রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২

প্রেমের কবিতা

 



১.

মিশন হেডকোয়ার্টার 

তোমার চুলের অরন্যে একটা ভদ্র উকুন হয়ে

ঢুকে যাবো গুপ্তচরের মতো।

চিরুনি, সাবান, শ্যাম্পু, জেল, পেস্ট

যাই লাগাও না কেনো

আমার দেহে এন্টিবডি বেশ কার্যকর

আমি ছিটকে পড়বো না 

বরং তোমার প্রতিরোধে জাগবে ধ্রুপদী আকাঙ্খা

তাই নিয়ে 

সুদৃঢ় মনে প্রত্নতত্ত্ববিদের মতো খুড়ে খুড়ে একদিন 

পৌঁছে যাবো তোমার হৃদয়ের হেড় কোয়টারে।

দেখি, তখন আমাকে ছাড়া কি ভাবো…।



২.

বেণী

হয়েছে কি আজকাল

সে কেশ তিনভাগ করে প্যাঁচায়

প্যাঁচের ভাঁজে ভাঁজে আটকে থাকে

আমার স্বপ্ন, ইচ্ছে, তাড়নারা স্বেচ্ছায়।


শিল্পীত প্যাঁচের উর্ধ্বমুখে গুঁজে রাখে ফুল

কেউ দেখে প্যাঁচ বা ফুল, কেউ বা দুটোই।

আমার কি আর ওসব দেখার জো আছে

তখন যে সব দুলতে থাকে তার বেণীতেই!



৩.

পার্থক্যের আগুন

আমার বুকে যে আগুন জ্বলে অহর্নিশ

তাতে তোমার রান্নার কাজ চলে যাবে দিব্বি

ভয় নেই, জ্বলবে না চোখ সাদা-কালো-ধূসর ধোঁয়ায়

লাগবে না কালি হাতে-কাপড়ে-পাত্রে-দেয়ালে

জোস্নার মতো স্নিগ্ধ স্বনিয়ন্ত্রিত এ আগুন

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে অনন্য, বোধেও বেশ

পোড়াবার জিনিসকেই পোড়ায়

তোমার মতো পাথর পোড়ায় না!



৪.

চিত্রকল্পের বিপত্তি 

কী বিপত্তি! হচ্ছেটা কি!

হচ্ছেটা কী এসব আমার

যেন চোখের সামনে ক্ষণেক্ষণে

নেচে যাচ্ছো, গেয়ে যাচ্ছো, হেসে যাচ্ছো 

হাওয়ায় মেলছো হাত, উড়ছে চুল, উড়ছে বসন;

তোমাতেই আবিষ্ট মন আমার তখন

দ্বৈত নাচে, দ্বৈত কন্ঠে হাতে হাত রেখে

চিত্রকল্প আঁকে ছেদপড়া অব্দি!



৫.

অব্যক্ততার অভিমান 

বয়ে যাক সময় এমনি করেই

অস্ফুট কথারা এমনি করেই

পৌনঃপুনিক ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসুক

ইথারে ভেসে বেড়াক উত্তর-দক্ষিণ

তুমিও অবিচল থাকার অভিনয়ে পোক্ত হও

বুঝতে গিয়েও না বোঝার ভানেই থেকো

বয়ে যাক আরো আরো সময়

আমার গোপন কথারা অব্যক্ততায় হারাক।



৬.

মানষিক উদবাস্তু

মাথায় বিষন্ন মাইগ্রেন 

চোখের কোনে লোনা চর 

বুকটা পোকার দখলে 

হাতে কালিঝুলি;

বল্ তো তোকে কোথায় রাখি?

আমার আর সাধ্য কই

তোর কাছে আমার একটু ঠাঁই হবে?



৭. 

মানষিক ব্যবধান

তোমার বাক্সবন্দি জমকালো জীবন

খোঁজে খোলা আকাশ, উন্মুক্ত প্রান্তর।

শার্টের বোতাম না আটকানো খোলা

বুকের মতো আকাশের নীচে কিংবা

জনারন্য অথবা জনহীন মাঠে, ঘাটে

গুন্তিহীন সময় পেড়ুনো জীবন আমার

খোঁজে বাক্সবন্দি মাহেন্দ্রক্ষণ।

দুটোই চাই আমরা, তবু দুজন

মুখোমুখি হলেই তুমি খোঁজ খোলা

প্রান্তর, রোদ মাখা উন্মুক্ত আকাশ

আমি খুঁজি বন্ধ ঘর, যেখানে

আমাদের চোখে ঝিকিমিকি করে তারা।



৮.

হুমকি 

তুমি পাশে নেই বলে 

কবিতায় শব্দের অমোঘ সংকট

হৃদয়ে জাগছে চর

স্বাভাবিক জীবনে কারফিউ

স্বপ্নেরা করেছে ধর্মঘট! 

বলেছে, তুমি না এলে

যমুনা সেতু থেকে সব লাফিয়ে পড়বে!



৯.

নিশ্চয়তা

তুমি বুঝি আমার কালো ঠোঁট'টাই দেখো?

এ নিয়ে তোমার অভিযোগও প্রধান বিরোধী দলের মতো

আর আমি স্বদর্পে বলি,

এই আমার ট্রেডমার্ক এবং 'জি' স্পট।

মাঝে মাঝে তোমার নেহাত ভাবনাও কম মনে হয় না

কেনো, অঙ্গারিত এ হৃদয়খানি কি চোখে পড়ে না তোমার?

ঠোঁটে সিগারেট ছোঁয়াতে না করো

তাতে ঠোঁট গোলাপী পাপড়ির রঙ ধরবে কি না জানি না

তবে তুমি কাছে টেনে নিলে

পাল্টে যেতো অঙ্গারিত এই হৃদয়খানিও।



১০.

বয়েসী প্রেম

আমাদের প্রেমের বয়েস বাড়ছে

আর ততোবেশী প্রেমে পড়ে যাচ্ছি,

জৈষ্ঠ কি মাঘ কিংবা ফালগুন

তুমিহীন গ্রহণকালের মতো ঠেকে!


অনন্য এক সুখের ঠিকানার সংকেত আঁকা

তীরচিহ্ন তোমার দরজা নির্দেশ করে কেবল!

সন্মোহনী দৃষ্টি মুখ থুবড়ে পরে

তুমিহীনময় বন্ধুর পথে বারেবার!


আমাদের প্রেমের বয়েস বাড়ছে

আর ততোবেশী প্রেমে পড়ে যাচ্ছি,

ঠিক যেনো রাস্তা বড় হচ্ছে

আর ততোবেশী বাড়ছে যানযট!



১১.

একদিন 

একদিন তুমি, একদিন আমি

দিনের পর দিন চলতে থাকবে

পাল্টাবে ক্যালেন্ডারের বর্ণময় পাতা

নতুন নতুন দৃশ্যপটের সাথে

পাল্লা দিয়ে নতুন-পুরাতন

অভিযোগেরা ব্যথিত করবে

ঝগড়া চলবে সাথে মান-অভিমান

কখনো আপোষ, কখনো গোঁয়ার্তুমি

বৃত্তাকারে ঘুরবে পরস্পর

তবু আমরা পরম আবেগে

জড়িয়ে ধরবো, গুন্তিহীন চুমু খাবো

আমাদের মুখরা কথারাও কখনো

প্রেমের কবিতার পঙতির মতো হবে

পরস্পরের তুমিতেই আটকে যাওয়া প্রেমে

আমরা পরিভ্রমণ করবো সময়

জল-স্থল-অন্তরীক্ষে বাকী জীবন।



১২.

মনে মনে 

কী এক বিড়ম্বনা!

নিজেকে নিয়ে গবেষণায় দেখেছি

আগাম বলা বিষয়গুলোর ৯৯ ভাগই

মুখ থুবড়ে পড়েছে ব্যর্থতার খাদে!

তোমাকে যে ভালোবেসে ফেলেছি

তা কক্ষনো প্রকাশই করবো না

তুমি বুঝে নিয়ে হাত বাড়াবে না কি?



১৩.

আমন্ত্রণ

বদ্বীপবাসীই তো আমরা, চলো

জাগাচরে স্বপ্নের বসতি গড়ি।

বুঝি না নৌকা কি ধানের শীষ

বুঝি না মুমিন কি কাফের

বুঝি না আদিবাসী কি সেটেলার

বুঝি না ধারা ৫৪ কি ৫৭!

সভ্যতার এমন সংকটে চলো বাঁধি

আদিমের শ্লীল কি অশ্লীল জীবন।



১৪.

তুমিই বারংবার 

ধরো তুমি আর আমি 

না না, ধরো তুমি

না না না, ধরো আমি

একদিন গোধূলি বেলায় হেঁটে যাচ্ছি 

জনহীন সবুজ বর্ডারে সোনালী

মেঠোপথ দিয়ে একাকী 

ঝিঁঝি পোকার দলের কিছু সবে

বিচ্ছিন্নভাবে বাজাতে শুরু করেছে বিউগল

আকাশ সেনাদের কসরতকে ঠুনকো বানিয়ে

তাড়া নিয়ে ফিরছে পাখির দল

বুজে গেছে কতো কতো পাতা

চুপসে যাওয়া আদর্শের মতো

কতো ঝোপের আড়ালে উঁকি দিচ্ছে

চতুরের মতো মিটিমিটি চকচকে চোখ। 

হঠাৎ থমকে দাঁড়ালাম

আবছা অন্ধকারে এ কোন্ জ্যোতি?

ডানপাশে ডুবন্ত সূর্য 

বামপাশে উঁকি দেয়া চাঁদ 

মুখোমুখি অপ্রস্তুত তুমি!


ধুর্! আমার সব কিছুতেই 

কেন যে তুমি'টা এসে পরে!



১৫.

হাঁসফাঁস 

তোমায় নিয়ে ভাবনার বীজ কখন, কিভাবে

প্রোথিত হলো কোন্ মূহুর্তে বুঝিনি

আমাদের সাবলীর মিথোস্ক্রিয়ায়

সে পেল অনুকূল জলহাওয়া

ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হলো

আলোবাতাসে মেললো পত্র, পুষ্প

মন এখন বড্ড উচাটন ভ্রমর হতে ব্যকুল

শেষে কি না কি হয়

কী যে করি, কিভাবে যে বলি!



১৬.

অভিযোগ 

ভাগ্যিস হাওয়ায় উড়িয়েছিলে আঁচল

তাতেই ধরে রক্ষা পেল জীবন

আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে বাজলো সারগাম

চোখে চোখ রাঙ্গলো বেনিআসহকলা'য়

ঠোঁটে ঠোঁট চেনালো অমৃতের স্বাদ

সব জাগালো নতুন চেতন, অথচ এখন

আবেগে আমি একটু খরুচে হলেই

বড্ড হিসেবী হয়ে ওঠো তুমি!



১৭.

ঘুমের আগে ও পরে 

ইদানীং মনে মনে এক স্বপ্নচারা নিয়ে ঘুমাই

তন্দ্রায় তাকে নিবিড় পরিচর্যায় বড় করে তুলি

তারপর নির্দ্বিধায় তাতে এলিয়ে দিই শরীর 

ছায়ার স্নিগ্ধ শীতলতায় প্রশান্তি মেলে, তার 

ফল বুকে নিয়ে ফোটা ফুলের গন্ধে মোহিত হই

বড় বেশি একাকিত্বে তাকে জড়িয়ে প্রাণের 

কথার আওয়াজ খুঁজি, এভাবে বেশ কাটে। 

গ্রীষ্ম কি বর্ষায় ভিজিও না ঘাম কি বৃষ্টিতে

শীতে তার খসে যাওয়া দেহাংশের স্তূপে 

আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতায় মোড়াই শরীর 

তারপর ফল ধরে, পরিপক্বতার সময় কাটিয়ে 

ঝরতে শুরু করে আমার উপর

পুলক আবেগে ঘুম ভেঙে যায়। 

তারপর এবং তারওপর এমন কিছুও হতে পারতো

যেন বৃষ্টির মতো তোমার চুমুতে ভেঙে যাচ্ছে ঘুম!



১৮.

ঘুড়ি

চলো নীল চশমায় পেড়ুই অনেক অনেকটা পথ

থাকুক না হয় মৌলিক অসঙ্গতি প্রচুর তবু

ভুলে যেতে চাই গণিত, হিসাববিজ্ঞান, নীতিশাস্ত্র 

অমিত চাওয়ার যৌথ মননের বিধানে আমরা 

জোছনায় ভিজে পরস্পরের উষ্ণতায় শুকাবো

নিঃশ্বাসের ঘ্রাণে অবলীলায় বাতিল করে দেব

যাবতীয় সুগন্ধির মোহ চিরতরে, পরস্পরের

দেহের ভাঁজের মিলনে তুমুল উৎসব চলবে

নিশ্চিত ব্যর্থ হবো জেনেও জোর করে 

থামিয়ে দিতে চাইবো পৃথিবীর সময়-জ্ঞান 

তবু দুরন্ত ঘোড়ায় চেপে বইবে সময় লাগামহীন 

অনতিপর পরস্পরের সামাজিক নির্বাসন দণ্ডে

ভালোবাসার অধ্যবসায়ে নাটাই ধরবো 

অমিত ঘুড়ির সুতো টেনে-ছেড়ে ফের

হাতে আসবে দ্বৈত স্বত্বার কাঙ্ক্ষিত ঘুড়ি।



১৯.

তোমার স্বরুপ 

তুমি তো এমনই

আকাশ তোমার স্বত্তায়

কখনো নির্মেঘ, নগ্ন কখনো

কখনো সাদা-কালো-ধূসর আরও

কতো কতো মেঘের পোষাকে আবৃত।


তুমি নগ্ন হলে দৃশ্যমান হয় মহাকাশ

হাতছানি দেয় জ্যোতিষ্ক মণ্ডল

অসীমে ছোটে মন অসীম আবেগে!


বর্ণীল পোষাকে তুমিও বহুরুপী

স্থূল হয় অতীত

পাল্টে যায় বর্তমান, ভবিষ্যত

তারও পর...

তুমি এমনই জানি

তাইতো দ্বিধাহীন ভালোবাসি।



২০.

তরঙ্গ 

জানে তো মন

ভর যৌবনে কোন্ সাধনায়

এই বানপ্রস্থ জীবন,

কার্ জন্যে সাজাই সময়

উলুবনে স্বমেহন,

বোঝ না বুঝি তুমি?

কে না জানে...

কেমন ঝুমবৃষ্টি হয় শ্রাবনে!


লেবেলসমূহ:

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]

<< হোম