অণুকাব্য - ১ম পর্ব
১.
অভিমান আমার আর
ক্ষোভ দেখাস তুই,
মাচাটা বুঝি তোর
আমি বেয়ে ওঠা পুঁই !
২.
গর্তে জমে থাকা জলের বুকে
ঢেউয়ের স্বপ্ন আঁকিস যে তুই,
চাই’ই তো তোকে
বলতো কি করে ছুঁই !
৩.
অগুন্তি আবেগের দিন শেষে
হিসেবের ফল বলে যদি ভুল,
জেনো রক্তাক্ত হয়েছি অনেক
তাই ফোটাতে পারি ফুল।
৪.
তোমাকে বুঝি না, বুঝিই না যেনো!
পূর্বাভাস, হিসেব মেলে না কোনো;
বুঝে গেলে বাড়ে যদি আক্ষেপের হেম
তবে না বোঝাতেই থাকুক না হয় প্রেম।
৫.
হৃদপিণ্ডে তারার ফুলের ব্যাথায়
বর্তমান বয়ে যায়,
ভুল মানুষ আর
ভুল প্রেমের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায়!
৬.
চোখ থেকে সরে না তোর্ ছবি!
থাক্ দূরেই, ভালো নাই বাসিস্।
তুই আমার কাঁথা হবি?
বুকে চেপে থাকা বালিশ?
৭.
ভাবনা বড়ো জট পাকায়
যখন অতীতে চোখ মেলি,
খুঁজিই না আর তোমায়
এখন শব্দ নিয়েই খেলি।
৮.
অভিমানী বৃষ্টি মেখে
ধুয়ে নিই অশ্রুসিক্ত মুখ,
আকাশে যখন বৃষ্টি উধাও
রোদচশমায় আড়াল করি চোখ।
৯.
ইচ্ছে করে
লেপ্টে থাকি সারাদিন,
তোর সাথে
আন্তঃআনবিক ফাঁক বিহীন!
১০.
ভালো কেবল তুই'ই বাসিস্
এই বিলাপে যাচ্ছিস তো মরে,
ঝড়ো বর্ষণে কচুপাতার সাধ্যে
আর কতোটুকু জল ধরে !
১১.
আমার জানালা জানে
গোনা তারার সংখ্যা প্রতীক্ষার প্রহরে।
আমার জানালা জানে
চোখে কতো তারা ঝিকিমিকি করে ঝরে।
১২.
চলে গেলো উড়ে আকাশযানে
মন খোঁজে হয়ে শঙ্খচিল,
আমার আকাশ তারায় ভরা
তার নাকি স্যাটেলাইটে ঝিলমিল।
১৩.
তুমি আমার জারক বোধের
অনুভূতির স্বর,
পথহারা অন্ধকারে তুমি আমার
স্বস্তির বাতিঘর।
১৪.
সবুজের নেশায় বুঁদ পাহাড়
গোলাপি আভায় সিক্ত তুমি,
নীলের কষ্টে সাগর ভার
কালোর ভীষণ ছোঁয়ায় আমি।
১৫.
হঠাৎই আলো জ্বলে ওঠে
খুলে যায় চোখ,
যত্নের টবের গাছে গোলাপ ফোটে
যেন হাসে তার মুখ!
১৬.
দিনের শেষে তুমিও সুখী হও
আলিঙ্গন আর প্রশান্তির আদরে,
প্রিয় কতোটুকুই আর দুঃখ সও
আমিতো ক্ষত ঢেকে থাকি চাদরে।
১৭.
লিখতে চেয়ে আঁকছি তোমায়
আমি এক আনাড়ি চিত্রকর,
থাকো আজ কোন ঠিকানায়
জানিই না গো কোনো খবর!
১৮.
জ্বলজ্বলে তারায় লিখব গান
সেধো তুমি ইচ্ছে মতন সুরে,
নিভে গেলে এই প্রাণ
গেও আমায় মনে করে।
১৯.
যাই ভাবো, যাই করো
যেখানেই থাকো প্রিয় মেম,
মরা জোনাকির আলোর মতো
জেগে আছে, জেগে রবে প্রেম।
২০.
হাতে হাত রেখে আরও কিছুটা পথ
হৃদয়ে হৃদয় মিশিয়ে আরও কিছু সময়
না হয় পেরুতে দিলোই না সামাজিক গদ
তবুতো প্রেম বাঁচে, তবুও মনে রয়।
২১.
আমাকে জড়াও নয়তো
আমিই জড়াই তোমার তনু-মন,
তোমার তো ঠান্ডার বাতিক
উষ্ণতার যে বড্ড প্রয়োজন।
২২.
তোমার কানে দুলছি যেনো আমের মতো
শেষ বৈশাখী হাওয়ায়
সাধের বৃষ্টিও কখনো শত্রু হয়ে দাঁড়ায়
বেশতো তুমি, আমি কালবৈশাখীর ভয়ে ভীত।
২৩.
ধূপধোঁয়া বাতাসে ছড়াই
দহন উন্মুখ দুঃখের স্তূপ থেকে,
তবুও পাও না ঘ্রাণ
কিসে আছো মেতে!
২৪.
নিজ হাতে ঝড়াই সাদা সাদা
অনুভূতিগুলো নিঃসঙ্গ বাসরে,
ক্লান্তদেহ শ্রান্ত হয়
তবু মন পোড়ে হাহাকারে!
২৫.
শ্বেতপ্লাবনে ভিজিয়ে দেবো
তোমার তপ্ত উর্বর জমি,
এই জমিই জন্ম দেবে
আলোকিত আগামী।
২৬.
কতটুকু আর জ্বালা ধরে
শরীরে রোদের আঁচে,
বিরহেই পুড়ে পুড়ে
দিব্যি যে বাঁচে!
২৭.
জীবনে কিছু হাসি কুড়িয়ে নিও
ফেলে নিত্য ব্যথা জাগানিয়া হাবিজাবি,
ভালো না বাসলেও আমায় বাসতে দিও
আর কিছুই না শুধু এটুকুই দাবী।
২৮.
মেঘলা আকাশ ডাকছে তোমায়
তাই ছাড়তে চাইছো রোদ,
ভেসে ভেসে মেঘের ডানায়
একদিন তবু জাগুক বোধ।
২৯.
উচাটন প্রাণ শুধু হাঁসফাঁস করে
তার বেণীর প্যাঁচে আটকেছে মন,
প্রতীক্ষায় জাগে প্রহরে প্রহরে
খোলা চুলে দাঁড়াবে যে কখন!
৩০.
আমার দীর্ঘশ্বাস তোমার
পালে দেবে হাওয়া,
তুমি যাও না হয় উজানে
মাড়িয়ে আমার ছায়া।
৩১.
অভিমানে যদি মরে যাই
সে দায় অবশ্যই তোমারও,
জন্মান্তরেও হয় যদি এমনিই
জেনো, তোমাকেই চাইবো আবারও।
৩২.
হুটহাট প্রেম
হুটহাট মরেছে কত!
জানতে চেয়ো না
ক'জন হয়েছে গত।
৩৩.
অনিশ্চয়তায় বাঁধবো না জীবন
হিসেবহীন স্বাধীন স্বত্তার বিনিময়ে।
আসো যদি প্রিয়, মাঝমাঠে আছি
জেনো স্বপ্ন গোলক নিয়ে।
৩৪.
ভোর ভিজে থাকে শিশিরে
ক্ষুব্ধ হবার সুযোগ কই
কত অযুত-নিযুত সংগত
কারন থাকে সারারাত ভরে।
৩৫.
দেখতি যদি চেয়ে
দু'চোখে প্রেম ভরে,
কেমন পাতা বেয়ে
শিশির ঝরে পড়ে!
৩৬.
প্রতীক্ষায় আমি চণ্ডীদাস
তোর গন্ধ নিয়ে আসে বাতাস,
থাকি অনুভবে বিছিয়ে শীতলপাটি
কখন যে নড়ে পাতকাঠি!
৩৭.
ভাবের টোপে হাওয়ায় ছিপ ফেলে
কাঙ্ক্ষিত শব্দের ভীড়ে
মনে নেই তোর নাম
ছুটি নিত্য অভ্যস্থতার রোল কলে।
৩৮.
দিগন্তের নীল যদি টানছেই তোমায়
নদী হয়ে ছুটে যাও-ও যদি,
মেঘ হয়ে ঝোরো ফের
আমি বৃক্ষ হয়েই আছি ।
৩৯.
কতোদিন বয়ে শুকনো দুঃখ
কেবল খড়ায় পুড়েছে বনভুমি!
ওগো অপরিসীম সুখ
এতোদিন কোথায় ছিলে তুমি?
৪০.
তুই যখন প্রশ্বাস নিস অন্য নিঃশ্বাসে
আমি তখন
পোড়াই শরীর আবালের মতো
আর কালি জমে ফুসফুসে।
৪১.
মেঘগুলোকে ক্যনভাস কোরে
এঁকে যাই কষ্টের আল্পনা,
ওরা উড়ে যাবে দিক থেকে দিগন্তে
একবারো কি তোমার চোখে পড়বে না!
৪২.
আগেও ছিলেম প্রেমেতেই
তবুও বলছে আগামী
প্রেম বলতেই
তুমি!
৪৩.
শুকনো বকুলেরা গন্ধ বিলায়
এখানে মরা ঘাসের নরম স্তূপ,
নিত্য অখন্ড তেমনি হৃদয়
তোর অভাব বোধকরি খুব।
৪৪.
নিপুণ সৃজনে সদ্য যৌবন
না জানি কার্ লাগি, কোন্ সে জন!
৪৫.
খুঁজে পাও না বুঝি আমায়
তোমার মনের গহীন বনে?
হৃদয়ে সুড়সুড়ি দিলাম কখন
আর হাসলে এতোক্ষনে!
৪৬.
পোড়াবি বুঝি শবের মত
করে ধুমধাম, উড়িয়ে শোকের আবহ!
৪৭.
যাযাবরের আবার ঠিকনা কী!
যখন যেখানে তুমি
সেখানেই আমার পূণ্যভূমি।
নীল রঙে তুমি পাও নাকি সুখ
সে আমারও প্রিয় খুব।
নীল রঙ নাকি বেদনা
তবে বেশীদিন টেকে না।
৪৯.
চোখে অতশী কাঁচ
বাহ্!
তবু দেখিস না হৃদয়ে
ফুঁটিয়েছি কেমন রক্তজবা।
৫০.
চোখ থেকে প্রেম পরী'টা যাচ্ছে না
ঘুম পরীও আসছে না!
৫১.
জানি, তোমার অনেক রোমিও
জুলিয়েট, একদিন আমিও।
৫২.
ভালো বেসেফেলছি বড্ডবেশি ক্রমান্বয়েই
দোহাই,
মাথা খাও
এবার ঘৃণা বাড়াও।
৫৩.
আমি বামন হয়ে ছুটে
চাঁদ না, সূর্যকে চাচ্ছি ছুঁতে!
অতঃপর নিয়তি একটাই
হয় অগ্নিশুদ্ধ, না হয় ছাই।
৫৪.
মেয়েটি ছেলেটাকে ভীষণ ভালবাসতো মনেপ্রাণে,
ছেলেটি তখন অন্য প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে ড্রিপ্রেশনে।
৫৫.
ঝিনুক কুড়ালে মুক্তার লোভে
না পেয়ে জ্বললে ক্ষোভে!
৫৬.
বৈশাখ আহবান করে আনি
যাবার আগে কালবৈশাখী জানি।
৫৭.
দুই পাড়ে চুলোচুলি
নদী কার কতটুক্!
মাঝখানে জাগে চর
জানায়, তার সবটুক্।
৫৮.
কেউ ঘর ছেড়ে বাইড়ে যায়
কেউবা বাইড়ে থেকে ঘর,
নিজের ভেতর ডুব দিয়ে থাকি
খুঁজি না আপন-পর।
৫৯.
(মশার আক্ষেপ)
এক ফোঁটা রক্ত শুষে নিই বলে
এক থাপ্পড়ে আমাদের জীবনটা করো শেষ,
যারা আজীবন শুষছে তোমাদের
তারা আছে বেশ!
৬০.
কী আজব ব্যবস্থাপনায় আমাদের বাস, হায়!
আমার সৎচরিত্র স্বীকৃতি পায়
দুঃচরিত্র জনপ্রতিনিধির কলমের খোঁচায়।
৬১.
আন্ধারে সখিনার শরীরে শরীর মিশাইয়া
কত্তো রকম খেলা খেলি,
বেইন্না বেলা তারে দেখলেই আবার
নডী বইলা দেই গালি!
৬২.
নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়
ভিটে-মাটি অভাগার,
ঐ পাড়ে চর জাগে
মালিকানা পায় জোতদার!
গৃহহীন শীতার্ত মানুষের আক্ষেপ
নাড়া দেয় নিরুত্তাপ স্বত্বায়,
ওম নিয়ে ওলের সোয়েটারে
আমার তো কুটকুট কামড়ায়।
৬৪.
খুইয়েছি অমূল্য অনেক
তাই ভয় অনেক বড়,
তারচেয়েও বড়ভয়
'আমি কি করি' যদি জিজ্ঞেস করো।
৬৫.
পুকুরের মাছ লাফিয়ে ওঠে
একলা হওয়ার আশে,
জলে স্বজাতের ঘনত্ব বেজায়
বানানো পরিবেশে।
৬৬.
দুই পাড় ব্যাবধান
মাঝখানে ভাঙা সাঁকো,
ধরি ধরি করে প্রাণ
তবু ছোঁয়া হয় নাকো।
৬৭.
তোর জন্য একটি হৃদয়
এই পৃথিবীর মাঝে,
সপে তার ধ্যান-জ্ঞান
তোর বুকেই যেন বাঁচে।
৬৮.
বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা
পুলিশ ছুঁলে ছত্রিশ,
তুই ছুঁলে অন্তহীন
সাথে শুনতে হয় নালিশ।
৬৯.
জামার ভেতর হৃদপিণ্ডটা
ধুকপুকিয়ে মরে,
তোর জন্য উথাল-পাতাল
মনটা কেমন করে।
৭০.
স্বপ্নেরা আপনার প্রতীক্ষায়
কখন যে ওচোখে বসবে!
অকারণে রাত বয়ে যায়
মাননীয়া, ঘুমান তবে।
লেবেলসমূহ: অণুকাব্য

