বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৩

কথোপকথন - ২





১.

কথোপকথনঃ বাসস্টপে


- কিউজ মি। আপনি কি বিবাহিত? 

- দেখেতো ভদ্রলোক মনে হয়েছিল! এ কেমন অভদ্রতা? 


- ভদ্র ভেবেছিলেন! এখন অভদ্র মনে হচ্ছে?

- তা না তো কি!


- দেখুন নিজেকে জোর করেই মানানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু

   মন কিছুতেই নিজেকে অভদ্র ভাবতে রাজি হলো না।

   যাইহোক, আমি খুবই দুঃখিত।

   আচ্ছা, আপনি কি মানুষের সরলতায় বিশ্বাসী? 

- তা না হলে এতোক্ষণে পরিবেশটা অন্যরকম হতো।


- তাহলে দয়াকরে বলনু, কেউ যদি সরল বিশ্বাসে

  সরল মনে, সরলভাবে কোন বিষয়ে জানতে চায় তবে

   সেটা কি মার্জনীয় অপরাধ হবে না?

- সে ভাবতে পারছি না। আমার বাস এসে গেছে। আসি।


- সাবধানে যাবেন। শুনুন, আমার বিয়ে হয়নি

   আর কোন প্রেমটেমও নেই...।



২.

কথোপকথনঃ ফোনকল 


- আচ্ছা, আমাকে কল দেন কেন?

- প্রশ্নটাতো আমারো।


- আমি জানার চেষ্টা করিনি।

- আমি ভাবিনি।


- তাহলে রাখছি।

- মানে কি!


- ব্যাপারটা আপনার ভাবনাতেই নেই যখন ...

- বাদ দিন তো পিটুইটারির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ব্যবচ্ছেদ!

 আচ্ছা, ভালোভাবে পৌঁছেছিলেন তো?


- জী, ড্রাইভার ভালভাবেই চালিয়েছিলো।

 ভাড়া মিটিয়ে 'ধন্যবাদ' বলেছি। 

- ঐ ড্রাইভারকে ডেকে যে উঠিয়েদিল

 তাকে যে কিছুই বললেন না?


- ভদ্রলোকেরাও যে এতো ঝগড়াটে হয়

 আপনাকে না দেখলে বুঝতাম না!

- এটুকুই বুঝলেন বুঝি!


- ওমা! শাকের চাপায় মাছ ছিল বুঝি?



৩.

কথোপকথনঃ স্বপ্ন 


- ভালোবাসেন?

- হুম।


- কতোটা? 

- এক মহাকাশ।


- কী আশ্চর্য! পৃথিবীর বাসিন্দা হয়ে বুঝতেই পারলাম না!

- টিনের চশমায় চোখ ঢাকলে আমার কি করা!

   তা, আজ হঠাৎ এমন প্রশ্ন?


- কাল একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম!

- স্বভাবিক টাইপের স্বপ্নও আপনি দেখেন?


- আহা শুনুন না!

- জী, বলুন।


- আপনি আমার পেছন ঘুরঘুর করছিলেন বলবো না... 

- বলার বাকি আর রাখলেন কই!


- কথার মাঝখানে প্যাডেল মারবেন না তো!

- একদম না। বলুন এবার।


- মানে আমি যেখানেই যাচ্ছি দেখি সেখানেই আপনি!

   আপনার ভাব-সাব যেন কেমন কেমন আর

   বারবার কি বলতে চেয়েও বলছেন না! অনেকটা

   ভালোবেসে প্রেমে হাবুডুবু খেলে যেমন করে মানুষ।

- আচ্ছা! তারপর? 


- তারপর আর কি!

   ঘুম ভেঙে গেলে ভাবলাম আপনার সাথে শেয়ার করি।

- বেশ করেছেন। আপনাকে তো বলাই হয়নি!

   আমিও আপনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম।


- তা' কি দেখেছিলেন?

- আপনি যেমন দেখলেন তারচেয়ে একটু বেশি, তবে উল্টো।

   দেখলাম হাবুডুবু খেতে খেতে আপনি একদিন বলেই ফেললেন।

   আমি কোন উত্তর না করায় পরদিন ঘুম ভেঙে শুনি

   আপনি আর নেই, নিজেকে শেষ করেছেন!

   ভোর রাতের স্বপ্ন, আমি তাই হেলাফেলা না করে

   উত্তর রেডি করেই বসে থাকি।



৪.

কথোপকথনঃ ইচ্ছে


- মাঝে মাঝে ভাবি আর হাসি!

- কেন জানতে পারি?


- কত কী যে ইচ্ছে করে আমার! 

- কি কি শুনি?


- এই যেমন...

- শঙ্খচিল?


- করতো, এখন প্রকট অন্য কিছু! 

- জয়প্রিয় কবি হতে?


- কবি! মাঝে মাঝে মনে হয়

   কবিতাই কি আমাকে খেলো?

- স্ববিরোধীতা?


- তাও না। বরং ভাবনা আরও পোক্ত হয়েছে।

   কবিতায় আঙুরের থোকার মতো ঝুলে থাকে সুন্দর।

   কথিত সাধারণ মানুষ একদিন কবিতার স্বাদ পাবে,

   এরমধ্য দিয়েই পাবে সুন্দরের খোঁজ।

   সুন্দর ছুঁয়ে চিনবে সত্যি।

   জানবে- ঈশ্বর, স্বর্গ, ধর্ম, ব্যবসা, বিশ্বব্যাংক, উন্নয়ন

   নেতা, নির্বাচন, গণতন্ত্র, সাম্যবাদ। 

- ভারীক্কি স্বপ্ন, থাক।

   কি কি যেন ইচ্ছে করে? 


- ইচ্ছে করে! 

- হুম!


- ইচ্ছে করে...! 

- কী?


- তোমার প্রেমিক হতে। 

- কবির এই বুঝি কবিতা?



৫.

কথোপকথনঃ ক্ষুদে বার্তায় মুখোমুখি 


- কোথায়?

- আপনার কাছাকাছিই।


- বেরুবো?

- জরুরি খবর ছিল একটা। 


- আমার ইনবক্সগুলো অপ্রয়োজনীয় কথায় ভরে।

   আসছি তবে। চাও খাবো।

- তাড়াতাড়ি, তাড়া আছে।


- জাস্ট বেরুতে ক'মিনিট।

- তাড়াতাড়ি। 


- ---

- চা'টা কি রুমেই খেয়ে বেরুবেন?


- মোবাইল থেকে মুখ তুলুন।

- চা-খবর দুই'ই যে ঠান্ডা হয়ে যেতে বসেছে! 


- কোনটা আগে?

- একসাথে। 


- কার মুখ দেখে যে উঠেছিলাম! এমন মায়াবী বিকেলে

   জরুরি খবর নিয়ে আপনার মতো ব্যস্ত বাবুল আমার সাথে!

- শুনুন, যে ভ্রমরের প্রেমে পড়েছেন

   তার হুল কিন্তু বিষাক্ত ভীষণ!


- এই বুঝি জরুরি খবর?

- আমি তো বিশ্ব পরিক্রমা নিয়ে বসিনি

   ইদানীং আপনিই লিড নিউজ।


- কে বললো আমি তার প্রেমে পড়েছি!

   ভালো লাগা মানেই বুঝি প্রেমে পড়া?

- আমার যে প্রেমে পড়েই ভালো লাগতে শুরু করেছে!



৬.

কথোপকথনঃ ভোঁতা মুখ


- একহাজার অটো-মিশুক-রিক্সা গোনা শেষ

   তবু তার দেখা নেই!

   এখন থেকে আর গুনছি না

   আর কত দেরী বলবেন কি?

- অসময়ে হুট করেই বৃষ্টি নামলে যা হয়

   সেই দোষে দুষ্ট হয়ে গেলাম।


- দোষ ধরার ইসকুলে যাবার কথা কি আমাদের? 

- পাশ দিয়ে একটু ঢু মারতে কি এমন ক্ষতি? 


- ঐ-যে, লক্ষ্য কে হারিয়ে ফেলার ভয়!

- আচ্ছা, ভীতুরা কি কখনোই রিক্স নেয় না?


- দেয়ালে পিঠ না ঠেকলে নিই না।

- এবার একটু বড় তো হোন!


- বড় আর কবে হবো?

   আমিতো এখনো সিনেমা দেখে কেঁদে ফেলি!

- কখনো যদি আমি হারিয়ে যাই, তখনও কাঁদবেন?


- আজ আর আপনার আসার দরকার নেই। 

- এসেই গেছি, আপনার ভোঁতা করে রাখা মুখটা দেখা যাচ্ছে।



৭.

কথোপকথনঃ বৈরী সময়ে প্রেম


- ইদানিং কি হয়েছে তোমার? 

- তুমি ভূতুড়ে অতীত চুলকে সুড়সুড়ি পাও,

   আমার তখন ফোস্কা ফেটে রক্ত ঝরে!


- তা' এখন কি অবস্থা? 

- বারবার মারো, আমার ভাল্ লাগে না;

   এবার নিজেকে মারছি। 


- ভাল্ লাগছে?

- লাগছে।


- ক'টা ফুকলে আজ?

- গুনিনি। আজ তোমার কি হাল?


- আমার গহ্বরে কতো আলো জ্বলে

   তবু বিপরীতমুখে পায়ের গোড়ায় অন্ধকার। 

- তোমার তো স্বপ্নের মধ্যেও মশার কামড়ে ঘুম ভেঙে যায়!


- জানোতো, এ কালের মশারা সরকারের চেয়েও বেশি কৌসুলি। 

- এন্টি-মসকিউটো সরঞ্জামের অভাব নেই কিন্তু। 


- আজ যে কথার তোড়ে বৈরী বাতাস!

- আমারও হয়েছে কই মাছের প্রাণ

   চরম বৈরী অবস্থাতেও ক্রিয়াশীল।


- তাহলে তো হলোই। হাসো তো একটু?

- ফের যদি অমন করো...!


- পিষে ফেলো তোমার বুকের ওপর।

- মহামারীময় এই সময়ে করমর্দনই নিষিদ্ধ করেছে সরকার!


- রাখতো! লকডাউনেও যা জ্যাম!

   কি হলো! চোখ বুজলে যে?

- চিত্রকল্পে আছি।


- অসভ্য কোথাকার! 

- কেবল তোমার কাছেই জেনো।



৮.

কথোপকথনঃ গোলাপী জোছনা 


- বড্ড বেশি পর করে দিচ্ছো আমায়

  অচ্ছুৎ প্রাণী তাড়ানোর মত হাঁকডাক কানে বাজে

  আমার ভাল্ লাগে না!

  ভাল্ লাগে না কোনকিছু!

- কী সব উদ্ভট কথা!

   মাথাটা গেল বুঝি?


- জানি না, বুঝিও না।

  পরজীবী গাছের মত আমাকে গিলে ফেল প্লিজ।

  তুমিময়তায় আবৃত হতে চাই,

  তোমার চোখে তাকিয়েই মহাবিশ্বের

  বাকি রুপের অতৃপ্তি ভুলে যেতে চাই।

- না করেছি কি?


- সেই তুমিটা কই তবে!

   মরে গেল কি?

- আশ্চর্য! মরবে কেন?

   মনে বড্ড কালো মেঘ জমেছে

   যাপিত জীবনে স্থূল প্রয়োজনের দায়ে।

   যাক আর কিছুটা সময়

   গোলাপি জোছনা নিয়ে আসবো।


- এসো তবে এক্ষুনি

   উদ্দাম আদিম নৃত্যে তুলি ঝড়

   দমকা হাওয়ার ঝড়ো বৃষ্টিতে,

   পরিছন্ন আকাশে দৃশ্যমান হবে

   গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্রেরা।

- বড্ড অসময় যে।

   কত মুকুল ঝরে গেছে বিফলে,

   খরা শেষে বর্ষা আসুক

   এবার ফল পাড়বো দেখো!


লেবেলসমূহ:

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]

<< হোম