১.
একজন মি. 'ক'
মি. 'ক' সমাজে বেশ সন্মানিত ব্যক্তি। তিনি তার বউকে খুব ভালোবাসেন আবার রাস্তায় উঠতি মেয়েদের দিকে চোখ টাটান এবং আরো কিছুও। যাইহোক, মি. 'ক' বাসে করে ফিরছেন। খবরটা জানেন তার স্ত্রী 'চ'। 'চ' আরো জানেন যে, এ কথাটি আর কেউ জানে না। তারপরও বিষয়টি 'ক' এর প্রেমিকা 'ত' জানেন এবং 'চ' এর মতো করেই জানেন।
অবশ্য মি. 'ক' এর মনে আজ অন্যকিছু যা 'চ' ও 'ত' কেউই জানে না।
২.
কৃষক মনু মিয়ার ডেবিট-ক্রেডিট-ব্যালেন্স
কৃষক মনু মিয়া টাকা গুনে বন্যা, খরা, পোকার আক্রমণ ও শত্রুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ফসল বিক্রির। খসড়া হিসেব মেলাতে বসে। ধার-দেনা, বীজ-সার-সেচ এর বকেয়া প্রতিপক্ষ হয় আকাঙ্ক্ষার। অমুকে পায় কিছু, তমুকে এত আর সমুকে যে কত! ভেতরে যুদ্ধ চলে তুমুল। মায়ের ভালো চিকিৎসা, স্ত্রীর বহুদিনের সখ, ছেলে-মেয়ের বায়না, নিজেরটা বাকি রেখেও হিসেব তো মেলে না! টাকা হাতে চকচকে চোখদুটোতে ধীরে ধীরে কুয়াশা নামে। বুকের ভেতরের হাহাকার দীর্ঘশ্বাসে হারায় বিজলীর মতো। টাকা ভাগ-ভাগ করে ফিরে চলে আপন ঠিকানায়।
৩.
একটি বিশ টাকার নোট
মিশুক চালক স্বপনের সংসারে স্ত্রী আর দুই ছেলেমেয়ে। মাসে দুই-তিনদিন ছাড়া প্রতিদিনই মিশুক চালাতে হয় পুরো বা অধাবেলা সংসারের একটু স্বাছন্দ আর কিস্তির তাগাদায়। প্রতিদিনের রোজগারের খুচরো টাকায় কোন নতুন নোট পেলে রেখে দেয় আলাদা করে। এটা তার পুরনো অভ্যেস। তার সন্তানেরা সেগুলো নিজস্ব ব্যাংকে জমায়।
সারাদিনের পুরো টাকা গুনতে বসলে স্বপনের মুখে মৃদু আনন্দের রেখা ফুটে উঠে। আজ একটি বিশ টাকার নোটে চোখ আটকে গেল মিলনের। হঠাৎ বুকটার ভেতর খচখচিয়ে উঠলো কিছু, পরক্ষণেই মিলিয়ে গিয়ে কেমন এক শূন্যতার হাহাকারে তোলপাড় করতে লাগলো! দুচোখে অশ্রু উপচে টপটপ করে গড়িয়ে পড়ছে। কিছুক্ষণ মলিন নোটটির দিকে তাকিয়ে থেকে নোটটি কে বুকে চেপে ধরে রাখে কিছুক্ষণ। তারপর নোটটি আলাদা করে বুক পকেটে ভরে, চোখ মুছে রওনা হয় বাসার দিকে।
নোটটি তে প্রায় ৪ বছর আগে গত হওয়া তার বড় মেয়ে লিখেছিল নিজের নাম।
৪.
দুই মিনিট
রাজিব ক্ষমা করতে পারে না নিজেকে। দুইটা মিনিট আগে আসলেই স্ত্রীকে দেখতে পেতেন, বেচারী খুব কষ্টে টিকেছিলো কতোটা সময় তার প্রতীক্ষায়। ক্ষমা করতেই পারছেনা নিজেকে। ট্রাফিক জ্যামের কারণে সিএনজি ছেড়ে উঠেছিলো আরেকটিতে, পরে সেটিও পাল্টে আরেকটিতে। শেষে নেমে হাসপাতালে ঢুকতে গিয়ে দেখেছিলো প্রথমেই ওঠা সেই সিএনজি ড্রাইভার চা-সিগারেট নিয়ে কথা বলছে একজনের সাথে; ততক্ষণে চা, সিগারেট দুটোই অর্ধেক ছিলো!
৫.
ভাতঘুমে স্বপ্ন
ভরদুপুরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। তরুণ মিশুক চালক পলাশ যাত্রীটিকে নামিয়ে সোজা চলে গেল বাসায়। পেটপুরে খেয়ে ওঠে জানালায় দাঁড়ায়। আপাতত বৃষ্টি থামার কোন লক্ষ্মণ নেই। তাই এলার্ম সেট কর একটু ঘুমিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পলাশ ভাতঘুমে স্বপ্নে দেখছে, এমনি এক হুটবৃষ্টির কবলে তার মিশুকে উঠলো এক তরুণী। মিশুকে মেয়েটি একা। চলতে চলতে হুটকরে নামা বৃষ্টি নিয়ে শুরু হলো কথা। তারপর বৃষ্টি থেকে রাজনীতি, রাজনীতি থেকে ব্যক্তিজীবন, ব্যক্তিজীবনের সফলতা-ব্যর্থতা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি আরো কতো কি!
হঠাৎ বিকট শব্দে বেজে ওঠে এলার্ম-ঘড়ি। ঘুম যায় ভেঙে। ততক্ষণে থেমে গেছে বৃষ্টি। দ্রুত তৈরি হয়ে মিশুক নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে পলাশ।
ভালো কথা, স্বপ্নটা ঐ তরুণী কে বিয়ে হয়ে থেমেছিল।
৬.
পাখি
আরিফ ঘুমিয়ে। সবার মত সেও কখনো স্বপ্ন দেখে। আজ দেখছে, তার পাখিটা নেই। ভীষণ যন্ত্রণায় ছটফটানিতে ভিজে যাচ্ছে শরীর। হঠাৎই দেখে, রক্তাক্ত নিথর পাখিটা পড়ে আছে মেঝেতে আর মেঝেতে গড়াচ্ছে রক্ত!
কারো ডাকে প্রচন্ড আতংকে আচমকা ভেঙ্গে যায় ঘুম। প্রতিবেশী স্বজন জানায়, এলাকার নির্যাতিত মেয়েটি স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটেছে।
৭.
প্রেম ও গাবের গল্প
ডানহাত এক প্রেমিকের কাঁধে রেখে বামহাতে ধরে থাকে আরেক প্রেমিক। এমনি স্থিরচিত্র ভাইরাল হয়ে বুঝিয়ে দেয় প্রেমের বাজারে আজও ভেজাল মাখামাখি।
বিগড়ে যায় প্রেমিক মন। মনে মনে বলে, ধুর ছাঁই! করবো না প্রেম, পড়বোও না আর।
এরপরই শেয়ালের গাব খাওয়ার গল্পের অনুরণন।
৮.
স্বপ্নের এপারওপার
গতকাল ছিল সাবেক প্রেমিকার বিবাহবার্ষিকী। আমাদের সেইসব স্মৃতিরা আজ দুইপ্রান্তেই রঙ ফিকে দেয়ালের মত। কেউ আর তা পেড়িয়ে উঁকিও দিই না।
যাইহোক, ভোরবেলা কাঁদতে কাঁদতে ঘুম ভাঙলে দেখি, স্ত্রী চোখেমুখে আগুন নিয়ে তাকিয়ে! তারপরই শুরু হয়ে গেল লাভা উদগীরণ, যেন তাতেই আমার সলীল সমাধি।
কে বোঝাবে স্বপ্নে তারই অসুস্থতা দেখে আমি কি ভয়ানক কষ্টে কাঁদছিলাম!
লেবেলসমূহ: অণুগল্প