে আমার কি করা!

   তা, আজ হঠাৎ এমন প্রশ্ন?


- কাল একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম!

- স্বভাবিক টাইপের স্বপ্নও আপনি দেখেন?


- আহা শুনুন না!

- জী, বলুন।


- আপনি আমার পেছন ঘুরঘুর করছিলেন বলবো না... 

- বলার বাকি আর রাখলেন কই!


- কথার মাঝখানে প্যাডেল মারবেন না তো!

- একদম না। বলুন এবার।


- মানে আমি যেখানেই যাচ্ছি দেখি সেখানেই আপনি!

   আপনার ভাব-সাব যেন কেমন কেমন আর

   বারবার কি বলতে চেয়েও বলছেন না! অনেকটা

   ভালোবেসে প্রেমে হাবুডুবু খেলে যেমন করে মানুষ।

- আচ্ছা! তারপর? 


- তারপর আর কি!

   ঘুম ভেঙে গেলে ভাবলাম আপনার সাথে শেয়ার করি।

- বেশ করেছেন। আপনাকে তো বলাই হয়নি!

   আমিও আপনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম।


- তা' কি দেখেছিলেন?

- আপনি যেমন দেখলেন তারচেয়ে একটু বেশি, তবে উল্টো।

   দেখলাম হাবুডুবু খেতে খেতে আপনি একদিন বলেই ফেললেন।

   আমি কোন উত্তর না করায় পরদিন ঘুম ভেঙে শুনি

   আপনি আর নেই, নিজেকে শেষ করেছেন!

   ভোর রাতের স্বপ্ন, আমি তাই হেলাফেলা না করে

   উত্তর রেডি করেই বসে থাকি।



৪.

কথোপকথনঃ ইচ্ছে


- মাঝে মাঝে ভাবি আর হাসি!

- কেন জানতে পারি?


- কত কী যে ইচ্ছে করে আমার! 

- কি কি শুনি?


- এই যেমন...

- শঙ্খচিল?


- করতো, এখন প্রকট অন্য কিছু! 

- জয়প্রিয় কবি হতে?


- কবি! মাঝে মাঝে মনে হয়

   কবিতাই কি আমাকে খেলো?

- স্ববিরোধীতা?


- তাও না। বরং ভাবনা আরও পোক্ত হয়েছে।

   কবিতায় আঙুরের থোকার মতো ঝুলে থাকে সুন্দর।

   কথিত সাধারণ মানুষ একদিন কবিতার স্বাদ পাবে,

   এরমধ্য দিয়েই পাবে সুন্দরের খোঁজ।

   সুন্দর ছুঁয়ে চিনবে সত্যি।

   জানবে- ঈশ্বর, স্বর্গ, ধর্ম, ব্যবসা, বিশ্বব্যাংক, উন্নয়ন

   নেতা, নির্বাচন, গণতন্ত্র, সাম্যবাদ। 

- ভারীক্কি স্বপ্ন, থাক।

   কি কি যেন ইচ্ছে করে? 


- ইচ্ছে করে! 

- হুম!


- ইচ্ছে করে...! 

- কী?


- তোমার প্রেমিক হতে। 

- কবির এই বুঝি কবিতা?



৫.

কথোপকথনঃ ক্ষুদে বার্তায় মুখোমুখি 


- কোথায়?

- আপনার কাছাকাছিই।


- বেরুবো?

- জরুরি খবর ছিল একটা। 


- আমার ইনবক্সগুলো অপ্রয়োজনীয় কথায় ভরে।

   আসছি তবে। চাও খাবো।

- তাড়াতাড়ি, তাড়া আছে।


- জাস্ট বেরুতে ক'মিনিট।

- তাড়াতাড়ি। 


- ---

- চা'টা কি রুমেই খেয়ে বেরুবেন?


- মোবাইল থেকে মুখ তুলুন।

- চা-খবর দুই'ই যে ঠান্ডা হয়ে যেতে বসেছে! 


- কোনটা আগে?

- একসাথে। 


- কার মুখ দেখে যে উঠেছিলাম! এমন মায়াবী বিকেলে

   জরুরি খবর নিয়ে আপনার মতো ব্যস্ত বাবুল আমার সাথে!

- শুনুন, যে ভ্রমরের প্রেমে পড়েছেন

   তার হুল কিন্তু বিষাক্ত ভীষণ!


- এই বুঝি জরুরি খবর?

- আমি তো বিশ্ব পরিক্রমা নিয়ে বসিনি

   ইদানীং আপনিই লিড নিউজ।


- কে বললো আমি তার প্রেমে পড়েছি!

   ভালো লাগা মানেই বুঝি প্রেমে পড়া?

- আমার যে প্রেমে পড়েই ভালো লাগতে শুরু করেছে!



৬.

কথোপকথনঃ ভোঁতা মুখ


- একহাজার অটো-মিশুক-রিক্সা গোনা শেষ

   তবু তার দেখা নেই!

   এখন থেকে আর গুনছি না

   আর কত দেরী বলবেন কি?

- অসময়ে হুট করেই বৃষ্টি নামলে যা হয়

   সেই দোষে দুষ্ট হয়ে গেলাম।


- দোষ ধরার ইসকুলে যাবার কথা কি আমাদের? 

- পাশ দিয়ে একটু ঢু মারতে কি এমন ক্ষতি? 


- ঐ-যে, লক্ষ্য কে হারিয়ে ফেলার ভয়!

- আচ্ছা, ভীতুরা কি কখনোই রিক্স নেয় না?


- দেয়ালে পিঠ না ঠেকলে নিই না।

- এবার একটু বড় তো হোন!


- বড় আর কবে হবো?

   আমিতো এখনো সিনেমা দেখে কেঁদে ফেলি!

- কখনো যদি আমি হারিয়ে যাই, তখনও কাঁদবেন?


- আজ আর আপনার আসার দরকার নেই। 

- এসেই গেছি, আপনার ভোঁতা করে রাখা মুখটা দেখা যাচ্ছে।



৭.

কথোপকথনঃ বৈরী সময়ে প্রেম


- ইদানিং কি হয়েছে তোমার? 

- তুমি ভূতুড়ে অতীত চুলকে সুড়সুড়ি পাও,

   আমার তখন ফোস্কা ফেটে রক্ত ঝরে!


- তা' এখন কি অবস্থা? 

- বারবার মারো, আমার ভাল্ লাগে না;

   এবার নিজেকে মারছি। 


- ভাল্ লাগছে?

- লাগছে।


- ক'টা ফুকলে আজ?

- গুনিনি। আজ তোমার কি হাল?


- আমার গহ্বরে কতো আলো জ্বলে

   তবু বিপরীতমুখে পায়ের গোড়ায় অন্ধকার। 

- তোমার তো স্বপ্নের মধ্যেও মশার কামড়ে ঘুম ভেঙে যায়!


- জানোতো, এ কালের মশারা সরকারের চেয়েও বেশি কৌসুলি। 

- এন্টি-মসকিউটো সরঞ্জামের অভাব নেই কিন্তু। 


- আজ যে কথার তোড়ে বৈরী বাতাস!

- আমারও হয়েছে কই মাছের প্রাণ

   চরম বৈরী অবস্থাতেও ক্রিয়াশীল।


- তাহলে তো হলোই। হাসো তো একটু?

- ফের যদি অমন করো...!


- পিষে ফেলো তোমার বুকের ওপর।

- মহামারীময় এই সময়ে করমর্দনই নিষিদ্ধ করেছে সরকার!


- রাখতো! লকডাউনেও যা জ্যাম!

   কি হলো! চোখ বুজলে যে?

- চিত্রকল্পে আছি।


- অসভ্য কোথাকার! 

- কেবল তোমার কাছেই জেনো।



৮.

কথোপকথনঃ গোলাপী জোছনা 


- বড্ড বেশি পর করে দিচ্ছো আমায়

  অচ্ছুৎ প্রাণী তাড়ানোর মত হাঁকডাক কানে বাজে

  আমার ভাল্ লাগে না!

  ভাল্ লাগে না কোনকিছু!

- কী সব উদ্ভট কথা!

   মাথাটা গেল বুঝি?


- জানি না, বুঝিও না।

  পরজীবী গাছের মত আমাকে গিলে ফেল প্লিজ।

  তুমিময়তায় আবৃত হতে চাই,

  তোমার চোখে তাকিয়েই মহাবিশ্বের

  বাকি রুপের অতৃপ্তি ভুলে যেতে চাই।

- না করেছি কি?


- সেই তুমিটা কই তবে!

   মরে গেল কি?

- আশ্চর্য! মরবে কেন?

   মনে বড্ড কালো মেঘ জমেছে

   যাপিত জীবনে স্থূল প্রয়োজনের দায়ে।

   যাক আর কিছুটা সময়

   গোলাপি জোছনা নিয়ে আসবো।


- এসো তবে এক্ষুনি

   উদ্দাম আদিম নৃত্যে তুলি ঝড়

   দমকা হাওয়ার ঝড়ো বৃষ্টিতে,

   পরিছন্ন আকাশে দৃশ্যমান হবে

   গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্রেরা।

- বড্ড অসময় যে।

   কত মুকুল ঝরে গেছে বিফলে,

   খরা শেষে বর্ষা আসুক

   এবার ফল পাড়বো দেখো!


লেবেলসমূহ:

মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩

কথোপকথন - ১




১.

কথোপকথনঃ বাসের সিটে পাশাপাশি 


- আমি হিমালয়। আপনি?

- আমি মোহনা।

- বাহ্! বেশ তো।

   চলুন তবে, একটা নদী বানানোর চেষ্টা করি।


- আশ্চর্য! কিভাবে আর কেনইবা?

- পর্বতমালার অসংখ্য ছরা বেয়ে

   জল গড়িয়েই উৎপন্ন হবে নদী

   সাগর সন্ধানী সে নদী এঁকেবেঁকে 

   বহুপথ পাড়ি দিয়ে মিলবে মোহনায় 

   তারপর সাগরে লীন হয়ে পৌঁছুবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। 

   ধরে নিন এখন আমাদের এক একটা কথাই 

   এক এক ফোঁটা শিশির বিন্দু।

- আপত্তি নেই, হতে পারে।

   কিন্তু শিশির বিন্দুতে নদী হতে যে

   অনেক সময়ের প্রয়োজন!


- অনেক সময় কি, একজন্ম কেটে গেলেও

   ওতে নদী হবে না!

- তবে কিভাবে কি!


- চাই মুষলধারে বৃষ্টি!

  আর খুবই মামুলি ব্যাপার যদি

  পরস্পর এ জন্ম পাশ না ছাড়ি।

- এটাকেই বুঝি বলে বাড়াবাড়ি। 

  তা, কি করা করা হয় শুনি?


- যখন যেমন ইচ্ছে। 

- কেমন?


- এই ধরুন সংগত কারণেই

   আপনি নেমে গেলেন মাঝ রাস্তায়

   আর আমিও নেমে যেতে পারি 

   সংগত কারণ ছাড়াই। 

- যথেষ্ট, আর ব্যাখ্যার দরকার নেই। 


- ভয় পেলেন বুঝি?

- তা না, একটু সতর্ক হলাম কেবল।

  আচ্ছা, আপনার এসএসসি ইয়ার কত?


- আপনি খুব হিসেবি বুঝি?

- না না, যথার্থ সম্বোধন ঠিক করা আর

   কথা এগিয়ে নেবার জন্যই।


- আপনি যদি ধর্ম বিশ্বাসী হোন তো

   আমি আপনার সমবয়সী, কেননা

   সকল আত্মার বয়স একই।

   আর যদি বাস্তববাদী হোন তো

   দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক হলেই বন্ধু হওয়া যায়। 

- কথায় তো খুব পারেন!

   চলুন দেখি নদী বানানোর চেষ্টা করি।


- সত্যিই করবেন? 

- কোন সন্দেহ? 


- না মানে, সে রকম কোন সম্ভাবনা দেখছি না তো, তাই।

- আচ্ছা, চলো তুমি-আমি মিলে একটা নদী গড়ি!




২.

কথোপকথনঃ

বাসের সিটে পাশাপাশি'র কিছুদিন পর


- কী কাণ্ডজ্ঞান তোমার! কাক তাড়ুয়ার মতো

  কখন থেকে দাঁড়িয়ে! আমাকে তোমার প্রেমিকা ভাবো?

- না-তো! তবে হয়তো অমন ভাবনার একদম শুরুতে আছি।


- আশ্চর্য! ভাবনার সীমানা যাই হোক, কথার সীমারেখা

  থাকা উচিত। বাড়াবাড়ির দিকে যাচ্ছে কিন্তু! 

- ও-ই পর্যন্ত গেলে আর বাড়াবাড়ি হবে কি?


- কি ভাবো নিজেকে?

- বিশেষ কিছু তো একেবারেই না; গড়পড়তাও নই

  তারও নীচে তবে অনন্য। 


- বন্ধ করবে নিজের ঢোল পেটানো!

  তা কোথায় মুখ ডুবিয়ে ছিলে এতোক্ষণ?

- ঝামেলা গলা জড়িয়ে ছিল, কিছুতেই ছাড়াতে পারছিলাম না!


- করলার রস গেলার মতো অবস্থা, বিরক্তি বিষিয়ে তুলেছে মনটা!

- তাইতো মুখে লাল-নীলের আভা! হরতাল ডাকার ইচ্ছে আছে বুঝি?


- রাজনৈতিক দলগুলোর মতন অত আয়েসি তো না।

   দাবী উত্থাপন ও প্রতিবাদের আরো পথ জানা আছে।

- বাহ্! চলো তবে সংলাপে বসি।


- তাতে তোমার শাস্তি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা কি?

- কে বলল! এই যে আমি বসলাম তোমার সামনে হাঁটু গেঁড়ে। 


- এ তো ওয়েস্টার্ন প্রপোজের ধরন!

- ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি, আমাকে গ্রহন করবে?



৩.

কথোপকথনঃ হ্যালো...


- হ্যালো। হ্যালো। হ্যালো...! কথা বলো?

  এমনি চুপ থাকলে দম বন্ধ হয়ে আসে,

   মনে হয় মরে যাচ্ছি! হ্যালো ...!

- হুম।


- ভাব ধরেছো যে বড়ো!

- পণ করেছি, তোমাকে তিলে তিলে মারবো।


- সেও ভালো, তোমাকে পাশে পাবো অনেকদিন।

- ঢংয়ে গা জ্বলে যায়!


- আমি যে জ্বলতে জ্বলতে ছাই হয়ে যাচ্ছি!

- ফু দিই তাহলে?


- না-না, উড়ে যাবো যে!

- সত্যিই দিলাম তবে, ফু...!

  কি হলো? কথা বলছো না যে?

  হ্যালো। হ্যালো! হ্যালো...! 


- হুম।

- এতোক্ষণ কোথায় ছিলে?


- উড়ো ছাই জড়ো হলো

  আমি ফের পুনঃগঠিত হলাম।

  এবার অন্যকিছু দাও।

- অসভ্য! রাখছি।


- না-না, তেমন কিছু না!

  হ্যালো! হ্যালো! হ্যালো...!



৪.

কথোপকথনঃ ক্ষুদে বার্তা


- তোমার কী কাণ্ডজ্ঞান বলো তো দেখি?

   সেই যে সকাল গড়িয়ে বেলা হলো

   এই বেলাও গড়াতে গড়াতে কোথায় যাচ্ছে দেখেছ?

- বোঝার চেষ্টা করো

  ধরা খাবার পর থেকে মা পাওনাদারের মতো লেগে থাকে!


- হ্যাঁ, মা'তো তোমার মোবাইল স্ক্রীনের দিকে

   দুইটা চশমা লাগিয়ে চেয়ে থাকে

   টেক্সট স্ক্যান করে ভাইকে ফরোয়ার্ড করে

   বাবাকে লাইভ দেখায় তারপর 

   আরও কতো কি যেন?

- এতো চটছো কেন?


- না না, চটবো কেন!

  সূর্য পশ্চিমে ঝুকে যাচ্ছে কার জামার ফাঁকে 

  আর তুমি লাপাত্তা

  আমি চটবো কেন!

  আজ ঈদ, মহানবমী, বড়দিন, বৌদ্ধ পূর্ণিমা 

  আজ নববর্ষ, বিশ্ব সুখ দিবস

  আমি চটবো কেন!

  প্রাণের মানুষ বেমালুম ভুলে থাকবে

  তবু প্রতিত্তোরহীন আমি পালন করবো

  স্তুতি নির্ভর ক্রমাগত ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ দিবস

  আশ্চর্য! আমি চটবো কেন?



৫. 

কথোপকথনঃ ভালোবাসার ডায়েটিং


- শুনেছো?

  সূর্য নাকি আজ ক্ষাণিকটা উত্তরে উঠেছে!

- না। রাখছি। মা ডাকছে।


- না না, সূর্য পূর্বদিকেই উঠেছিল

   বরাবরের মতো পশ্চিমেই অস্ত যাবে

   শোনো-

- কেন এমন আজগুবিকথা বলো?

   তুমি আমাকে তো জানো!


- বাহ্'রে!

  গতরাত পেরিয়ে এখন বিকেল

  এতোযে মিডিয়া, এতোযে শুভাকাঙ্ক্ষী

  দেয়নিতো তোমার খবর কেউই;

  মনে হচ্ছিল বুঝি পাল্টে গেছে পৃথিবীর নিয়মই!

  তাই অমন করে বলেছি।

- তুমি যে কি বিরক্তিকর! 

   মা ডাকছে। যাচ্ছি। 


- শোনো,

  ভালোবাসার ডায়েটিংয়ে ভালোবাসা সূক্ষ্ণ হয় না,

  মরে যায়।



৬.

কথোপকথনঃ গান


- কার গান শুনছো? শুনিতো একটু। ওহ্!

   উনার গায়কী আমার ভালোই লাগে না।

   অকারনে নাকো নাকো করে গায়।

- কিছু তো সত্যিই। তবে...


- তবে কি?

- ফর্মাল পোশাকে ওনাকে আমার দারুণ লাগে!


- মোবাইল স্ক্রিনে খুব দেখা হচ্ছে বুঝি? 

- কয়েকবার দেখেছিই তো তবে তা প্ল্যান করে না।


- বাহ্ বাহ্! বেশ বেশ! তা ডিভাইস ছাড়াও দেখা শুরু করেছ তো?

- উঠেপড়ে জোর করে ট্যাগ খাওয়ানোর দরকার আছে কি!

  আমি এমনটা যে না সেটা তো তোমার জানা। নাকি?


- জানা। তবু...

- এতো যে বলি, খাওয়া-দাওয়া'টা করো ঠিক করে, তখন?



৭.

কথোপকথনঃ গোলাপ


- তোমার ভাবসাব এখনই সন্তানের স্কুল এডমিশন

   উতরানোর টিচার খোঁজা অভিভাবকের মত!

   বিয়েরই খবর নেই এখনই এমন হলে পরে কি অবস্থা হবে?

- বিয়ের খবর নেই মানে?

  দিনরাত কান্নাকাটি, দেবী আহ্বান, নানা দাবী

  এগুলো করে করে কে আমার মাথাটা খাচ্ছে শুনি?


- ইথারে যে তান্ডব তুলেছ

  একটু পর যে সমুদ্রে ঝড় উঠবে! শান্ত হও।

  দেখো, রক্তের কাছাকাছি রঙের একটা গোলাপ।

- মাথা গরম করে দিয়ে এখন তেল ঢালছো?


- কি-সব আমলাতান্ত্রিক কথা! এই গোলাপটা কারো গাছ

  কি তোড়া থেকে আনিনি। দোকানির একগাদা গোলাপের মাঝ থেকে

   বেছে বার করতে গিয়ে কেমন কাঁটা খেয়েছি দেখো!

- গোলাপ বাছার সময় কোন্ মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিলে

  যে কাঁটা ফুটে গেল?


- ধ্যাঁত! এই গোলাপ কোন ছাগলকে খাওয়াবো

  তবু তোমাকে দিচ্ছি না।

- হয়েছে। দাও দেখি।


- না। অনেক হয়েছে!

- দাও? ভালো হবে না বলছি!

 

- খারাপই হোক, তবুও না।

- শোনো? দাঁড়াও বলছি।


- একদমই না!

- তোমার খোঁজে আঙ্কেল কে ফোন দিচ্ছি তাহলে ...।



৮.

 কথোপকথনঃ বঁড়শি


- কি চাও? এই-যে! 

   সাড়াশব্দ নেই কেনো!

- নৈঃশব্দের ভাষা নিশ্চয়ই বোঝো!

   তবু না বোঝার ভান প্রহসন লাগে এ অধমের। 


- আমি এমনি। পোষাবে? 

- বঁড়শি যে নিয়ে গেছি পাকস্থলীতে। 


- এখন? বোঝো মজা। মনে আছে, কবি'র সে-ই ভাব?

 "প্রেম খুবই বিরক্তিকর। সংসারও স্বশ্রম যাবৎজীবন

  পুতুপুতু কথার ন্যাকামী। দেবী বন্দনার চেয়েও জটিল

   স্তুতি পাঠ।" আরো কতো কি!

- কবিমন তো এমনই!

   কখনো নির্লিপ্ত, কখনো স্বেচ্ছায় আত্মাহুতিতেও রাজি।


- এখন উল্টিয়ে বলো কথাগুলো? বলো?

- এ-যে প্রতিশোধ প্রবণতা! প্রয়োজন আছে কি?


- আছে। বলো? বলতেই হবে। এখনি বলো?

- ভালোবাসি। ভীষণ ভালোবাসি।



লেবেলসমূহ:

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

কথোপকথনঃ গোলাপ

কথোপোকথনঃ গোলাপ


- তোমার ভাবসাব এখনই সন্তানের স্কুল এডমিশন
   উতরানোর টিচার খোঁজা অভিভাবকের মত!
   বিয়েরই খবর নেই এখনই এমন হলে পরে কি অবস্থা হবে?
- বিয়ের খবর নেই মানে?
   দিনরাত কান্নাকাটি, দেবী আহ্বান, নানা দাবী
   এগুলো করে করে কে আমার মাথাটা খাচ্ছে শুনি?

- ইথারে যে তান্ডব তুলেছ
  একটু পর যে সমুদ্রে ঝড় উঠবে! শান্ত হও।
  দেখো, রক্তের কাছাকাছি রঙের একটা গোলাপ।
- মাথা গরম করে দিয়ে এখন তেল ঢালছো?

- কি-সব আমলাতান্ত্রিক কথা!
   এই গোলাপটা কারো গাছ কি তোড়া থেকে আনিনি
   দোকানের একগাদা গোলাপের মাঝ থেকে বেছে
   বার করতে গিয়ে কেমন কাঁটা খেয়েছি দেখো।
- গোলাপ বাছার সময় কোন মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিলে
   যে কাঁটা ফুটে গেল?

- ধ্যাঁত! এই গোলাপ কোন ছাগলকে খাওয়াবো তবু
   তোমাকে দিচ্ছি না।
- হয়েছে। দাও দেখি।

- না। অনেক হয়েছে।
- দাও? ভালো হবে না বলছি!
 
- খারাপই হোক, তবুও না।
- শোনো? দাঁড়াও বলছি।

- একদমই না!
- তোমার খোঁজে বাসায় ফোন দিচ্ছি তাহলে ...।

লেবেলসমূহ:

কথোপকথনঃ ইচ্ছে



- মাঝে মাঝে ভাবি আর হাসি!
- কেন জানতে পারি?

- কত কী যে ইচ্ছে করে আমার! 
- কি কি শুনি?

- এই যেমন...
- শঙ্খচিল?

- করতো, এখন প্রকট অন্য কিছু! 
- জয়প্রিয় কবি হতে?

- কবি! মাঝে মাঝে মনে হয়-
  কবিতাই কি আমাকে খেলো!
- স্ববিরোধীতা?

- তাও না। বরং ভাবনা আরও পোক্ত হয়েছে।
  কবিতায় আঙুরের থোকার মতো ঝুলে
  থাকে সুন্দর। কথিত সাধারণ মানুষ একদিন
  কবিতার স্বাদ পাবে, এরমধ্য দিয়েই পাবে
  সুন্দরের খোঁজ। সুন্দর ছুঁয়ে চিনবে সত্যি।
  জানবে- ঈশ্বর, স্বর্গ, ধর্ম, ব্যবসা, বিশ্বব্যাংক,
  উন্নয়ন, নেতা, নির্বাচন, গণতন্ত্র, সাম্যবাদ। 
- ভারীক্কি স্বপ্ন, থাক। 
  আর কি কি যেন ইচ্ছে করে? 

- ইচ্ছে করে! 
- হুম!

- ইচ্ছে করে...! 
- কী?

- তোমার প্রেমিক হতে। 
- কবির এই বুঝি চরিত্র?

- পাড়ার যে বড়ভাই বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন
   তার চরিত্র খুবই ভালো। বিয়ে করে ফেলো।
- বাহ্! রাগলে আপনাকেও বেশ লাগে তো দেখতে!

লেবেলসমূহ:

সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

কথোপকথনঃ ভালোবাসি



- তোমার মুখে একটি কথা 
   খুব শুনতে ইচ্ছে করে। 
- এতো কথা বলা হয়ে গেল 
   আরও কত কথা বলবো বলে বসে আছি
   আর তুমি কিনা মাত্র একটি কথা শুনতে চাও! 

- এতদিন গেল, কতটা সময় পার করলাম
   অথচ একটি কথাই তুমি বললে না আজও! 
- আজ আমি প্রসন্ন চিত্তে আছি। 
   নির্দ্বিধায় বলো হে প্রিয়, কোন্ সে কথা? 

- আগেই ফাজলামো শুরু করলে? 
- একদমই না, আমি সিরিয়াসলি বলছি। 

- একবার বলো না, ভালোবাসি।
- তুমি আগে বলো। 

- ভালোবাসি, ভালোবাসি। 
- আচ্ছা। 

- কি হলো?
- জানলাম। 

- ভালোবাসি।
- হুম।

- ভালোবাসি! 
- তো কি?

- পারলে এমনটা বলতে? 
- কিসের মাঝে কি! 
   আমার যে শুনতেই ইচ্ছে করছিল। 

লেবেলসমূহ:

শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২২

কথোপকথনঃ ক্ষুদে বার্তায়




- তোমার কী কাণ্ডজ্ঞান বলো তো দেখি?
   সেই যে সকাল গড়িয়ে বেলা হলো
   এই বেলাও গড়াতে গড়াতে কোথায় যাচ্ছে দেখেছ?
- জান্..., বোঝার চেষ্টা করো
   ধরা খাবার পর থেকে মা পাওনাদারের মতো লেগে থাকে!

- হ্যাঁ, মা'তো তোমার মোবাইল স্ক্রীনের দিকে
   দুইটা চশমা লাগিয়ে চেয়ে থাকে
   টেক্সট স্ক্যান করে ভাইকে ফরোয়ার্ড করে
   বাবাকে লাইভ দেখায় তারপর
   আরও কতো কি যেন?
- এতো চটছো কেন?

- না না চটবো কেন!
   সূর্য পশ্চিমে ঝুকে যাচ্ছে কার জামার ফাঁকে
   আর তুমি লাপাত্তা
   আমি চটবো কেন!
   আজ ঈদ, মহানবমী, বড়দিন, বৌদ্ধ পূর্ণিমা
   আজ নববর্ষ, বিশ্ব সুখ দিবস
   আমি চটবো কেন!
   প্রাণের মানুষ বেমালুম ভুলে থাকবে
   তবু প্রতিত্তোরহীন আমি পালন করবো
   স্তুতি নির্ভর ক্রমাগত ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ দিবস
   আশ্চর্য! আমি চটবো কেন?

লেবেলসমূহ:

শুক্রবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২২

কথোপকথনঃ ছিপি আঁটা বোতল




- ইদানীং নষ্ট হতে ইচ্ছে করে।
- সত্যিই করে?

- খুবই। 
- হচ্ছো না কেন?

- উদ্যোগী হই কখনো কখনো
   তবু যেই মোবাইল স্ক্রিনে ভেসে ওঠো তুমি
   অমনি সিন্দাবাদের জাহাজের খালাসীকে
   কিছু নজরানা দিয়ে নষ্ট ইচ্ছেদের
   ছিপি আঁটা বেতলে ভরে
   দিয়ে দিই মাঝ সমুদ্রে ফেলে দিতে। 
- তবে আর ইচ্ছে হয় কেন?

- হবে না বুঝি?
   তোমার পকেট ভর্তি সময়ের খুচরো
   কয়েন আর নোট, অথচ আমি চাইলেই ...! 
- পাও না বুঝি?

- জোটে তো কেবল শিকি-আধুলি
   নোটগুলো কারা পায় কে জানে!
- এতো লোভ কেন শুনি?

- বাহ্ রে! শুভঙ্করের ডাকাত হতে ইচ্ছে হলে
   আমার বুঝি ভিক্ষুক হতেও মানা?

লেবেলসমূহ: